সর্বদলীয় কর্মপরিষদ গঠন

ফন্ট সাইজ:

     পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক সংবিধান প্রণয়নকল্পে প্রচারিত খসড়া পূর্ববঙ্গের জনমতকে বিক্ষুব্ধ করিয়া তোলে। পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত হইয়া উঠে। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, পাকিস্তান গণতন্ত্রীদল, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ও পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রী সংসদ সমবায়ে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় প্রতিনিধি সভায় মাওলানা ভাসানী ও আমাকে যথাক্রমে চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারী নির্বাচিত করিয়া সর্বদলীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয় এবং ২৯ শে জানুয়ারী (১৯৫৬) সমগ্র দেশব্যাপী ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধর্মঘট, মিছিল ও জনসভার মাধ্যমে দেশবাসী ২৯ শে জানুয়ারী প্রতিরোধ দিবসে অভূতপূর্ব সাড়া দেয়। কর্মপরিষদের পক্ষ হইতে মুখ্যমন্ত্রীর সহিত সাক্ষাৎ করিয়া পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ আহবানের অনুরোধ জ্ঞাপন করি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার আইন পরিষদ ১২ই ফেব্রুয়ারী সমগ্র পুর্ব পাকিস্তানে ‘পরিষদ আহবান দিবস’ পালন করে। এতদুপলক্ষে ঢাকার পল্টন ময়দানে আমার সভাপতিত্বে এক বিরাট জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বলিতে ভুলিয়াছি, ইতিপূর্বেই ৮ হইতে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী প্রস্তাবিত সংবিধানের বিরুদ্বেধ সমগ্র দেশে প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষিত হইয়াছিল।