পাকিস্তান ও ভারতের জন্ম

ফন্ট সাইজ:
      যথাক্রমে ১৪ই ও ১৫ই আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রদ্বয়ের জন্ম হইল। ভারবাসর স্বাধীনতা সংগ্রামের ফসল ভারত হইল বিভক্ত; পাঞ্জাব বিভক্ত হইল; বঙ্গদেশ বিভক্ত হইল; আসাম বিভক্ত হইল। লক্ষ লোকের কাফেলা বাস্তভিটা ত্যাগ করিয়া ভিন দেশ পানে যাত্রা করিল। যাত্রাপথে কেউ প্রাণ হারাইল, কেউ স্বদেশেই পলকের মধ্যে বিদেশী হইল ও রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যায় ভূষিত হইল, কেউ মুহূর্তের মধ্যে কাঙ্গাল ভিক্ষুকেও পরিণত হইল, কেউ গৃহহারা ও বাস্তহারা হইল। সমৃদ্ধশালী অতীত যেন অট্টহাসি হাসিতে লাগিল। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীই ইহার নিদারুন মর্মব্যথা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারে, অন্য কেউ নয়। স্বচক্ষে দেখিয়াছি, ব্যথায় জর্জরিত হইয়াছি, কিন্তু প্রতিকার করার ক্ষমতা ছিল না; বিষাক্ত পারিপার্শ্বিকতা অসহায় করিয়া রাখিয়াছিল; মনুষ্যত্ববোধ, বিবেক, শিক্ষাদীক্ষা বিফল ছিল। নারকীয় আচার বাহবা কুড়াইত, পশুত্ব প্রদর্শনই ছিল বীরত্ব।
 
স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভাঃ
      ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট নিম্ন লিখিত নেতৃবৃন্দদের নিয়া পাকিস্তানের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভা গঠিত হয়-
১)  নওয়াব জাদা লিয়াকত আলী খান- প্রধানমন্ত্রী ও দেশরক্ষা মন্ত্রী
২) স্যার জাফরুল্লাহ খান (আহম্মদীয়া সম্প্রদায়) -পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৩) গোলাম মোহাম্মদ (আমলা) - অর্থমন্ত্রী
৪) সরদার আবদুর রব নিশতার (সীমান্ত প্রদেশ)- যোগাযোগ মন্ত্রী
৫) শ্রী যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল তফসিলী সম্প্রদায়, পূর্ব পাকিস্তান
৬) ফজলুর রহমান (পূঃপাক) শিক্ষা ও শিল্প।
৭) পীরজাদা আবদুস সাত্তার (সিন্দু প্রদেশ) খাদ্য।
৮) খাজা শাহাবুদ্দিন (পূর্ব পাকিস্তান) তথ্য।
 
পাকিস্তানোত্তর রাজনৈতিক সূচনা
      ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব নয়, ১৯৪৬ সালের দিল্লী প্রস্তাব মোতাবেক ভারত খণ্ডিত হইয়া একটি পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম হইল। ২৭শে জুন (১৯৪৭) বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটি ঢাকাকে পূর্ববঙ্গের রাজধানী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ৫ই আগষ্ট (১৯৪৭) পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী পার্টি বৈঠকে খাজা নাজিমুদ্দিন ৭৫-৩৯ ভোটে হোসেন শহদী সোহরাওয়ার্দীকে পরাজিত করিয়া পার্লামেন্টারী পার্টির নেতা নির্বাচিত হইলেন।
     আমি ঢাকা গভর্ণমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হইতে ১৯৪৭ সালের ইন্টারমিডিয়েট বিজ্ঞান (Intermediate Science) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বি.কম.ক্লাশে সুলিমুল্লাহ্ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসাবে ভর্তি হইলাম। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও অবিভক্ত বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশিম ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় আমরা (শহীদ হাশিম গ্র“প কর্মীবৃন্দ) পূর্ব পাকিস্তান রাজনীতিতে নেতৃত্বহীন হইয়া পড়িলাম। 
 
বিভাগোত্তর সাম্প্রদায়িক কলহ
