প্রকাশকের কথা

ফন্ট সাইজ:

জনাব অলি আহাদ প্রণীত ‘‘জাতীয় রাজনীতি’’ ১৯৪৫ থেকে ’৭৫ কোন ইতিহাস গ্রন্থ বা ঐতিহাসিক দলিল নয়। লেখক নিজেও তা দাবী করেননি। তবুও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সমকালীন রাজনৈতিক গ্রন্থাবলীর ক্ষেত্রে এটাই বোধ হয় সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য নির্ভর প্রয়াস। 

নিজস্ব রাজিৈনতক আদর্শ ও বিশ্বাস কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে সমকালীন ইতিহাস রচনার প্রবণতা সাম্প্রতিককালে অনেকের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়। বিকৃতির সীমাহীন প্রতিযোগিতায় সত্য হারিয়ে যাচ্ছে। এখন সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য নিরূপন করা খুবই কষ্টকর। এমনি একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দু’টি বিপরীতধর্মী তথ্যের মোকাবেলায় যারা অন্ততঃ অলি আহাদ সাহেবকে ব্যক্তিগতভাবে জানেন, তারা তাঁর পরিবেশিত তথ্যটি বিশ্বাস করবেন বলেই আমাদের ধারানা। 
 
জনাব অলি আহাদ প্রণীত ‘‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ’৭৫’’ সমকালীন ঘটনার উপর রচিত একটি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। 
 
আমরা জানি জনাব অলি আহাদের স্মৃতিতে বিগত ৪০ বছরের (১৯৭৫) রাজনৈতিক ঘটনার বহু তথ্য সঞ্চিত আছে। বয়সের ভারে নুব্জ স্মৃতিবিভ্রাট হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবুও জনাব অলি আহাদের ন্যায় সত্যনিষ্ঠদের কলম একটু সচল হলে আজ যারা বড় গলায় তথ্য বিকৃতির অসৎ পেশায় সোচ্চার তারা নির্বাক না হলেও তাদের নিঃশঙ্কচিত্তে মিথ্যা রচনার গতিধারা কিছুটা স্তিমিত হবে। আমাদের ইতিহাস বিকৃতির অভিশাপ হতে কিছুটা নিষ্কৃতি পাবে। বিশেষ করে একজন প্রবীন রাজনীতিবিদদের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা পুস্তকটি সাধারণ পাটক সমাজের নিকটও বিশেষভাবে সমাদৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। 
 
রাজনৈতিক অঙ্গনের মহীরূহ, ভাষা আন্দোলনের সিপাহসালার জনাব অলি আহাদ দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এই নির্মোহ ও নির্লোভ রাজনীতিবিদ পদ পদবী ও বৈষয়িক প্রাপ্তির জন্য কখনো কক্ষ্য ও লক্ষ্যচ্যুত হয়ে নিজ আদর্শ, বিশ্বাস এবং নীতি বিসর্জন দেননি। শত বাধা বিপত্তি সত্বেও তাঁর নীতি, আদর্শ ও বিশ্বাসে রয়েছেন অটল। অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো যখন যেমন তখন তেমন হতে পারেননি বলেই তাঁর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এমনকি তাঁর রাজনৈতিক সততার খেসারত নিজ আত্মীয়-পরিজনকেও দিতে হয়েছে। 
 
আমাদের দেশে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, ‘‘ঝড়-বানে বৃষ্টি, দোষে গুণে সৃষ্টি।’’ 
 
এই প্রবাদটির নির্গলিতার্থ হলোঃ কেউই দোষ-ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। মানুষ মাত্রেরই ভুল-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। আমাদের বর্তমান ও অতীতের অনেক স্বনামধন্য জাতীয় নেতাদেরও ভুল-ত্রুটি ছিলো। আমাদের জাতীয় জীবনে এই ভুল ত্রুটি সংশোধনের প্রয়াসে আগামী দিনে পথ চলার সুগম করতে তিনি বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতি এবং গ্রন্থে যেমন নেতাদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেছেন, ঠিক তেমনি তাঁদের প্রশংসনীয় কাজকেও সমান গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। 
 
ইতিহাসে যাঁর যা পাওনা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সততা ও সাহসের সাথে দিতে তিনি কোন কার্পন্য করেননি বা হীনমন্যতায় ভোগেননি। এঁদের মধ্যে কায়েদ-ই-আযম থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক নেতাই রয়েছেন। কায়েদ-ই-আযমের সমালোচনা যেমন করেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর যথার্থ অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে সম্মান জানিয়েছেন। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু’র যেমন তীব্র সমালোচনা করেছেন, ঠিক তেমনি ‘মুজিব ভাই’ বলে সম্বোধন করে তাঁর গুণকীর্তন ও প্রশংসীয় অবদানকে যথার্থ ভাবে জাতির কাছে তুলে ধরতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। এ জন্যে অনেকের কাছেই তিনি বিরাগভাজন, অপ্রিয়।   
 
সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে নেই। ইতিহাস হলো একটি জাতির দর্পন। ইতিহাস অসচেতন জাতি কোন দিন প্রকৃত দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত হতে পারে না। আজকের বর্তমান দুর্বিষহ বিষাক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ হলো ইতিহাস বিকৃতির নির্যাস। 
 
রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং লেখকদের পড়ার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের মধ্যে অনেকের মাঝেই এই সংস্কৃতি বিতাড়িত। এছাড়া অধিকাংশ রাজনীতিবিদ - এর লেখালেখির অভ্যাস নেই। ফলে রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের প্রকৃত পশ্চাদপট এবং তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। খবরের কাগজে প্রচার মাধ্যমে যেটুকু পাওয়া যায় তাও মূল ঘটনার পার্শ্বচিত্র মাত্র। এর অন্তরালে চাপা পড়ে থাকে বিচিত্র তাৎপর্যপূর্ণ অনেক প্রেক্ষাপট।  
 
এই পেক্ষাপট বা অব্যক্ত কথাগুলো বাদ দিয়ে কোন ঘটনারই অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। অথচ ইতিহাসবেত্তাগণকে এ কাজটি করতে হচ্ছে। এসব ইতিহাসবেত্তাগণ নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস রচনার কারণে আমাদের জাতীয় তথা রাজনৈতিক ইতিহাস অসম্পূর্ণ অথবা বিকৃত হয়ে আছে। 
 
অধিকাংশ জাতীয় ঘটনার প্রকৃত তথ্য থেকে জাতি অজ্ঞাত। এর ফলে যে যার মতো করে ঘটনা সাজিয়ে জাতিকে করে বিভ্রান্ত। সৃষ্টি হয় একে অপরের প্রতি সন্দেহ-অবিশ্বাস। এই সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে সৃষ্টি হয় মতানৈক্য, সংঘাত-সংঘর্ষ এবং অশান্তি। যা আমরা সমকালীন রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ করছি। 
 
আনন্দের কথা এই যে, যে কয়জন রাজনীতিবিদ ব্যতিক্রমধর্মী ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ রচনায় হাত দিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ জনাব অলি আহাদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সুক্ষদৃষ্টি এবং বিশ্লেষণধর্মী উদার মন নিয়ে তিনি বিভিন্ন ঘটনাবলী তথ্য ও তত্ত্বের সমাহার ও দুর্লভ ছবি সংযোজনের মাধ্যমে চিত্রিত বা গ্রথিত করেছেন তাঁর লেখনীতে। 
 
‘‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ’৭৫’’ এই গ্রন্থে ত্রিশ বছরের ঘটনাপঞ্জী স্থান পেয়েছে। বস্তুতঃপক্ষে এই সময়টুকা আমাদের জাতীয় জীবনের অনেক উত্থান-পতন, সংগ্রাম-আন্দোলন, বিপর্যয়-উত্তরণের ইতিহাস। 
 
জনাব অলি আহাদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি থাকলেও ১৯৪৫ সালে সমগ্র  দেশব্যাপী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং ১৯৪৮ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ১৯৫০ সালে বি. কম. পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেও আর এগুতে পারেন নি। রাজনৈতিক কারনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। 
 
এরপর থেকে গোটা জীবনটাই কেটে গেছে সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে। বিস্ময়কর হলেও একথা সত্য যে, দীর্ঘ ৫৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন ক্ষমতা বা ক্ষমতার মোহ তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। এ কারণেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অনন্য সৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। 
 
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া যদি রাজনৈতিক জীবনের উদ্দেশ্য বা সাফল্যের মাপকাঠি হয়, তাহরে জনাব অলি আহাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি ব্যর্থ চরিত্র। 
 
দীর্ঘ পাঁচ দশকের কর্ম-চাঞ্চল্য পরিপূর্ণ বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্রপূর্ণ তাঁর রাজনৈতিক জীবন। অত্যন্ত সমৃদ্ধ তার অভিজ্ঞতা। রাজনৈতিক অঙ্গনের হাজারো ঘটনা ঘটে গেছে তাঁর চোখের সামনে  দিয়ে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে। 
 
