২৩ শে ফেব্রুয়ারী বৈঠক

ফন্ট সাইজ:

কতিপয় সৎ, সাহসী ও উদ্যোগী কর্মীর প্রচেষ্টায় ২৩ শে ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকাল তিনটায় সেই সময়ে কারারুদ্ধ কর্মী আজমল হোসেনের মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের কামরায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জনাব আবুল হাশিম। সভাপতির আসন হইতে জনাব আবুল হাশিম আমাকে লক্ষ্য করিয়া প্রশ্ন করেন, ‘‘অলি আহাদ, আন্দোলনকে আর কত দূর নিতে চাও এবং আর সামনে নেওয়া সম্ভব কিনা? সভাপতির প্রশ্নের জবাবে আমি বলি যে, ‘‘স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন সম্ভাব্য চরম সীমায় পৌঁছিয়াছে এবং আন্দোলনে ভাটার চিহ্ন দেখা দিয়াছে। তদুপরি অবিরাম আন্দোলন চাল্ইায়া যাওয়ার মত সাংগঠনিক শক্তি এই পর্যায়ে আমাদের নাই। সুতরাং honourable retreat বা সম্মানজনক পশ্চাদপসরণই আমার দৃঢ় মত। ’’ 

     প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, কেহ কেহ এই বৈঠকের আহবায়করূপে কাজী গোলাম মাহবুবের স্থলে  জনাব আতাউর রহমান খানের নাম উল্লেখ করেন। ইহা সর্বৈব ভুল। ৭ই মার্চ রাত্রে আমরা গ্রেফতা হওয়ায় আন্দোলন প্রশমিত হইয়া পরিস্থিতি শান্তভাব ধারণ করিলে পরবর্তী সময়ে আতাউর রহমান খানকে কর্মপরিষদের আহবায়ক করা হয়। ২৪ শে ফেব্রুয়ারী রবিবার বিধায় সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ হইতে আমরা ২৫ শে ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ সোমাবার ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট ও ৫ই মার্চ সমগ্র পাকিস্তানব্যাপী হরতাল ঘোষণা করি।