      দেশ বিভাগোত্তরকালে সাম্প্রদায়িক কলহ ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর চরম আঘাত হানিল। পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিম পাঞ্জাব হইতে হিন্দু জনতা এবং পশ্চিম বঙ্গ ও পূর্ব পাঞ্জাব হইতে মুসলিম জনতা স্ব স্ব বাস্তভিটা ত্যাগ করিয়া ভিনদেশে আশ্রয় গ্রহণ করিল। মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে ব্রতী হইলেন এবং মহানগরী কলিকাতাকে কেন্দ্র করিয়া পাক-ভারত উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শান্তিস্থাপন মিশনে আত্মনিয়োগ করিলেন। জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও মহাত্মাজীর সহচর হিসাবে যোগদান করিলেন। বিভাগোত্তর কালে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মহাত্মাজীর প্রচেষ্টাকে উগ্র সাম্প্রদায়িক ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ অত্যন্ত বিষ নজরে দেখিত। অবশেষে সেবক সংঘেরই অন্যতম সদস্য নাথুরাম গডসের পিস্তলের গুলিতে ৩০শে জানুয়ারী ১৯৪৮ মহাত্মাজী দিল্লীর প্রার্থনা সভায় প্রাণ হারাইলেন। সাম্প্রদায়িক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহাত্মাজীর নৈতিক দায়িত্ববোধ কর্মদ্যোগ মানবকূলে স্মরণীয় হইয়া থাকিবে। গান্ধীজীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পর কায়েদে আজমের উক্তি `A great Hindu Leader’ বা “এক মহান হিন্দু নেতা” কার্যতঃ সত্য হইলেও অনেককেই মর্মাহত করিয়াছিল। কলিকাতা ও পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত মুসলিম নিধনযজ্ঞ বন্ধ করার দাবীতে মহাত্মা গান্ধীর অনশন ব্রত পালনের ফলেই দাঙ্গা প্রশমিত হয় এবং উল্লেখ্য যে, গান্ধীজী ৪ঠা সেপ্টেম্বর জনাব সোহরাওয়ার্দীর হস্তে কমলালেবুর রস গ্রহণ করিয়া অনশন ভঙ্গ করেন। গান্ধীজী তাঁহার সহজাত শুভবুদ্ধিতে উপলব্ধি করিয়াছিলেন যে, পাক-ভারত সরকারদ্বয়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হইলেই হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাই ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নির্দেশক্রমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক পাকিস্তানকে দেয় ৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করিতে অস্বীকৃতি জানাইলে মহাত্মা গান্ধী পাকিস্তানকে দেয় টাকা পরিশোধের দাবীতে ও দিল্লীতে মুসলিম নিধনযজ্ঞের প্রতিবাদে পুনঃঅনশন ধর্মঘট ঘোষণা করেন। ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা নির্মমভাবে গান্ধীজীর প্রাণ সংহার করিয়া এই মহান প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য প্রতিশোধ গ্রহণ করেন।
 
সোহরাওয়ার্দীর কলিকাতা অবস্থানঃ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রাণপণ প্রচেষ্টা
      কায়েদে আজম কর্তৃক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি পদে নিয়োগ প্রদান সত্বেও জনাব সোহরাওয়ার্দীর বিভাগোত্তর ভারতে অবস্থানকারী চার কোটি মুসলমানের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হইয়া ভারত বিভাগের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য নেতাদের ন্যায় পাকিস্তান অভিমুখে রওয়ানা হন নাই। তিনি প্রাণভয় তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া উভয় রাষ্ট্রের হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক স্বাভাবিক ও মানবিকরণ প্রয়াসে “সংখ্যালঘু সনদ” তৈয়ারী করিয়া দিল্লী ও করাচী সরকারদ্বয়ের নিকট ধর্না দিয়াছেন, পশ্চিমবঙ্গ গভর্ণর ডঃ কৈলাশ নাথ কাটজু ও মুখ্য মন্ত্রী ডঃ প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষকে পূর্ব বঙ্গ শুভেচ্ছা সফরে উদ্বুদ্ধ করিয়াছেন, কলিকাতা শান্তি সেনা গঠন করিয়াছেন, স্বয়ং ৩রা জুন ১৯৪৮ শান্তি মিশনে ঢাকা আগমন করিয়াছেন-যদিও খাজা নাজিমুদ্দিন সরকার শহীদ মিশন নিয়া ঢাকা আসিবার অর্থ বহির্বিশ্বে পাকিস্তানের উপর কলঙ্ক আরোপ ইত্যাদি অপব্যাখ্যা ও অপবাদ দিয়া পূর্ব বঙ্গ হইতে বহিঃস্কার করিয়া দিয়াছিলেন। আমরা যত উৎসাহের সহিত শহীদ সাহেবকে বরণ করিয়াছিলাম, তাহার লক্ষগুণ মলিন বদনে তাঁহাকে ঢাকা ত্যাগ কালে বিদায় দিয়াছিলাম। 
      বিভাগোত্তর যুগে ভারতীয় মুসলমানদের মনে সাহস ও বলদানের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী সাহেব কলিকাতায় থিয়েটার রোডস্থ স্বীয় বাসভবনে ৯ই ও ১০ই নভেম্বর (১৯৪৭) ভারতীয় মুসলিম কনভেনশন অনুষ্ঠান করিলেন এবং তথা হইতে সংখ্যালঘুদের দেশপ্রেমে সন্দেহ প্রকাশ না করিতে ও  “সংখ্যালঘু সনদ” গ্রহণ করিতে পাক-ভারত সরকারদ্বয়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাইলেন।
 
পাকিস্তান ও পূর্ববঙ্গ নেতৃত্বের প্রতি প্রগতিশীল কর্মীদের বীতশ্রদ্ধা
      জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও জনাব আবুল হাশিমের নেতৃত্বে আমরা যাহারা মুসলিম লীগ বা মুসলিম ছাত্রলীগ সংগঠনের কর্মী ছিলাম, তাহারা ভারত ও বঙ্গ বিভাগের পর পাকিস্তান ও পূর্ববঙ্গ নেতৃত্বের উপর নিম্নোক্ত কারণে বীতশ্রদ্ধ ছিলামঃ
     প্রথমতঃ ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চে গৃহীত “লাহোর প্রস্তাব” কে সংশোধন করিয়া ১৯৪৬ সালের ৯ই এপ্রিল লেজিসলেটারস্ কনভেনশনে অন্যায় ও অবৈধভাবে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে দুইটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র ঘটনের স্থলে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনমর্মে ‘দিল্লী প্রস্তাব’ ভারতীয় মুসলিম জনতার উপর চাপাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। 
     দ্বিতীয়তঃ জনাব সোহরাওয়ার্দী কলিকাতা ও দার্জিলিং শহরদ্বয়কে বার্লিনের ন্যায় মুক্ত শহরে পরিণত করিবার পরিকল্পনা করিয়াছিলেন। পরিতাপের বিষয়, শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মত প্রখ্যাত ও বিখ্যাত আইনজীবিদিগকে নিয়োগ না করিয়া কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ নেতৃত্ব বিহারের এক অবাঙ্গালী অখ্যাত আইনজীবী জনাব ওয়াসিমকে ‘বাউণ্ডারী কমিশনের’ সামনে ওকালতির জন্য নিযুক্ত করিল। বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ওয়ার্কি কমিটি ২৭শে জুনের সভায় এক প্রস্তাবে ঢাকাকে পূর্ববঙ্গের অস্থায়ী রাজধানী করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আকরম-নাজিম চক্রের ভয় ছিল শেরে বাংলা সোহরাওয়ার্দীর যুগপৎ ক্ষরধার সওয়াল-জওয়াবে যদি সাফল্য অর্জিত হয়, তাহা হইলে মুসলিম বাংলার হৃদয়ে তাঁহারা স্থায়ী আসন পাইয়া যাইবেন এবং পাকিস্তান রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দী প্রতিষ্ঠা লাভ করিবেন। তাই লিয়াকত-নাজিম চক্র নবগঠিত রাষ্ট্রের স্বার্থ হানিকর কার্য সজ্ঞানে করিতে এতটুকু বিবেশ দংশনবোধ করে নাই। ক্ষমতার কুটিল অভিযানে সবই হয়!
