বিশ্ববিদ্যালয় নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের ধর্মঘট

ফন্ট সাইজ:
      বিশ্ববিদ্যালয় নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের ধর্মঘট সমর্থনে আমরা ৩রা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহানুভূতিসূচক ছাত্র ধর্মঘট করি। ১৯৪৮ সালের ৩০শে জুন গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মপরিষদের আহবায়ক জনাব আবদুর রহমান চৌধুরী আমার অনুরোধে ৫ই মার্চ কর্মচারীদের ধর্মঘটের সমর্তনে পুনরায় ছাত্র ধর্মঘট ও সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। যথারীতি ছাত্র ধর্মঘটের পর আবদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্র সভায় ধর্মঘটী নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের দাবী না মানা পর্যন্ত অবিরাম ছাত্র ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাশেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল সহকারে আমরা ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের বাসভবনে গমন করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নানা হুমকি উপেক্ষা করিয়া ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত রাখিলাম সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনার জন্য কর্মপরিষদের আহবায়ক আবদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্র সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সভা চলাকালে ধর্মঘটী নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের দাবীগুলি সহানুভূতি সহকারে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করিতে আমরা সভা হইতে মিছিল করিয়া দ্বিতীয়বার ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়ি যাই। এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যদের মৌখিক আশ্বাসে আশান্বিত হইয়া রাত নয়টার দিকে স্থান ত্যাগ করি। পর দিন অর্থাত ১৯৪৯ সালের ১০ই মার্চ জনাব আবদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জনাব দবিরুল ইসলাম ও জনাব আবদুল হামিদ চৌধুরীর যক্তিপূর্ণ বক্তৃতার পর ধর্মঘটী নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীবৃন্দ কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ ছাত্রগণ অবিরাম ধর্মঘট খুব প্রীতির চোখে দেখিতেছিল না। ইহাই আমাদিগকে ভাবাইয়া তুলিয়াছি। অতএব ধর্মঘট প্রত্যাহার সময়োচিত ও বাস্তবসম্মত ছিল।
       পরিতাপের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সদিচ্ছাকে ভুল বুঝিলেন এবং বেলা ১ টার মধ্যে কর্মে যোগদানের কথা চিল এই মিথ্যা অভিযোগ ও অজুহাতে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে ধর্মঘটী কর্মচারীদের যোগদানপত্র তাহারা প্রত্যাখান করিলেন। শুধু তাই নয়, ১১ই মার্চ হইতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হইল। 
     কর্তৃপক্ষের অযোক্তিক নির্দেশের বিরুদ্ধে ১২ই মার্চ সকাল বেলা মিছিল সহকারে আমরা ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে গমন করি, কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ না পাওয়ার দরুন মিছিল শহরের বিভিন্ন এলাকা যেমন চকবাজার, মিটফোর্ড, ইসলামপুর, সদরঘাট, নওয়াবপুর প্রদক্ষিণ করিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে জমায়েত হয় ও যথারীতি প্রস্তাব গ্রহণের পর সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রাবাসগুলির ডাইনিং হল বন্ধ করিয়া দেওয়ায় আমরা কতিপয় ছাত্র ব্যতীত অন্যান্য আবাসিক ছাত্ররা হল ত্যাগ করে।