রাজশাহী জেলের হত্যাকান্ড

ফন্ট সাইজ:
উপরোক্ত ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে ১৯৫০ সালের ২৪শে এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হৃদয়-বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়া গেল। ঐদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট মিঃ বিল কারাগার পরিদর্শনকালে কারান্তরালে ‘খাপড়া’ নামক ওয়ার্ডে গমন করিলে ওয়ার্ড প্রতিনিধি জনাব আবদুল হক বিভিন্ন সমস্যা আলোচনা কালে তর্কবিতর্কের সময় ভারসাম্য হারাইয়া ফেলেন। বন্দীগন মিঃ বিল ও ২ জন ডেপুটি জেলারকে বলপূর্বক খাপড়া ওয়ার্ডের ভিতরে লইয়া যায়। মিঃ বিল কোন প্রকারে দৈহিক শক্তির দ্বারা ওয়ার্ডের বাহিরে চলিয়া আসেন। ইতিমধ্যে জেলার মান্নান পাগলা ঘন্টি দেওয়ার জন্য সংকেত বাশি বাজান। পাগলা ঘন্টি বাজিলে, সশস্ত্র কারাগার রক্ষীবাহিনী খাপড়া ওয়ার্ড পানে ধাবিত হয় ও অবাধ গুলী চালায়। গুলীতে ওয়ার্ডের অভ্যন্তরেই খুলনার ছাত্র-কর্মী আনোয়ার হোসেন, শ্রমিক নেতা হানিফ শেখ, মোঃ দেলওয়ার , সুধীন  ধর ও সুখেন ভট্টাচার্য প্রাণ হারান। দিনাজপুর জেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত আহত দিনাজপুর কৃষক নেতা কম্পরাম সিং ও বিজন সেন মৃত্যুবরণ করেন। অন্যান্যের মধ্যে জনাব আবদুল হক (যশোহর), আমিনুল হক বাদশা (পাবনা), মনসুর হাবিব (বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ), অমূল্য লাহিড়ী (পাবনা), আবদুস শহীদ, বাবর আলী, নূরুন নবী চৌধুরী, ভুজেন পালিত এবং ওয়ার্ডে ২ জন ডেপুটি জেলারের মধ্যে একজন গুলীবিদ্ধ হইয়া আহত হন। ১৯৬১ ও ১৯৬২ সালে আমি রাজশাহী কারাগারে বন্ধী থাকাকালে উপরে বর্ণিত খাপড়া ওয়ার্ডটি আগ্রহভরে দেখি এবং পূর্ন কাহিনীটি অবগত হই। 
কারাগারই হইতেছে সর্বদেশের সর্বকালের জালেম সরকারের একটি সুপ্রতিষ্ঠত দুর্গ। দুর্গান্তরালে নিরস্ত্র বন্দীদের পক্ষে কোনপ্রকার বিদ্রোহাত্মক ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আত্মঘাতী। জনগণ হইতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কারান্তারালে ন্যূনতম সংগ্রামও সম্ভব নয়। ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টি ১৯৫১ সালে সন্ত্রাসবাদী উম্মাদ পরিকল্পনা পরিহার করিবার পরই কারান্তরালে কমিউনিষ্ট রাজবন্দীগণ মানসিক ভারসাম্য পুনঃলাভ করিয়া প্রকৃতিস্থ হইয়াছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গ্রেফতার হইয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকাকালে কারান্তরালে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের এই হঠকারী পদক্ষেপগুলি অবগত হইবার সুযোগ নাই।