      তৃতীয়তঃ দায়-সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করিবার জন্য বেঙ্গল পার্টিশান কাউন্সিলে মুসলিম লীগ প্রতিনিধিদ্বয় ছিলেন বাবু নলিনী রঞ্জন সরকার ও বাবু ধীরেন মুখোপধ্যায়। গভর্ণর আর, জি, কেসী ছিলেন চেয়ারম্যান। কেন্দ্রীয় পার্টিশান কাউন্সিলে মুসলিম লীগ প্রতিনিধি ছিলেন নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান ও চৌধুুরী মোহাম্মদ আলী এবং কংগ্রেস প্রতিনিধিদ্বয় ছিলেন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ও আই, এম, প্যাটেল। গভর্ণর জেনারেল মাউন্ট ব্যাটেন স্বয়ং চেয়ারম্যান ছিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব দালান-কোঠা, ইমারত, স্থাবর সম্পত্তি ইত্যাদি মার্কেট ভেল্যুতে মুল্যায়ন দাবী করিলে কংগ্রেস প্রতিনিধি বুক ভেল্যু মুল্যায়ন প্রস্তাব করেন। বেঙ্গল পার্টিশান কাউন্সিল একমত হইতে না পারায় কেন্দ্রীয় পার্টিশান কাউন্সিলে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠান হইল। পার্টিশান কাউন্সিল নীতিগতভাবে সম্পত্তির মূল্যায়ন করিল বুক ভেল্যু অনুসারে। এইরূপে বিনা ক্ষতিপূরণে কলিকাতা ছাড়িয়া দেওয়া হইল। অবশ্য পশ্চিম পাকিস্তান পাইল লাহোর, করাচী, পেশোয়ার ও কোয়েটা শহরসমূহ এক প্রকার বিনা অর্থব্যয়ে। এভাবে শুরুতেই পূর্ববঙ্গ বঞ্চিত হইতে লাগিল।
 
পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুব লীগের জন্ম
      পূর্বেই বলিয়াছি, জনাব সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের ভারত অবস্থান হেতু তাঁহাদের অনুসারী ও সমর্থকবৃন্দ পূর্ববঙ্গে সবিশেষ হতাশ ও হতোদ্যম হইয়া পড়েন। স্মরণীয় যে, মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি পদ হইতে ইস্তফা দিলে, উক্ত শূন্য আসন নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের তদানিন্তন সাধারণ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম এবং আকরম-নাজিম চক্রের সমর্থনপষ্ট শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকালে বঙ্গীয় প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রত্যক্ষভাবে জনাব আবুল হাশিমকে সমর্থন জানান নাই এবং ১৯৪৭ সালের ৫ই আগষ্ট পূর্ববঙ্গ মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী নেতা নির্বাচনে খাজা নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জনাব সোহরাওয়ার্দীকে আবুল হাশিম সক্রিয় সমর্থন না দেওয়াতে কার্যতঃ সোহরাওয়ার্দী-হাশিম জোট সমর্থকবৃন্দ দ্বিধা-বিভক্ত হইয়া গেলেন। এমতাবস্থায় কর্মীদের স্তিমিত সাহস ও উদ্যম পুনর্জাগরণ প্রয়াসে তরুণ নেতা শামসুল হক সাহেব ১৫০ নং মোগলটুলীতে (ঢাকা) কর্মীসভা আহ্বান করিয়া বিভাগোত্তর রাজনীতিতে ভূমিকা নির্ধারণকল্পে যুব সম্মেলন আহ্বানের প্রস্তাব করিলেন। জনাব কফিলুদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও জনাব শামসুল হককে সম্পাদক নিয়োগ করিয়া একটি শক্তিশালী অভ্যর্থনা কমিটি গঠিত হইল। ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির ভাইস চেয়ারম্যান খান সাহেব আবুল হাসনাতের বেচারাম দেউড়ীস্থ বাসভবনের হল কামরায় ৬ই ও ৭ই সেপ্টেম্বর (১৯৪৭) মহাউৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হইল। জনাব তসাদ্দক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুব লীগ (Pakistan Democratic youth League) গঠিত হয়। সদ্য আজাদী প্রাপ্ত পাকিস্তানের মাটিতে উজীরে আলা নাজিমুদ্দিন ও আকরম খাঁ পরিচালিত ধর্মান্ধ রক্ষণশীল মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের সম্মেলন বিরোধী ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করিয়া ও মুসলিম লীগের জনসমর্থিত