আন্দোলনে ভাটা

ফন্ট সাইজ:
স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন স্বাভাবিক নিয়মেই গতিশীলতা হারাইয়া ফেলে । আন্দোলনে ভাটা দেখা দেয় । সাংগঠনিক শক্তির অভাবে এই ভাষা আন্দোলনকে বৈল্পবিক কোন আন্দোলনে রূপান্তরিত করা তখনকার দিনে সম্ভব ছিল না। তদুপরি সরকারী তৎপরতা ও দমননীতির দরুণ আন্দোলনের অভ্যন্তরেও বিশ্বাসঘাতকতা মাথাচাড়া দিয়া উঠিতে শুরু করিয়াছিল। অতি বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিও অর্থ প্রভোভনে পড়িয়া বা কারা নির্যাতনের ভয়ে আমাদের আশেপাশে অবস্থান করিয়াই আমাদের কর্মতৎপরতা ও অবস্থান সম্পর্কে সরকারী গোয়েন্দা বিভাগে নিয়মিত রিপোর্ট করিতে থাকে। সেই অগ্নিক্ষরা দিনগুলিতে আন্দোলনের স্বার্থেই আমাকে আন্দোলনের স্নায়ুকেন্দ্র মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে অবস্থান করিতেত হইয়াছিল। মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্যারাকের ৫ নম্বর রুমে আমার বাল্যবন্ধু আলী আজগর, নজরুল ইসলাম ও কাসেদুল হক থাকিত। আমি তাহাদের সহিত রাত্রি যাপন করিতাম এবং আমার সবকিছুই তাহারা অত্যন্ত দরদের সহিত দেখাশুনা করিত। আমার নিরাপত্তার প্রতিও তাহারা সজাগ ছিল। ইহা কেবলমাত্র বন্ধুত্বের নিদর্শন নহে; ইহা অকৃত্রিম দেশপ্রেমের অকাট্য প্রমাণও বটে। 
     হোম (স্পেশাল) ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগ কর্তৃক ২৮ শে ফেব্রুয়ারী তারিখে প্রকাশিত ঢাকা গেজেটে ( এক্সট্রা অর্ডিনারী) গভর্ণর নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী হইতে ৩০ দিনের মধ্যে স্ব-স্ব জিলা প্রশাসকের নিকট হাজির হ্ওয়ার নির্দেশ দেন। 
     কাজী গোলাম মাহবুব, আহবায়ক, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, বরিশাল; খালেক নেওয়াজ খান, সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, ময়মনসিংহ; শামসুল হক, সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, ময়মনসিংহ; অলি আহাদ, সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ, ত্রিপুরা; আবদুল মতিন, আহবায়ক, বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, পাবনা; সৈয়দ এম,নূরুল আলম, পাবনা; আজিজ আহমদ নোয়াখালী; আবদুল আওয়াল, ত্রিপুরা; মোঃ তোয়াহা, সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান শান্তি কমিটি, নোয়াখালী। 
     ২৯ শে ফেব্রুয়ারী নারায়ণগ্ঞ্জ মর্গান গার্লস হাইস্কুলের হেড মিস্ট্রেট মিসেস মোমহাজ বেগমকে গ্রেফতারের ফলে নারায়ণগঞ্জে যে গণঅভ্যূত্থান দেখা দিয়েছিল এবং তাহা দমাইতে সরকার যে কি পাশবিক শক্তি ব্যবহার করিয়াছিল, সেই নজীরবিহীন ঘটনার উল্লেখ পূর্বেই করিয়াছি। সেই সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে যে কারফিউ বা সান্ধ্য আইন জারি করা হইয়াছিল, সেই সান্ধ্য আই ৭ই মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। এই সময়ের মধ্যে নারায়ণগ্ঞ্জ হইতে দুইজন ছাত্রীসহ মোচ একশত পনেরজচনকে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ করা হয়। আমি আত্মগোপন অবস্থঅয় নারায়ণগঞ্জ অভ্যূত্থানের নায়কদের অন্যতম পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ সহ-সভাপতি শামসুজ্জোহা ও ডাঃ মুজিবর রহমানের সহিত ঢাকস্থা মদনমোহন সবাস রোডের (বর্তমান টিপু সুলতান রোড) জনাব আবদুল জলিলের বাসভবন STEP-IN এ সাক্ষাৎ করিতাম এবং আন্দোলনের বিভিন্ন করণীয় দিক নিয়া বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা ও পর্যালোচনা করিতাম।