কুচক্রীদের নূতন পায়তারা

ফন্ট সাইজ:
     সম্মুখ রণে বাংলা ভাষা আন্দোলন বানচাল করিতে ব্যর্থ হইয়া প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভিন্ন পথ গ্রহণ করিল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বঙ্গ সন্তান ফজলুর রহমান করাচীতে ১৯৪৮ সালের ২৭শে ডিসেম্বরঅনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনে আরবী হরফ প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন। শুধু তাই নয় ১৯৪৯ সাালের ৭ই ফেব্রুয়ারী পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের এক সভায় এই কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রী আরবী হরফ প্রবর্তনের প্রয়োজনীয় তা ব্যাখ্যাও করিলেন।
     ১৯৪৯ সালের ১৪, ১৫ এবং ১৬ই ডিসেম্বরঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অধিবেশনে পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড কর্তৃক আরবী হরফ প্রবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনার খবরে বিচলিত ও শঙ্কিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সমাজ প্রতিবাদের জন্য কর্মচঞ্চল হইয়া উঠিল। তদুদ্দেশ্যে ৭ইডিসেম্বর(১৯৪৯) রাত্রে এম, এ ওয়াদুদ ও মোঃ তাহা ৪৩/১, যোগীনগরে আমার সহিত সাক্ষাৎ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করিবার পর আমি তখন ১৯৫০ সালে অনুষ্ঠিতব্য বি.কম. পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিলাম।
     যাহা হউক, নেতৃদ্বয়ের অনুরোধে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ও অর্থানুকুল্যে আরবী হরফে প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রাথমিক শিক্ষাদানের কয়েকটি নিস্ফল প্রচেষ্টা নেওয়া হইয়াছিল। এই কার্যে দেওবন্দের মওলানা হোসেন আহমদ মাদানীর চেলা মওলানা আতাহার আলী প্রমুখ আরবী শিক্ষিত ধর্মান্ধ অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু সাধারণ দেশবাসীর সহজাত শুভবুদ্ধি তাহাদের ভ্রান্ত প্রচেষ্টাকে যথাসময়ে ব্যর্থ করিয়া দেয়।
     উল্লেখ্য যে, ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত জ্ঞানতাপস বিশ্ববিখ্যাত ভাষাবিদও আরবীকে রাষ্ট্র ভাষা করিবার দাবী করিয়াছিলেন। তবে, পাকিস্তানের কোন অংশে সমর্থন না থাকায় আরবীকে রাষ্ট্র ভাষা করিবার দাবীও অঙ্কুরেই বিনষ্ট হইয়া যায়।