দোর্দগুপ্রতাপকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি প্রদর্শন পূর্বক সম্মেলনের জন্য তাঁহার বাসভবনকে ব্যবহার করিতে দিয়া এবং সম্মেলনের উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিতে গিয়া জনাব আবুল হাসনাত যে সাহসিকতা, সহৃদয়তা ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়াছিলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাহা আমৃত্যু কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করিবেন। ট্রাকে ট্রাকে মুসলিম লীগ বাহিনীর সম্মেলন বিরোধী অসৌজন্যমূলক শ্লোগানসহ ঢাকা নগর প্রদক্ষিণ ও সম্মেলন সম্পর্কে ঢাকাবাসীর বিরূপ মনোভাব ভুলিবার নহে। আমরা সেদিন ঢাকাবাসীদের দৃষ্টিতে ভারত কর্তৃক নিয়োজিত পাকিস্তান বিধ্বংসী ভারতীয় চর বিশেষ ছিলাম। তবে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণ এই চেনা মুখগুলিকেই মাঠে ময়দানে ও পুরোভাগে দেখিয়াছে, তাই কিছুুটা সংশয়ও তাহাদের মনের কোণে ছিল বৈকি।
 
গণ আজাদী লীগ
      লাহোর প্রস্তাবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া এক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ৩রা জুন (১৯৪৭) প্ল্যান ঘোষনা অনুযায়ী ভারত বিভাগকালে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ কর্তৃক অবাঙ্গালী নেতৃত্বে ব্ন্ডাারী কমিশন গঠন ও পার্টিশান কাউন্সিলে পূর্ববঙ্গকে হৃদয়হীনভাবে বঞ্চিত করিবার তিক্ত অভিজ্ঞতাকে স্মরণে রাখিয়া পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুকালের মধ্যে আমি ও সর্বজনাব কমরুদ্দিন আহমদ, তাজুদ্দিনআহমদ, নইমুদ্দিন আহমদ ও মোঃ তোয়াহা ধারাবাহিক আলোচনার প্রেক্ষিতে জনাব কমরুদ্দিন আহমদকে আহবায়ক নিযুক্ত করিয়া ‘গণ আজাদী লীগ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করি। লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কল্পনায় আমরা পূর্ব পাকিস্তানকে একটি ভিন্ন রাষ্ট্রজ্ঞান করিয়া পূর্ব পাকস্তান ভিত্তিক ঘোষণা পত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করিয়াছিলাম। যতটা ছিল সংকল্প, তাহার চাইতে বহুগুণ বেশি ছিল বাঙ্গালী বিদ্বেষী কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রোশ ও রাগের অভিব্যক্তি। দুঃখের বিষয়, গণ আজাদী লীগ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রোশ ও রাগের অভিব্যক্তি। দুঃখের বিষয়, গণ আজাদী লীগ গণ-সংগঠনে পরিণত হইতে পারে নাই। ইহার কারণ, প্রথমতঃ আহব্বায়ক কমরুদ্দিন আহমদের কর্ম-বিমুখ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, কারাগারে ভীতি ও ত্যাগী মনোভাবের অভাব, দ্বিতীয়তঃ সমগ্র দেশে উৎকট সাম্প্রদায়ক বিষাক্ত আবহাওয়া, তৃতীয়তঃ তাদানীন্তন মুসলিম লীগ সরকারের কঠোর দমননীতি।
 
নাজিমুদ্দিনের এক চোখা নীতিঃ মওলানা ভাসানীর আগমন
     খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদের সোহরাওয়ার্দী সমর্থক কাহাকেও তাঁহার মন্দ্রী সভায় গ্রহণ করেন নাই। এমনকি অবিভক্ত বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী কেবিনেটের সদস্যগণ সর্বজনাব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী (বগুড়া), আহমদ হোসেন (রংপুর), আবদুল গোফরান (নোয়াখালী) পূর্ববঙ্গ সরকারের মন্ত্রীসভায় স্থান পান নাই। ডাঃ আবদুল মালেক, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের ডেপুটি স্পীকার তফাজ্জল আলী, আবদুুস সবুর খান ও জনাবা আনোয়ারা খাতুন প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি অবস্থাদৃষ্টে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন। এমনি জটিল হতাশা ব্যাঞ্জক পরিস্থিতিতে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এদেশে আসিলেন এবং সরকার বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করার ভার স্বহস্বে গ্রহণ করিলেন। 
