যুব সম্মেলন

ফন্ট সাইজ:

     যাহা হউক, এই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের যুব সম্প্রদায়কে সংগঠিত করিবার মহৎ উদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত হইয়া নিখিল ভারত মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহমুদ নূরুল হুদা ও বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের প্রাক্তন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এক প্রতিনিধিত্বমূলক যুব কর্মিসভায় যথাক্রমে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হইয়া যুব সম্মেলন আহবানের উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী অর্ভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেন। যুব সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করিয়া তুলিবার প্রয়াসে প্রাণপণ পরিশ্রম করি। আমরা কায়েদে আযমের সহোদরা মাদারে মিল্লাত মিস ফাতেমা জিন্নাহ ও পাঞ্জাবের প্রগতিশীল জনপ্রিয় নেতা মিঞা ইফতেখার উদ্দিনকে ২৭ ও ২৮শে মার্চ (১৯৫১) ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তান যুব সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ ও অনুরোধপত্র পাঠাই। ক্ষমতাসীন নূরুল আমিন সরকার যুব সম্মেলনকে নেকনজরে দেখেন নাই। তাই, সম্মেলনের তারিখ যতই নিকটবর্তী হইতে থাকে, গণবিরোধী সরকার ততই তৎপর হইয়া উঠিতে শুরু করে।

     পাঞ্জাব আইন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কিছুকালের মধ্যেই মেজর জেনারেল আকবর খান এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানের সরকারকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা নেন। কিন্তু ষড়যন্ত্র ফাঁস হইয়া পড়ায় মেজর জেনারেল আকবর খান ও তদীয় স্ত্রী, পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টি সম্পাদক সাজ্জাদ জহীর, দৈনিক পাকিস্তান টাইমস উর্দু কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, বিমান বাহিনীর কমোডর ঝানঝুয়া, মেজর ইসহাক ও আরো অনেকে গ্রেফতার হন। ইহা বিখ্যাত রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিতি লাভ করে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আইনজীবী হিসাবে ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী পক্ষ সমর্থনের দায়িত্বভর গ্রহণ করেন। এমনিতেই ক্ষমতালোভী অসহিষ্ণু মুসলীম লীগ সরকার যত্রতত্র সর্বজনে রাষ্ট্রবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ আবিষ্কারে ঘর্মাক্ত কলেবর। তদুপরি প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান পাকিস্তানের মাটিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পদার্পণকে খুব একটি নেক নজরে দেখিতেছিলেন না। পাকিস্তানের মাটিতে পদার্পণ করিয়াই শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিরোধী দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করেন; কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় বিরোধী দল নেতৃবর্গ ছিলেন,(“Dogs let loose by India”)-বা “ভারতের লেলায়িত কুকুরসমূহ” মানকী শরীফের পীর, মাওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের নেতৃত্বে পরিচালিত বিরোধী দলীয় কর্মী বাহিনীর প্রতি লক্ষ্য করিয়া প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান হুমকির সুরে এই সতর্ক বাণীও উচ্চারণ করিতেন যে, “ছের কুচাল” দেংগে, অর্থাৎ“শিরচ্ছেদ করিব” এমনি হিটলারী-স্ট্যালিনী-মাও মেজাজে যখন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান অন্যের শিরচ্ছেদের কল্পনায় মশগুল, সেই মুহুর্তে খোদ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কার্যালয় রাওয়ালপিন্ডি সেনানিবাসে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র অনাবৃত হয়। এমনি ভয়াবহ অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জাতির জনক কায়েদে আযমের ভগ্নি মোহতারেমা ফাতেমা জিন্নাহ ও পাঞ্জাবের আজাদ পাকিস্তান পার্টি প্রধান মিঞা ইফতেখার উদ্দিন আমাদের আহূত যুব সম্মেলনে যোগদানের অক্ষমতা তারযোগে আমাদিগকে জানাইয়া দেন। এতদসত্ত্বেও আমরা মনোবল হারাই নাই। পাকিস্তান অবজার্ভারের সহকারী সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র উদঘাটনের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে যুব সম্মেলনে তারিখ পিছাইয়া দেওয়ার পরামর্শ দেন। আমরা সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ত্যাগ না করিয়া অবস্থার উপর কড়া দৃষ্টি রাখিতে লাগিলাম। বাজারের জের গুজব, যুব সম্মেলন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হইবে, ঢাকা বার লাইব্রেরী হলসহ সমগ্র শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হইবে।
