শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঢাকা আগমনঃ ১৪৪ ধারা জারি

ফন্ট সাইজ:

     আগেই বলিয়াছি, ১৯৪৯ সালে আরমানিটোলা জনসভা হইতে মিছিল সহকারে অগ্রসর হইবার কালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারন সম্পাদক জনাব শামসুল হকসহ অন্যান্য কর্মীরা গ্রেফতার হন। ইহার পর কিছুকালের জন্য রাজনৈতিক তৎপরতা স্থিমিত হইয়া আসে। মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ বিরোধী দলীয় নেতাদের সর্বদা অশালীন ভাষায় আক্রমণ অব্যাহত রাখাায় সক্রিয় বিরোধী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করিতে কেহই সাহস পাইতেছিল না। একমাত্র ভরসা সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের পৃষ্ঠা। অর্থমন্ত্রী জনাব হামিদুল হক চৌধুরী ও উজীরে আলা নুরুল আমিন সাহেবের অর্ন্তদ্বন্দে¡র ফলে ১৯৪৯ সালে ১৮,১৯ ও ২০শে জুন কার্জন হলে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ মুসলিম লীগ কাউন্সিল অধিবেশনে উজীরে আলা নূরুল আমিনের বিরোধী গ্রুফ মাথাচাড়া দিয়া উঠে। ইহারই কারণে দুর্নীতির অভিযোগে, পাবলিক অফিস (public office Disqualification ordinance) ডিসকোয়ালিফিকেশন অর্ডিন্যান্স বলে পূর্ববঙ্গ মন্ত্রসভা হইতে অর্থমন্ত্র হামিদুল হক চৌধুরীর অপসারণ ঘটে। ১৯৫০ সালে মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল সভায় হাতাহাতি ও মারামারির পর সংখ্যাগুরু নুরুল আমিন গ্রুপ জনাব হামিদুল হক চৌধুরী ও তাঁহার অন্ধভক্ত জনাব মহিউদ্দিন আহমদকে মুসলিম লীগ সংগঠন হইতে বহিস্কার করিয়া দেয়। ইহারই ফলে জনাব হামিদুল হক চৌধুরীর ইংরেজী দৈনিক ‘‘পাকিস্তান অবজার্ভার’’ (বর্তমানে বাংলাদেশ অবজার্ভার) সরকার বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। জনাব মহিউদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার করিয়া কারাগারে আটক করা হয় এবং আপত্তিকর সম্পাদকীয় লেখার অভিযোগে ১৯৫২ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী ইংরেজী দৈনিক পাকিস্তান অবজার্ভারের প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিরোধী রাজনীতিকদের দেশপ্রেমের প্রতি কটাক্ষ হানাই পাকিস্তানের সরকারী রাজনীতিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল। তাই ক্ষমতা হইতে অপসারিত হইবার পর ১৯৬৭ সালে জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টোকে তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিনের প্রকাশ্য মন্তব্য শুনিতে হইল যে, তিনি পাকিস্তানের নাগরিক নহেন। সরকারী দলের সৃষ্ট এই ধরনের ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই জনাব শামসুল হকের কারামুক্তি ঘটে। ফলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়মী মুসলিম লীগ কর্মীদের মনে নব বলের সঞ্চার হয়।