     উল্লেখ্য যে, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ইস্ট হাউজের দক্ষিণদিকের মাঠে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বপ্রথম ভাষণদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হলের আবাসিক ছাত্র আবদুর রহমান চৌধুরী । মওলানার তেজোদৃপ্ত ভাষণের মধ্য দিয়া এই সভায়ই সরকার বিরোধী ছাত্র শক্ত ও জননেতার মধ্যে যোগসূত্রের সূচনা হয়। আমরা বৃদ্ধ নেতার মধ্যে আগামী দিনের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আভাস পাই, যাহা আমরা ইতিপূর্বে পাঞ্জাবের মিঞা ইফতেখার উদ্দিন কিংবা সিন্ধুর পীরজাদা আবদুস সাত্তরের বক্তৃতায় পাই নাই। 
 
আজাদী উত্তর ছাত্র অসন্তোষ
      প্রশাসনিক অব্যবস্থার দরুণ ঢাকায় পর্বত প্রমাণ ছাত্র সমস্যা দেখা দেয়। নাজিমুদ্দিন সরকার সমর্থক শাহ আজিজুুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত নিখিল বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগ স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির প্রয়াসে ব্যতিব্যস্ত থাকার দরুন ছাত্র অসন্তোষ ধুমায়িত হইতে থাকে। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে বর্তমান স্থান হএত ঢাকা মেডিকেল কলেজকে স্থানান্তরিত করিবার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ঢাকা মিটফোর্ড স্কুল ছাত্রদের মেডিকেল কনডেন্সড এম,বি,বি,এস, কোর্স ও আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ছাত্রদের কনডেন্সড ডিগ্রীকোর্স প্রবর্তন করিবার দাবীতে ঢাকা শহরের ছাত্র সমাজ বিক্ষোভে ফাটিয়া পড়ে। সমগ্র শহরে পূর্ণ ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়, সভা হয় মিছিল হয় এবং মিছিল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এ (ইডেন বিল্ডিং) গমন করে। ইডেন বিল্ডিং-এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া মিছিল জমায়েতে আমি দীর্ঘ সময় বক্তৃতা করি এবং আমাদের দাবী মানার জন্য নাজিমুদ্দিন সরকারের নিকট আবেদন জানাই। সেক্রেটারিয়েটের কর্মচারীবৃন্দ স্বীয় কাজ ফেলিয়া, সর্বপ্রকার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিয়া আমাদের সভায় যোগ দেয়। যাহা হউক, অবস্থা বেগতিক দেখিয়া প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন স্বয়ং দ্বিতল ব্যালকনিতে আসিয়া আমাদের দাবী মানার সরকারী সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন। আমরা হৃষ্টচিত্তে স্থান ত্যাগ করি। ছাত্র আন্দোলনের প্রারম্ভিক বিজয় আমার মনে নূতন সাহস ও উদ্যমের সঞ্চার করিল। শাহ আজিজুর রহমান পরিচালিত নিখিল বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগ ছাত্র-সাধারণ হইতে বিচ্ছিন্ন হইতে লাগিল এবং সোহরাওয়ার্দী-হাশিম জোট সমর্থক ছাত্র কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পাইতে শুরু করিল। অতঃপর আমরা প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে লাগিলাম। ছাত্র নেতা জনাব নুরুদ্দিন আহমদ কলিকাতা হইতে ঢাকা না আসিলেও তদীয় গ্রুপের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যথা আবদুর রহমান চৌধুরী ও শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইলেন। জনাব আবদুল মতিন খান চৌধুরী (বর্তমান হাইকোর্ট জজ) পূর্ব হইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রনেতা ছিলেন। তাঁহাদেরই সহায়তায় ছাত্র সমাজে ক্রমশঃ আমাদের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। স্মরণীয় যে, ৩১শে আসস্ট, (১৯৪৭) জনাব আজিজ আহমদের সভাপতিত্বে ফজলুল হক হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রসভাকে সন্ত্রস্ত সরকার সমর্থক ছাত্ররা গুণ্ডামীর আশ্রয় গ্রহণ করিয়া বানচাল করিয়া দেয়।
 
