নিহতদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে

ফন্ট সাইজ:

ইতিপূর্বে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে আক্রান্ত মিছিলের অপর অংশ কার্জন হল, ফজলুল হক হল সংলগ্ন পূর্বদিকস্থ রাজপথ দিয়া অগ্রসর হইতে থাকে। মিছিলটিড অতঃপর রেলওয়ে হাসপাতালের দক্ষিণ দিকস্থ রাজপথ বাহিয়া নওয়াাবপুর রোড দিয়া সগরঘাট অভিমুখে অগ্রসর হইতে থাকে। পথে বংশাল রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের বাংলা ‘দৈনিক সংবাদ ’ অফিস আক্রমণ করে। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের গ্যাস ব্যবহার করে এবং অবশেষে গুলী চালায় । গুলীতে অকুস্থলেই আবদুলস সালাম নামক একজন রিক্সাচালক প্রাণত্যাগ করে। মেহনতি জনতার প্রতিভূ আবদুস সালাম এইভাবে মাতৃভাষার বিরুদ্ধাচারণকারী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রাণ বিসর্জন দিয়া এভং স্বীয় পরিবার পরিজনকে অভাব-অনটনের অকূল সাগের ভাসাইয়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করিয়া গিয়াছেন যে, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম কেবলমাত্র ছাত্রদের সংগ্রাম নহে, বরং এই সংগ্রাম মেহনতি আপামর বাংলা ভাষাভাষী সকলের। তাঁহার এই আত্মোৎসর্গের দৃষ্ঠান্ত দেশবাসীর স্মৃতিতে চিরকাল দেদীপ্যমান থাকিবে। ছত্রভঙ্গ শোভাযাত্রীরা পূণরায় সদরঘাটের পথে রওয়ানা দিলে নওয়াবপুর রোডে অবস্থিত অধুনালুপ্ত ‘খোশহমল রেষ্টুরেন্টের’ সন্নিকটে পুণরায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সহিত তাহাদের সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষেই হাইকোর্ট কর্মচারী শফিউর রহমান পুলিশের গুলীতে গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরবর্তীকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া মাতৃভাষার মান রক্ষার সংগ্রামে অকাতরে প্রাণ দেওয়ার মত চরম ত্যাগের আহবান রাখিয়া যান। ২২ শে ফেব্রুয়ারী ভিক্টোরিয়া পার্কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং নওয়াবপুর রোড ও বংশার রোডে সংগ্রামী জনাতর উপর পুলিশের গুলীবর্ষণের ফলে কতজন শাহাদৎ বরণ করিয়াছেন তাহা আমাদের কেহই সঠিকভাবে বলিতে পারিনা। অবশ্য ‘দৈনিক আজাদ ’ ২৩ শে ফেব্রুয়ারীর সংখ্যায় ২২ শে ফেব্রুয়ারী গুলীবর্ষণের চারজন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার সংবাদ পরিবেশন করিয়াছিল। নিহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞাতার অন্যতম কারণ হইতেছে এই যে, জালেম সরকার শহীদদের লাম গুম করিয়া ফেলিত । তদুপরি ছিল আমাদের সাংগঠিনিক দুর্বলতা। ইহার কারণে সঠিক খবর আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পৌছায় নাই। আমি যতটুকু জানি, ততটুকুই লিপিবদ্ধ করিতেছি। তবে হাইকোর্টের সম্মুখস্থ রাজপথে মিছিলকারীদের উপর কোন গুলী চালনা করা হয় নাই। অতএব সেইখানে হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমানের নিহত হওয়ার যে দাবী তাহা সঠিক নহে। আমি স্বয়ং উক্ত মিছিল পরিচালনা করিতেছিলাম। শফিউর রহামন নিহত হন নওয়াবপুর রোডের গুলীবর্ষণে। প্রসঙ্গতঃ আরও উল্লেখ্য যে, শেরেবাংলা এ,কে ফজলুল হক গায়েবী জানাযায় যোগ দেন নাই এবং জানাযার পর মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণ হইতে বহির্গত মিছিলের কোন পর্যায়েই তিনি অংশগ্রহণ করেন নাই। যুবলীগ নেতৃবর্গ এবং সাধারণ ছাত্র কর্মীরাই সেইদিনকার সেই দুঃসাহসিক জঙ্গী মিছিল পরিচালনা করিয়াছিলেন। অনা কোন নেতারই সাক্ষাৎ সেইদিন মিলে নাই; বরং কোন কোন স্বনামধন্য ব্যক্তি নাগরিক কমিটির নামে আন্দোলনকে পিছন হইতে ছুরিকাঘাত করিয়া সরকারী আনুকুল্য কুড়াইবার চেষ্টা করিয়াছেন। শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক গায়েবী জানাযায় যোগ দেন নাই এবং জানাযার পর মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণ হইতে বহির্গত মিছিলের কোন পর্যায়েই তিনিন অংশগ্রহণ করেন নাই। যুবলীগ নেতৃবর্গ এবং সাধারণ ছাত্র কর্মীরাই সেইদিনকার সেই দুঃসাহসিক জঙ্গী মিছিল পরিচালনা করিয়াছিলেন। অন্য কোন নেতারই সাক্ষাৎ সেইদিন মিলে নাই; বরং কোন কোন স্বনামধন্য ব্যক্তি নাগরিক কমিটির নামে আন্দোলনকে পিছন হইতে ছুরিকাঘাত করিয়া সরকারী আনুকূল্য কুড়াইবার চেষ্টা করিয়াছেন। শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক, কামরুদ্দিন আহমদ প্রমুখ উক্ত নাগরিক কমিটির অন্যতম উদ্যেক্তা ছিলেন।