মাওলানা ভাসানী, শামসুল হক এবং শেখ মুজিবের গ্রেফতার

ফন্ট সাইজ:

      প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান (ভাসানী) ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসুল হকের সুযোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের দোষত্রুটি জনসমক্ষে তুলিয়া ধরিবার কার্যে আত্মনিয়োগ করিল। খাদ্যাভাব দেখা দিলে, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের চড়া দামের প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের এক বিরাট জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান সফরে ঢাকা আসিয়াছিলেন এবং ঢাকা গভর্ণমেন্ট হাউসে অবস্থান করিতেছিলেন। লিয়াকত আলী খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবার নিমিত্ত মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে সভা হইতে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল গভর্ণমেন্ট হাউস অভিমূখে রওয়ানা হয়। মাগরিবের নামাজের সময় মিছিলটি ঢাকা (ফুলবাড়িয়া) রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী নাজিরাবাজার রেলওয়ে ক্রসিং-এর নিকটবর্তী হইলে পুলিশ বাহিনী বাধা দান করে এবং কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে। ঘটনাস্থলেই মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জনাব শামসুল হক ও আরো অনেকেই গ্রেফতার হইয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আবদ্ধ হন। পুলিশের লাঠিচার্জে জনাব ওয়াদুদ ও জগন্নাথ কলেজের ছাত্র মফিজুল্লাহ গুরুতরভাবে আহত হইয়া হাসপাতালে নীত হন। শেখ মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল হইতে পুলিশের চোখে ধূলা দিয়া কাটিয়া পড়িলেন এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় আত্মগোপন করিলেন। আত্মগোপনাবস্থায় সর্বজনাব আবদুল হামিদ চৌধূরী, মোল্লা জালালউদ্দিন ও আমার সহিত মোল্লা সাহেবের খাজে দেওয়ানস্থ আস্তানায় তাঁহার রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর জনাব সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশ গ্রহণের জন্য শেখ মুজিবর রহমান লাহোর পৌঁছান। এবং তথায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে সামগ্রিক অবস্থা বয়ান করেন। উল্লেখ্য যে, লাহোর প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৫০ সালের ১লা জানুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান আত্মগোপনাবস্থায় পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হন। তাঁহাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দী হিসাবে আটক রাখা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারে আতঙ্কিত হইয়া আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সহ-সম্পাদক এ,কে,এম, রফিকুল হোসেন সংবাদপত্রের  (দৈনিক আজাদে) বিবৃতি দিয়া আওয়ামী লীগ হইতে পদত্যাগ করেন। নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের প্রতিবাদে অগ্রণী হইয়া আসা দূরে থাকুক বরং আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি আতাউর রহমান খান অধ্যয়নরত সন্তানদের দেখার অজুহাতে ঢাকা ত্যাগ করিয়া ভারতীয় আসাম প্রদেশের রাজধানী শিলং চলিয়া যান।