কারাগার তখন এবং এখন

ফন্ট সাইজ:
     নুরুল আমিন সরকারের কারাগার মন্ত্রী জনাব মফিজুদ্দিন আহমদ কারাগার পরিদর্শনকালে আমাদের ৫নং ওয়ার্ডে দেখা করিতে গেলে শেখ মুজিবুর রহমান বন্দীদের পক্ষে খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কিত অসুবিধার প্রতিকারের অনুরোধ করেন। মন্ত্রীমহোদয় মুজিব ভাই-এর অনুরোধ মোতাবেক রাজবন্দীদের প্রথম শ্রেণীর কয়েদীর মর্যাদা দান ছাড়াও রাজবন্দীদিগকে অন্যান্য সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধা দানের নিদের্শ দেন। অতীব দুঃখের সহিত লিখিতে হয়, ১৯৭৪-৭৫ সালে মুজিব আমলে রাজবন্দী হিসাবে আমি প্রায়শঃ অর্ধাহারে কাজল কাঁটাইয়াছি। কি শীত কি গ্রীষ্ম সবসময়ই বস্ত্র, তৈল, সাবান, তোয়ালে পাদুকা, খরবরের কাগজ ও অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য এমন কি রোগে ঔষধ হইতেও বঞ্চিত হইয়াছি। মুজিব সরকার নিজস্ব বাড়ী হইতে রন্ধন করা খাদ্য দুরে থাকুক এমন কি কাচা ডিম পর্যন্ত কারাগারে সরবরাহ বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। ১৯৪৮ সাল হইতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বৎসরের পর বৎসর কারাজীবন কাটাইয়াছি। এমন অমানুষিক দুঃসহ দৈহিক ও মানসিক কষ্ট আর কখনও পাই নাই। ক্ষমতা একজনকে কত অমানুষ করিতে পারে, শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসে ইহারই একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। জেনারেল আইউবের শাসন আমলে চার বৎসরের বেশী কারাজীবন কাটাইয়াছি। শেখ সাহেবের তুলনায় আইউব ফেরেশতা ছিলেন।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালে সরকার পূর্ববঙ্গ বিশেষ ক্ষমতা অর্ডিন্যা›স জারি করিয়া বিনাবিচারে আটকের ব্যবস্থা করিলেও নিরাপত্তা বন্দীদের জন্য কোন বিধি প্রণয়ন করা হয় নাই। ইংরেজ আমলে ১৯৪০ সালে নিরাপত্তা বন্দীবিধি (সিকিউরিটি প্রিজোনারস রুল) মোতাবেক রাজবন্দীদের কতিপয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হইত এবং মুসলিম লীগ সরকারের নির্দেশে কারাগারে রাজবন্দীদিগকে বিচারাধীন বন্দীদের পর্যায়ে ফেলা হয়, বেশীর ভাগ রাজবন্দীদের তৃতীয় শ্রেণীর বিচারাধীন আসামী হিসাবে গণ্য করা হয়, ফলে অখাদ্য-কুখাদ্য খাইয়া জীবনধারণ একপ্রকার অসম্ভব হইয়া উঠে। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মুসলিম লীগের পদাংক অনুসরণ করিয়া রাজবন্দীদের কারাগারে আসামীর মর্যাদা দানের সরকারী নির্দেশ দেন । অত্যাচারীদের চেহারা অভিন্ন।