ভাসানীর অবদানঃ শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারণ সম্পাদক পদ

ফন্ট সাইজ:

     মাওলানা ভাসানীর বর্ণনাতীত ও অপরিসীম ত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্র্রমে আওয়ামী লীগকে পুর্ব পাকিস্তানের রাজনীতি ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান দখলে সক্ষম করে। অত্যাচারী জালেম মুসলিম লীগ সরকারের আমলে শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক সরকারী চাকুরী এডভোকেট জেনারেল পদ গ্রহণ করেন। জনাব আতাউর রহমান কান স্বীয় ওকালতি পেশায় অধিকাংশ সময়ই মগ্ন ও স্বীয় পরিবার-পরিজনদের তত্ববধানে ব্যস্ত ছিলেন। অবসর মুহূর্তে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করিতেন। ফলে, সরকারী অত্যাচার, নির্যাতন, জেল-জুলুম, আর্থিক কষ্ট ভোগ সবকিছুই সহ্য করিতে হইত সর্বত্যগী মাওলানা ভাসানীকেই। মজলুম নেতার উপযুক্ত পাশ্বচর ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তরণ নেতা শামসুল হক  যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৫২ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকাবস্থায় জনাব শামসুল হক মানসিক ভারসাম্য হারাইয়া ফেলেন ও মানসিক ব্যাধিগ্রস্থ অবস্থায় কারামুক্তি লাভ করেন। জনাব শামসুল হক ১৯৫২ সালে ঢাকা কারান্তরাল থাকা বিধায় যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। কারামুক্তির পরও মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়া না আসায় ১৯৫৩ সালে ঢাকার মুকুল সিনেমা । হলে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ অধিবেশনে সভাপতি মাওলানা ভাসানীর অনুরোধক্রমে জনাব শামসুল হকের স্থলে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। মানসিক ব্যাধি হইতে আরোগ্য লাভ না করায় রাজনৈতিক গগণ হইতে জনাব হকের মত একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র খসিয়া পড়ে। ১৯৪৯ সালের ২৬ শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও মুসলিম লীগ সরকারের হীন কারসাজি জনাব শামসুল হককে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যপদ হইতে বঞ্চিত করিয়াছিল। অতত:পর ঘন ঘন কারা নির্যাতন তাঁহার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহতত করিতে  থাকে এবং এই ভাবেই একদিন মানসি বিস্মৃতির অতল গহবরে তলাইয়া যান অথচ এই তরুণ নেতা মামসুল হক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পর ১৯৪৭ সালে যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করিবার মহান দায়িতেত্ব উদ্বুদ্ধ হইয়া পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক ইউথ লীগ গঠন করিয়াছিলেন। অতঃপর তিনি বিরোধী দল গঠনের প্রয়োজনীয়তায় মাওলানা ভাসানীকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে সর্বোতভাবেব সক্রিয় সহযোগীতা দান করেন। ইহা অনস্বীকার্য যে, মজলুম নেতা পূর্বপাক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করিলে বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের অভাবে মুসলিম লীগের চন্ডনীতির আঘাতে সংগঠনের সকল প্রচেষ্টাই বোধহয় দারুণভাবে অপমৃত্যু বরণ করিত। মাওলানা ভাসানী ছিলেন রাজনৈতিক দিগন্তে এক দিক নির্দেশক ‘ধ্রুবতারা’। পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশে এমন কোন শক্তি বা দল বা ব্যক্তি নাই, যিনি বা যারা কোন না কোন সময় মজলুল নেতার ছত্রছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন নাই। সংকটময় প্রতিকূল পরিস্থিতিও আবহাওয়ায় মজলুম নেতা-মাওলানা ভাসানী সকল মত ও পথাবলম্বী রাজনীতিকদের একমাত্র নিরাপদ ও নির্ভরশীল আশ্রয়বস্থান ছিলেন বটে, তবে কেহই তাঁহার নির্দেশিত পথ বা নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নাই স্বীয় মত ও পথের অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হইলেই তাঁহারা অত্যন্ত নগ্নভাবে জাতীয় নেতা মাওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধাচারণ শুরু করিতেন। যদিও খর রৌদ্রতাপে উত্যক্ত পথিকজন সুশীতল ছায়া ভোগ করে, তবুও স্বীয় স্বার্থবুদ্ধি প্রণোদিত ছায়াভোগী মানব সন্তানই ছায়া প্রদানকারী বটবৃক্ষ কর্তনে মোটেও ইতস্ততঃ করে না। জাতীয় নেতা মাওলানা ভাসানীকেও বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় গ্রহীতাদের আক্রমণের শিকারে পরিণত হইতে হইয়াছিল।