     যাহা হউক, যে কোন প্রকার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করিবার মত মনোবল আমাদের অটুট ছিল। তদানীন্তন পাকিস্তান অবজার্ভারের স্টাফ রিপোর্টার ও বিভাগপূর্ব আসাম মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের নেতা জনাব তসাদ্দক আহমদ চৌধুরীর সক্রিয় সাহায্য-সহায়তা ও সময়োপযোগী পরামর্শে ঢাকা বার লাইব্রেরী হরে সম্মেলন অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে ভাসমান গ্রীণবোটে যথারীতি যুব সম্মেলন অনুষ্ঠান করি। বুড়িগঙ্গা নদীর উপর ১৪৪ ধারা জারি করিয়া কোন নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপন করা হয় নাই বলিয়াই আমরা এই কৌশল অবলম্বন করিয়াছিলাম। সন্ধ্যা-রাত্রি হইতে হ্যাজাক লাইট জ্বালাইয়া গভীর রাত্রি পর্যন্ত সম্মেলন চলে। অবিভক্ত আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আলী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন সমস্যা, সরকারী নির্যাতন, ঢাকা নগরে ১৪৪ ধারা জারি, পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ ভাঙ্গিয়া দিয়া ১৯৫২ সালের প্রথম দিকে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ইত্যাদি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ গঠন করা হয়ঃ
সভাপতিঃ                 জনাব মাহমুদ আলী
সহ-সভাপতি সর্বজনাব খাজা আহমদ, ইয়ার মোহাম্মদ খান, শামসুদ্দোহা
(টাঙ্গাইল), আবদুর মজিদ এবং মিসেস দৌলতুন্নেসা
সাধারণ সম্পাদকজনাব অলি আহাদ
যুগ্ম সম্পাদক সর্বজনাক আবদুল মতিন ও রুহুল আমীন
কোষাধ্যক্ষ জনাব তসাদ্দক আহমদ চৌধুরী
কার্যকরী সংসদ-সদস্যবর্গ সর্বজনাব মাহমুদ নূরুল হুদা, মোঃ তোয়াহা, মতিউর রহমান (রংপুর),
আবদুল হালিম (ঢাকা), আবদুস সামাদ (সিলেট), মকসুদ আহমদ,
কে, জি, মোস্তফা, কবির আহমদ (চট্টগ্রাম), এম,এ, ওয়াদুদ, আবদুল গাফফার 
চৌধুরী, প্রাণেশ সমাদ্দার, তাজউদ্দিন আহমদ, 
আকমল হোসেন, মোতাহার হোসেন, মিস রোকেয়া খাতুন।
      ২৮শে মার্চ (১৯৫১) সন্ধ্যাকালে তেজগাঁও স্টেশনের নিকটবর্তী জঙ্গলের ছায়াঘেরা পরিবেশে বিভিন্ন জেলা হইতে আগত কালচারাল গ্রুপ এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। তারুণ্যের বেপরোয়া মনোভাবের ইহাই বহিঃপ্রকাশ। 
     আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ ১৯৪৯ সালের শেষার্ধে কারাবন্দী হইবার পর হইতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক শূণ্যতা বিরাজ করিতেছিল। উক্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগকে জন্মলগ্ন হইতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িত হইতে হইয়াছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সর্বক্ষণ কর্মী হিসাবে ত্বড়িৎগতিতে কাজ করিবার জন্য সহৃদয় রউফ ভাই আমাকে একটি বিদেশী নতুন ‘সানবীম’ সাইকেলের ব্যবস্থা করিয়া দেন। ফলে, কার্যক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। রউফ ভাই তখন ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির সেক্রেটারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল মিলনায়তন ও বিভিন্ন আবাসিক হলের মিলনায়তনগুলি একমাত্র সরকারী মুসলিম লীগ ব্যতীত আর অন্য কোন সংগঠনকে ব্যবহার কজরিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিতেন না। ১৮-৯-৫১ তারিখে ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে মোহাজেরদের উপর পুলিশী লাঠিপেটা, লিয়াকত সরকার কর্তৃক মাদারে মিল্লাতের সেপ্টেম্বর (১৯৫১) এর বেতার ভাষণের কিয়দংশের মাঝাখানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা, অক্টোবর মাসে (১৯৫১) উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে বিরোধী দলীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তা যুবলীগকে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করিতে হইয়াছে। শুধু তাই নয়, লবণের মত অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের মূল্য অত্যাধিক বৃদ্ধি