সরকার বিরোধী মনোভাবের সূচনা
     বাঙ্গালী উঠতি মধ্যবিত্ত, সরকারী নিম্ন বেতন ভুক কর্মচারী সম্প্রদায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিল। কলিকাতা হইতে ঢাকা সেক্রেটারীয়েটে ও অন্যান্য অফিসে কাজে যোগদানের পর সরকারী কর্মচারীগণ নানা সমস্যায় যথা-বাসস্থান ইত্যাদিতে জর্জরিত হইয়া পড়িল। বিভাগীয় শহর ঢাকা সদ্য আজাদীপ্রাপ্ত দেশের পূর্বাঞ্চলের রাজধানীতে পরিণত হওয়ায় বাসস্থান সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারকে অতিদ্রুত পলাশী ব্যারাক, নীলক্ষেত ব্যারাক নির্মাণ করিতে হয়। স্বাভাবিক বোধগম্য কারণেই পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য দৈনন্দিন জীবন যাপনের নিত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ অহরহ বিঘ্নিত হইতে থাকে। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসেই নীলক্ষেত ব্যারাকবাসী নিম্ন বেতন ভুক কর্মচারীগণ পানির অভাবে অতিষ্ঠ হইয়া ভোর বেলা লোটা-বদনাসহ প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবনে পানির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলসহ উপস্থিত হয়। এইভাবেই সরকার বিরোধী মনোভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে খন্ড ভাবে দানা বাধিতে থাকে। 
 
নাজিমুদ্দিনের স্থবিরতা ও উর্দুভাষীদের দৌরাত্ম্য
      প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন স্থবির ও অত্যন্ত পশ্চাদমুখী চিন্তাধারার নেতা ছিলেন। পূর্ববঙ্গের মত স্পর্শকাতর এলাকার শাসনভার চালাইবার মত মানসিক গড়ন তাঁহার ছিল না। তিনি নিজে উর্দুভাষী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় তাঁহার কোন দখল ছিল না। তাহার পরিবার কাশ্মীর হইতে ঢাকায় আসেন। সুতরাং পূর্ববঙ্গের জলবায়ু ও মাটির সন্তানদের সহিত তাঁহার নাড়ীর সম্পর্ক ছিল না। ভাষায়, সংস্কৃতিতে, চলাফেরায় তিনি মুলতঃ আপনজন ছিলেন না। ভাগ্যান্বেষণে তাঁহার পূর্বপুরুষগণ পূর্ববঙ্গে আসিয়াছিলেন এবং ইংরেজের অনুগ্রহে এদেশে সামন্ত প্রভুশ্রেণীভুক্ত হইয়াছিলেন। সুতরাং শোষণই ছিল তাঁহাদের মূল পেশা, পূর্ববঙ্গবাসীর সহিত আত্মিক সম্বন্ধ তাঁহাদেরই হয় নাই। তাই তাঁহার আমলে, সূচনাতেই উচ্চপদস্থ উর্দুভাষী সরকারী কর্মচারীগণ প্রভুসুলভ আচরণ শুরু করেন। তাহাদের মুখের ভাষাকে বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অধিবাসীদের উপর চাপাইয়া দেওয়ার প্রয়াসে রেডিও প্রোগ্রামে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা শব্দের পরিবর্তে উর্দু শব্দ যথা-রাষ্ট্র প্রধানের স্থলে সদরে রিয়াসাত, স্থিরীকৃত স্থলে মোকরার, প্রধানমন্ত্রীর স্থলে উজীরে আজম, মুখ্যমন্ত্রীর স্থলে উজীরে আলা, মন্ত্রীর স্থলে উজির, প্রতিনিধির স্থলে নোমায়েন্দা, সংবাদের স্থলে এলান, ছবর স্থলে তসবির ইত্যাদি যথেচ্ছ ব্যবহার করতে শুরু করে। এমনকি মনিঅর্ডার ফরম, টেলিগ্রাম ফরম, ডাক টিকিট ও মুদ্রায় উর্দু ভাষা ব্যবহৃত হইতে থাকে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বহু পূূর্বেই ১৯৪৭ সালের ১৮ই মে মজলিসে-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের উদ্যোগে হায়দারাবাদে অনুষ্ঠিত উর্দু সম্মেলনে যুক্ত প্রদেশ মুসলিম লীগ নেতারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হইবে বলিয়া ঘোষনা করিয়াছিলেন। উপরোক্ত বক্তৃতাংশে উর্দুভাষী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের প্রকৃত মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় এবং আজাদী-উত্তর পাকিস্তানের প্রশাসনে উর্দুভাষী সরকারী চাকুরেদের মধ্যে ইহার বাস্তবরূপ তাহাদের কার্যকলাপে প্রতিফলিত হয়।