গ্রন্থকার নিজের রাজনৈতিক জীবনের পরিপক্ক অভিজ্ঞতার আলোকে অতীত ও বর্তমান কালের রাজনৈতিক জীবনধারা ঘটনাবলী স্পষ্ট ও পুষ্টভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন ‘‘জাতীয় রাজনীতি’’ পুস্তকে। 
বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ এর বহু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতা তো আছেই। তবুও জাতীয় প্রয়োজনে কো-অপারেটিব বুক সোসাইটি এ ধরনের একটি পুস্তক প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এই মূল্যবান বইটি প্রথম প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৯৮২ সালে। এরপর পাঠকদের বিপুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করে। পাঠকদের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হওয়া সত্ত্বেও অনিবার্য কারণবশতঃ তৃতীয় সংস্করণ আমরা প্রকাশ করতে পারিনি। তা প্রকাশ করে খোশরোজ কিতাব মহল লিমিটেড। 
 
সম্প্রতি দুর্ঘটনাজনিত কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জনাব অলি আহাদ বিগত ২৩ সেপ্টেম্বর হতে ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজীবন আপোষহীন সংগ্রামী এই বর্ষীয়ান জননেতার স্বাস্থ্যের অবনতিতে দেশবাসীর সাথে আমরাও উদ্বিগ্ন ছিলাম। 
 
জননেতা অলি আহাদ শুধু রাজনীতিবিদই নন, বেগম জিয়ার ভাষায় তিনি দেশ ও জাতির বিবেক, অভিভাবক। তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকেই পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে সরকারকে সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিদেশে পাঠানোর দাবী জানিয়েছেন বিশেষ করে প্রবীন রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি বদরুদ্দীন উমর, ভাষা সৈনিক এডভোকেট গাজীউল হক, এম, আর, আখতার মুকুল, সাবেক সচিব, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি বাহাউদ্দিন চৌধুরী নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। 
 
‘‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মহান ভাষা আন্দোলনের সিপাহশালার, স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, ৭ দলের প্রধান, আপোষহীন প্রবীন সক্রিয় রাজনীতিবিদ জননেতা অলি আহাদ দুর্ঘটনা জনিত কারণে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে বিগত ২৩শে সেপ্টেম্বর’০৩ হতে ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর’০৩ তাঁহার দেহে অস্ত্রোপাচার করা সত্ত্বেও তার স্বাস্থ্যের তেমন উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আজীবন সংগ্রামী জাতির বিবেক, নির্লোভ এই বর্ষীয়ান জননেতার  স্বাস্থ্যের অপরিবর্তীতে আমরা গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত। 
 
জননেতা অলি আহাদ শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি দেশ ও জাতির সম্পদ। তাঁহার সুচিকিৎসার জন্য সরকারী উদ্যোগে তড়িৎ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিদেশ পাঠানোর জন্য আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি। 
 
আমরা আরও লক্ষ্য করছি যে, প্রবীন জননেতা অলি আহাদের দেহে অস্ত্রোপাচার হওয়া দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ তাঁকে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নাই। এহেন মন-মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গী রাজনৈতিক পরিবেশ বিকাশের পরিপন্থী। 
 
ভাষা আন্দোলনের সিপাহসালার এবং প্রবীন রাজনীতিবিদ নিজকে নিঃস্ব করে দেশ ও জাতির খেদমত করেছেন। জাতির রাজনৈতিক সংকটময় মূহুর্তে সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সংকট উত্তরণের জন্য প্রয়াস চালিয়ছেন। জাতি তার কাছে ঋণী। কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধে আমরা কিছুই করতে পারিনি। এমনকি তাঁর এই জীবন সায়াহ্নে নূন্যতম চিকিৎসার সুযোগটিও আমরা তাঁকে দিতে পারিনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যা হোক আল্লাহপাক তাঁকে সুস্থ শরীরে আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন এ জন্যে আল্লাহ পাকের দরবারে জানাই হাজারে শোকরিয়া। 
 
বিলম্বে হলেও বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ সময়ের দাবী মেটাতে এবং এই সময়ের জনগণের কাছে যথেষ্ট উপযোগী হবে মনে করে উক্ত গ্রন্থটির ৫ম সংস্করণের আঞ্জাম দিয়ে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছে। সঠিক ইতিহাস রচনা এবং শ্রদ্ধেয় পাঠক মহলকে আমাদের জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে আংশিকভাবে সচেতন করে তুলতে পারলেও আমাদের শ্রম ও আয়োজন সফল বলে মনে করবো। 
 
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। 
(এস. এম. রইসউদ্দিন) 
পরিচালক (প্রকাশনা) 
বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