পাইয়া ১৬ টাকা সের দরে বিক্রি হইতে থাকে। ইহার বিরুদ্ধে ৩রা নভেম্বর (১৯৫১) অপরাহ্ন ৪ ঘটিকায় আরমানিটোলা পার্কে সর্বজনাব আতাউর রহমান খান ও কামরুদ্দিন আহমদ পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সক্রিয় সহায়তায় এক প্রতিবার সভার আহবান করেন। প্রসঙ্গ উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের আমলেই এলাকাভেদে লবণ প্রতি সের ৪৮ টাকা হইতে উর্ধ্বে ৯৬ টাকায় বিক্রি হইয়াছে। কিন্তু লবণ কেলেংকারী হোতাদের কোন প্রকার শাস্তিভোগ করিতে হয় নাই বরং ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার আবদুস সাত্তার লবণের মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণ সর্বসাধারণ্যে বিবৃতি মারফত প্রকাশ করিবার অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতা হইয়া কারারুদ্ধ হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের বাল্য বন্ধু জনাব সাত্তারেরও সত্য উদঘাটন করিবার অধিকার সে সময় ছিল না। এই সব দেখিয়া-শুনিয়া স্বীকার করিতেই হয় যে, মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের শাসনামল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে মূলতঃ কোন পার্থক্যই ছিলনা। 
পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সাংগঠনিক কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন ২৭ ও ২৮ শে মে (১৯৫১) ঢাকা জিলার অন্তর্গত নরসিংদী বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়। তথায় মুসলিম লীগ আমাদের উপর হামলা চালাইতে কোন প্রকার কসুর করে নাই। কিন্তু অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি জনাব আবদুল মজিদের ব্যক্দিহত ও সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তির দরুন আমরা দুঃখজনক অঘটন এড়াইতে সক্ষম হই। ১৯৫১ সালের ৩০ ও ৩১শে ডিসেম্বর বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী সরকারের গণবিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সচেতন করাই ছিল আমাদের কর্তব্য। আমাদের বক্তব্য ছিল এই যে, পাকিস্তান প্রিিতষ্ঠার মূলে যুব সমাজের দান অপরিসীম, সুতরাং যুব সমজকেই দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করিত হইবে। আমাদের আহবানে বিভিন্ন জেলায় যুবকর্মীরা যেইভাবে সাড়া দেয়, তাহাতে আমরা অভিভূত হইয়া পড়ি। এই সময়ে এডভোকেট ইমাদুল্লাহ ও আমি ১৬ ই নভেম্বর সিলেট পৌছি এবং ১৮ ই নভেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জে আহূত সিলেট জেলা ছাত্র, সম্মেলনেই পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন নামে এক নূতন ছাত্র সমিতি গঠন করা হয় । উত্তরকালে ইহাই পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠনে পরিণত হয়। ঐতিহাসি সত্য লিপিবদ্ধ করিবার প্রয়োজনেই ছাত্র ইউনিয়নের এই জন্ম ইতিকথা উল্লেখ করিলাম। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের পর ঐ একই সালে ২৬ শে এপ্রিল সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল ছাত্র কমীরা উক্ত নামেই পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন গঠন এবং ১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে এই সংগঠনের নাম রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন। 
     যাহা হউক, অশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে যথাসময়ে অর্থাৎ ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর (১৯৫১) যুব সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ১৯৫২-৫৩ সালের জন্য নিম্নোক্ত কর্মকর্তা নির্বাচিত হনঃ ।
 
সভাপতিঃ                       জনাব মাহমুদ আলী 
সহ-সভাপতিঃ                  মীর্জা গোলাম হাফিজ, খাজা আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, ইয়ার মোহাম্মদ খান, শামসুজ্জোহা
সাধারণ সম্পাদকঃ            জনাব অলি আহাদ 
যুগ্ন সম্পাদকঃ                  মাহবুব জামাল জাহেদী 
কার্যকরী সংসদ-সদস্যবর্গঃ আবদুল হালিম, আবদুল মতিন, এ,বি,এম,মুসা, মাহমুদ নুরুল হুদা, আনোয়ার হোসেন, এস,এ,বারী এটি, সালাহউদ্দিন, আবদুল ওয়াদুদ, শফি খান, আলী আশরাফ, আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন, নুরুর রহমান, জিয়াউল হক, মতিউর রহমান, মফিজুল ইসলাম,  তাজউদ্দিন আহমদ, দেওয়ান মাহবুব আলী, আবদুল কাদের ও প্রাণেশ সমাদ্দার।