একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপনের সিদ্ধান্ত

ফন্ট সাইজ:
বার লাইব্রেরীর এই সভাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ঢাকা নগরে ছাত্র ঘর্মঘট, সভা ও শোভাযাত্রার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান হয় এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারী পূর্ববঙ্গ আইন (ব্যবস্থাপক) পরিষদ অধিবেশন তারিখ বিধায় ২১ শে ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী সাধাণ হরতাল, সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৪ঠা ফেব্রুয়ারী পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তফা রওশন আখতারের প্রস্তাবক্রমে যুবলীগ নেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কলা বিভাগ প্রাঙ্গনে এক বিরাট ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিদ্যায়তন হইতে ধর্মঘটী ছাত্ররা দলে দলে মিছিল সহকারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জমায়েত হয়। উক্ত সভায় ২১ ফেব্রুয়ারীর কর্মসূচী যথা হরতাল, সভা ও বিক্ষোভ মিছিল কতিপয় রাজপথ পরিভ্রমণ করিয়া বিভিন্ন ধ্বনিতে সংগ্রামের ডাক দেয় ও শপথ ঘোষণা করে। 
      ৬ই ফেব্রুয়ারী পূর্ববঙ্গ কর্মীশিবির অফিস ১৫০ নং মোগলটুলীতে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সবা অনুষ্ঠিত হয়। সভা অর্থ সংগ্রহের- প্রয়োজনে ১১ ও ১৩ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা শহরে পতাকা দিবস পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে ও জন সাধারণকে সাধ্যানুসারে অর্থ সাহায্য দ্বারা আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় সহায়তা করিতে আহবান জানায়। সরাকার যদি ১৪৪ ধারা ইত্যাদি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তাহা হইলে আইন ভঙ্গ করা হইবে কিন হইবে না তা সভায় তাহাও আলোচিত হয়। বেশীর ভাগ উপস্থি সদস্যই আইন ভঙ্গের মত জ্ঞাপন করেন। কিন্তু আমি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে দৃঢ় মত প্রকাশ করি। 
বৃদ্ধ মাওলানা ভাসানী সভাপতির আসন হইতে আমার বক্তব্যের সমর্থনে জোরালো ভাষায় ঘোষণা করিয়া বলেন, ‘যেই সরকার আমাদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বানচাল করিবার জন্য অন্যায়ভাবে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে, সেই সরকার কর্তৃক জারিকৃত নিষেধ নিষেধাজ্ঞাকে মাথা নত করিয়া গ্রহণ করিবার অর্থ স্বৈরাচারের নিকট আত্মসমর্পণ। যাহা  হউক, কোনরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা  ব্যতীতই সেই দিনকার মত সভা মূলতবী হইয়া যায়। 
     সরকার ২১শে ফেব্রুয়ারী পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের বাজেট অধিবেশন আহবান করিয়াছিল। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, আহূত বাজেট অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তানের তরফ হইতে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাসা করা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক এবং এই ব্যাপারে কেন্দ্রী সরকারের উপরে যথাযথ চাপ সৃষ্টি করুক।