সাম্প্রদায়িক কলহ

ফন্ট সাইজ:
      ভারত বিভাগ হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক মনোভাব তিরোহিত করিতে ব্যর্থ হয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির অব্যবহিত পরই উভয় পাঞ্জাবে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর পূর্ব পাঞ্জাব হইতে মুসলমান জনতা ও পশ্চিম পাঞ্জাব হইতে হিন্দু জনতা স্ব-স্ব ভিটা-বাড়ী, জোতজমি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও মান-ইজ্জত হারাইয়া যথাক্রমে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানে হিজরত করে। তদ্রুপ পূর্ববঙ্গ হইতে লক্ষ লক্ষ হিন্দু অধিবাসীও সর্বস্ব ত্যাগ করিয়া পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে এবং বাস্তহারা পরিচয়ে পরিচিত হয়। তেমনি বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য হইতে হাজার হাজার মুসলমান স্বীয় বাস্তভিটা ত্যাগ করিয়া পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। পাকিস্তানের হিজরতকারীরা মোহাজের নামে পরিচিত হয়। 
      ১৯৫০ সালে কলিকাতায় ভারতীয় ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তৃতার পর পরই কলিকাতাসহ পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী হারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ আরম্ভ হয়। ইহারই প্রতিক্রিয়ায় ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঢাকা ও অন্যান্য জায়গায় নারকীয় কান্ড-কারখানা শুরু হইয়া যায়। স্বচক্ষে দেখিয়াছি, হিন্দু-দরদী সাজিয়া হিন্দুদের সোনা-গহনা, হিরা-জহরত, খাট-পালংক, ড্রেসিং টেবিল ও অন্যান্য মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি কিভাবে আত্মসাৎ করা হইয়াছে; কিভাবে স্থাবর সম্পত্তি জলের দরে বা ফাঁকির জালে এক শ্রেণীর মানুষের করায়ত্ত হইয়াছে। এই শ্রেনীর মাুনষের অনেকেই আবার ‘প্রগতিশীল’। পক্ষান্তরে উভয় দেশের রাজনৈতিক দল, নেতা ও কর্মীরা এই নির্মম হত্যাকান্ড ও প্রতারণার জন্য দায়ী।