রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলন যোগদান

ফন্ট সাইজ:
     যাহা হউক, এই সম্মেলনকে সফল করিয়া তুলিবার জন্য শওকত আলীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল অতুলনীয়। মুসলিম লীগ সরকারের ভয়-ভীতি, ত্রাস ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করিয়া সম্মেলনে সহযোগিতা করিতে অনেক সহৃদয় ঢাকাবাসী সক্রিয়ভাবে অগ্রসর হইতে সাহস পান নাই। এমনকি সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য কোন পাবলিক ‘হল’ পর্যন্ত ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় নাই। জনাব কে, এম, বশীর তাঁহার কে, এম, দাস লেনস্থ বাসভবন রোজ গার্ডেনের ‘হল’ কামারায় সম্মেলন অনুষ্ঠানের অনুমতি দানের সৎসাহস প্রদর্শন করেন। তিনি সরকারী ভ্রুকুটি উপেক্ষা করিয়া আগাইয়া না আসিলে সরকারী লীগ পান্ডাদের হামলায় সম্মেলন হয়ত বা তছনছ হইয়া যাইত। তদানীন্তন বিরাজমান স্বৈরাচারী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পরিবেশের স্মৃতি যতই মানসপটে ভাসিয়া উঠে ততই তখনকার মত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য জনাব বশীরকে কৃতজ্ঞাতর সহিত স্মরণ করি।
      ২৩শে জুন (১৯৪৯) যথারীতি ‘রোজগার্ডেন’ হল কামরায় সম্মেলন শুরু হয়। প্রায় ২৫০ হইতে ৩০০ জন ডেলিগেট ইহাতে যোগ দেন। অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান মওলানা আবদুল হামিদ খান (ভাসানী) এর লিখিত ভাষণ পাঠের পর সম্মেলনের মূল সভাপতি জনাব আতাউর রহমান খান সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। সম্মেলনে শেরে বাংলা এ, কে ফজলুল হকও যোগ দেন এবং কয়েক মিনিট বক্তৃতা দিয়া সম্মেলনক্ষ ত্যাগ করেন। হয়ত তাঁহার ভয় ছিল, পাছে না সরকারী আনুকুল্য হইতে বঞ্চিত হইয়া পড়েন অর্থাৎ উজীরে আলা নুরুল আমিন সরকারের এডভোকেট জেনারেলের পদ হারাইতে হয়।