সরকারী অপপ্রচার

ফন্ট সাইজ:
সরকার আন্দোলন পরিচালনাকারীদিগকে ভারতীয় অর্থে পুষ্ট ভারতীয় অনুচর বলিয়া অপবাদ দিতে সামান্যতম কসুর করে নাই। নারায়ণগঞ্জ-কালীবাজারে আততায়ীর গুলীতে নিহহত প্রহরারত কনস্টেবল সৈয়দ জোবায়েদ ও আহত আনসার খলিল আহমদের পরিবারদ্বয়কে যথাক্রমে ১০ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকা এককালীন ক্ষপিূরণ দান করা হয়। জনমন বিষাইয়া তোলার উদ্দেশ্যেই উক্ত ক্ষতিপূরণ দানের সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে ২রা মার্চ মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন বলেন যে, ভারতীয় অনুচরেরাই উক্ত নির্মম হত্যাকান্ডের সহিতত জড়িত। কিন্তু আপামর দেশবাসী নূরুল আমিন সরকারের এই অভিযোগকে অবজ্ঞার সহিত উপেক্ষা করে। শুধু তাই নয়, শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হইলে কেবল নগদ অর্থই নহে, বহু লোকই উক্ত স্মৃতিস্তম্ভ বেদীতে সোনা-দানা দিয়া তাহাদের ব্যথিত হৃদয়ের অর্ঘ্য রাখিয়া গিয়াছেন। কোন কোন মহিলা নিজ গলার পরিহিত সোনার হার স্বীয় হস্তে স্মৃতিস্তম্ভ বেদীতে অর্পণ করিয়াছেন। এই সমস্ত অমূল্যদান আমি মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদককের নিকট জমা রাখিতে বলি এবং আমরা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের নিকট জমা রাখিতে বলি এবং আমরা সমবেতভাবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত লই যে, আন্দোলনের বিভিন্ন খরচা তথা হইতে নির্বাহ করা হইবে। 
     সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কেন্দ্রে সংগৃহীত অর্থ জনাব আখতার উদ্দিন আহমদের নিকট জমা ছিল। সুতরাং সরকারী অভিযোগ বা কুৎসা অনুযায়ী বিদেশী অর্থের কোন খবর অন্ততঃ আমরা যাহারা চরম সংকটময় মুহূর্তে আন্দোলন পরিচালনা করিয়াছি, জানিতাম না। সরকার হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হইয়াই আমাদিগকে অনর্থক হিন্দুস্থানের দালাল বলিয়া দেশে বিদেশে প্রচার করিয়াছে।