২২ শে ফেব্রুয়ারী ঘটনা

ফন্ট সাইজ:
২২ শে ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ ঘটিকায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে শহীদদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত গায়েবী জানাযায় লক্ষাধিক লোক যোগদান করেন। শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করিয়া আল্লাহর দরাবারে মোনাজাত সমাপনের পর পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট ইমাদুল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির আহবানে আমাকে ২১ শে’র সংগ্রামের তাৎপর্য ও শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমার উপর বক্তৃতা করিতে হয়। উল্লেখ্য যে, আন্দোলনের এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেইদিন একা আমাকে বক্তৃতা করিতে হইয়াছিল। উক্ত বক্তৃতায় আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়প্রত্যয়ী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সংগ্রামী জনতাকে বৈল্পবিক অভিনন্দন জানাইয়া এক পর্যায়ে বলিয়াছিলাম, ‘‘শহীদদের জন্য ত্রুন্দন করিব না, বরং ইস্পাত কঠিন শপথ গ্রহন করিব। সাদ্দাম,নমরুল ও ফেরাউনের পদাংক অনুসরণকারী খুনী উজীরে আলা নূরুল আমিন সরকারের হত্যার জবাব দিব ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মারফত,মাতৃভাষা বাংলাকে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার দ্বারা । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্যবৃন্দের যাঁহারা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গের বিরোধিতা করিয়াছেন, তাঁহাদের প্রতি নিবেদন,‘‘ছাত্রহত্যার পর আন্দোলনে নূতন অধ্যায় সূচিত হইয়াছে; সর্বপ্রকার মতভেদ পরিহার করিয়া চলুন,ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন পরিচালন করি এবং খুনীকে সমুচিত জবাব দিই। হিম্মতে মর্দান মদদে খোদা।”আমার বক্তৃতার পর সভাপতি জনাব ইমাদুল্লাহ তাঁহার ভাষণে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
     এখানে উল্লেখ্য যে, জনাব ইমাদুল্লাহ পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হইয়াছিলেন; কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়,দূরারোহ্য বসন্ত রোগে আত্রুান্ত হইয়া তিনি ১৯৫৬ সালের ৬ই এপ্রিল ইহধাম ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন বাংলার রাজনৈতিক গগনের এক উজ্জল জ্যোতিস্ক। তাঁতার অকাল মৃত্যুতে এ দেশের যুব আন্দোলন সবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে।