আওয়ামী মুসলিম লীগের অসাম্প্রদায়িকীকরণ

ফন্ট সাইজ:
১৯৫৫ সালের ২১,২২  ও ২৩ শে অক্টোবর ঢাকার সদরঘঅটে অবস্থিত ‘রূপমহল’ সিনেমা হলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের তিন দিবসব্যাপী দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেষনের সুদূর প্রসারী গুরত্বপূর্ণ অবদান হইল, সংগঠনের দ্বার জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্যই উন্মুক্ত করা। পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অসাম্পদায়িকীকরণের ঘেঅর বিরোধী ছিলেন। পক্ষান্তরে সংগঠনের সাম্প্রদায়িক চরিত্র পরিবর্তনের প্রবক্তা ছিলেন মাওলানা আবদু হামিদ খান ভাসানী। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান জনাব সোহরাওয়ার্দীর অন্ধ সমর্থক হওয়া সত্তে¦ও মাওলানা ভাসানী ও রাজনীতি সচেতন কর্মী সমাজের প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচারণ করিতে ইতস্ততঃ করিতেছিলেন। সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশনের পূর্বে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় শেখ সাহেবের অবস্থা ছিল শ্যাম রাখি না কূল রাখি। যাহা হউক, ২২ শে অক্টোবর রাত্রি প্রায় ৪টা দিকে জনাব সোহরাওয়ার্দী তাঁহার আপত্তি প্রত্যাহার করিলে প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িক করিবার স্থিত হয়। উক্ত সুদূরপ্রসারী ও গভীর সম্ভাবনাময় সিদ্ধান্তের ফলে অনাগত ভবিষ্যদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক শুভ মৌলিক গণতান্ত্রিক সৌভ্রতৃমূলক পরিবেশ সৃষ্টির গোড়াপত্তন ঘটে। 
     ইহা অনস্বীকার্য যে, কোন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান প্রয়াসে ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী মতান্তর ও মনান্তর নিরসনে শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন একমাত্র সেতুবন্ধন। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত অন্যতম ধারা ছিল, ‘‘এই প্রতিষ্ঠান ইহার গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচীর ভিত্তিতে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাকিস্তান আঞ্চলিক শাখা হিসাবে গণ্য হইবে। ’’ তাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বারেবারেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ সুষ্পষ্ট বক্তব্যকে হজম করিতে হইয়াছে। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যৌথ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বই ছিল সংগঠনের গণভিত্তি ও সাংগঠনিক শক্তির মূল কারণ। কোন কোন বিষয়ে তাঁহাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যকে উপেক্ষা করিয়াই সাধারণ কর্মীবাহিণী ও নেতৃবর্গ তাঁহাদের যৌথ নেতৃত্বের আকাঙ্খা ছিলেন। 
     ১৯৫৩ সালে ঢাকা ‘মুকুল’ সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ কাউন্সিল সভায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হইয়াছিলেনঃ 
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি 
আতাউর রহমান খান সহ-সভাপতি 
আবুল মনসুর আহমদ      ’’ ’’
আবদুস সালাম খান ’’ ’’
খয়রাত হোসেন ’’ ’’
শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক
কোরবান আলী সাংগঠনিক সম্পাদক 
আবদুর রহমান প্রচার সম্পাদক 
মোহাম্মদ উল্লাহ অফিস সম্পাদক 
ইয়ার মোহাম্মদ খান কোষাধ্যক্ষ
 
     ১৯৫৪ সালের ১লা এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সংগঠন হইতে বহিস্কৃত জনাব আবদুর রহমানের স্থলে আমি প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হই। 
১৯৫৩ সালে সভাপতিত মাওলানা ভাসানী কর্তৃক মনোনীত ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ছিলেনঃ 
১। মুজিবর রহমান, রাজশাহী, ২। শামসুল হক, রাজশাহী, ৩। মশিউর রহমান, যশোহর, ৪। আবদুল খালেক, যশোহর, ৫। ডাঃ মজহার উদ্দিন আহমদ, রংপুর, ৬। রহিমুদ্দিন আহমদ, দিনাজপুর, ৭। মজিবর রহমান, বগুড়া, ৮। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, পাবনা, ৯। সৈয়দ আকবর আলী, পাবনা, ১০। জহুর আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম, ১১। আবদুল আজিজ, চট্টগ্রাম, ১২। আবদুল রহমান খান, কুমিল্লা, ১৩। আবদুল বারী, কুমিল্লা, ১৪। জসিম উদ্দিন আহমদ, সিলেট, ১৫। সিরাজুদ্দিন আহমদ, নোয়াখালী, ১৬। এ,ডব্লিউ লকিউতুল্লাহ, বরিশাল, ১৭। আবদুল মালেক, বরিশাল, ১৮। আবদুল হামিদ, ময়মনসিংহ, ১৯। আছমত আলী খান, ফরিদপুর, ২০। খোদাবক্স, টাঙ্গাইল, ২১। আকবর হোসেন আখন্দ, বগুড়া, ২২। আবদুল হাই, যশোহর, ২৩। শেখ আবদুল আজিজ, খুলনা। 
     ১৯৫৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ শে অক্টোবর দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে নি¤œলিখিত কর্মকর্তাগণ নির্বাচিত হনঃ 
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি 
আতাউর রহমান খান সহ-সভাপতি 
আবুল মনসুর আহমদ       ’’ ’’
খয়রাত হোসেন ’’ ’’
শেখ মুজিবর রহমান সাধারণ সম্পাদক 
অলি আহাদ সাংগঠনিক সম্পাদক 
অধ্যাপক আবদুল হাই প্রচার সম্পাদক 
আবদুস সামাদ শ্রম সম্পাদক 
তাজউদ্দিন আহমদ সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক
মিসেস সেলিনা বানু মহিলা সম্পাদিকা
মোহাম্মদ উল্লাহ অফিস সম্পাদক 
ইয়ার মোহাম্মদ খান কোষাধ্যক্ষ
 
সভাপতি মাওলানা ভাসানী নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরূপে মনোনয়ন দান করেনঃ 
১। জনাব জহুর আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ২। জনাব আবদুল আজিজ, চট্টগ্রাম ৩। অধ্যাপক আহসাব উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম ৪। জনাব আবদুল জব্বার খদ্দর, নোয়াখালী ৫। জনাব আবদুল বারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬। রফিকউদ্দিন ভুঁইয়া, ময়মনসিংহ ৭। হাতেম আলী খান, টাঙ্গাইল ৮। আবদুল হামিদ চৌধুরী, ফরিদপুর ৯। সৈয়দ আকবর আলী, সিরাজগঞ্জ ১০। শেখ আবদুল আজিজ, খুলনা ১১। মোমিনউদ্দিন আহমদ খুলনা ১২। মশিউর রহমান, যশোর ১৩। সাদ আহমদ, কুষ্টিয়া ১৪। তহুর আহমদ, চৌধুরী, রাজশাহী ১৫। কাজী গোলাম মাহবুব, বরিশাল ১৬। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, পাবনা ১৭। আমজাদ হোসেন, পাবনা ১৮। ডাঃ মজহার উদ্দিন আহমদ, রংপুর ১৯। মাওলানা আলতাফ হোসেন, ময়মনসিংহ ২০। রহিমউদ্দিন আহমদ, দিনাজপুর ২১। আমিনুল হক চৌধুরী, বরিশাল ২২। আকবর হোসেন আখন্দ, বগুড়া ২৩। দবিরউদ্দিন আহমদ, নীলফামারী ২৪। পীর হাবিবুর রহমান, সিলেট ২৫। কামরুদ্দিন আহমদ, ঢাকা।