ছাত্রলীগকে অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত করার চেষ্টা

ফন্ট সাইজ:
     ইতিমধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ সমর্থিত সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী জনাব আবদুর রহমান চৌধুরী ও তাহার কেবিনেট বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যার বিরুদ্ধে সংগ্রামী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ছাত্রদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনে পরিণত হয়। সলিমুল্লাহ হলের ১২নং কামরায় ১৯৪৯ সালের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত অর্গানাইজিং কমিটির সভায় আমি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগকে অসাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন করিবার ও জাতি ধর্ম-নির্বিশেষে সকল ছাত্রকেই ইহার সদস্য হওয়ার অধিকার প্রদানের দাবীতে প্রস্তাব পেশ করি। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান, আবদুর রহমান চৌধুরী ও নঈমুদ্দিন আহমদের তীব্র বিরোধিতার মুখে আমার প্রস্তাব বাতিল হইয়া যায়। ঐ বৈঠকেই আমার পদত্যাগপত্র দাখিল করিলে, শেখ মুজিবুর রহমান আমার সেই ইস্তফাপত্র ছিড়িয়া ফেলেন। তাহার গভীর ভালবাসা, দূর্বলতা ও দরদকে অস্বীকার করিবার মত মানসিক শক্তি আমার ছিল না। আমার পদত্যাগের সংবাদ প্রচারিত হইয়া পড়িলে পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার এবং বাহাউদ্দিন চৌধুরী আমাকে কমিউনিষ্ট ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দিতে বলিলে প্রত্যুত্তরে তাহাদিগকে বলিয়াছিলাম যে, ছাত্রলীগ সংগঠন হইতে পদত্যাগ করিলেও আমি ছাত্রলীগের সহযোগী হিসাবেই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করিব।
পাকিস্তান ‘স্টুডেন্টস র‌্যালির’ আহবায়ক জনাব গোলাম কিবরিয়ার সহিত আলোচনায় আমি অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী চরিত্রের জন্য ‘স্টুডেন্টস র‌্যালীর’ প্রতি দুর্বলতা প্রদর্শন করিলেও তাহাকে বলিলাম যে, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের পরীক্ষিত সহকর্মী বন্ধুদিগের সহিত আমি সহযোগী হিসাবেই ছাত্র আন্দোলনে থাকিব।