কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন সরকার

ফন্ট সাইজ:
     প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর ক্ষমতা খর্ব করিবার প্রয়াসে প্রেসিডেন্ড ইস্কান্দার মীর্জার ইঙ্গিতে সীমান্ত প্রদেশের কংগ্রেস নেতা ডাঃ খান সাহেবের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির অধিকাংশশ সদস্যই রিপালিকান পার্টিতে যোগদান করেন। মুসলিম লীগ সদস্যদের অদ্ভুত আচরণে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্ম্দ আলী মুসলিম লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর পদ হইতে পদত্যাগ করতঃ নেজামে ইসলাম পার্টিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন। 
     চৌদুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করিলে কেন্দ্রে জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রিপাবলিকান কোয়ালিশন মন্ত্রীসভা গঠিত হয় এবং ১২ই সেপ্টেম্বর জনাব সোহরাওয়ার্দী ও তাঁহার মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ শপথ গ্রহণ করেন। জনাব সোহরাওয়ার্দীর ত্বরিত ব্যবস্থার ফলে পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্য সরবরাহ ত্বরান্বিত হয়। ইহার ফলেই পূর্ব পাকিস্তানের খাদ্য সংকট তথা দুর্ভিক্ষবস্থা কৃতিত্বের সহিত মোকাবেলা সম্ভব হয়। আবু হোসেন সরকারের দলীয় সদস্যবর্গ ক্ষমতার উচ্ছিষ্টে গাড়ী, বাড়ী, পারমিট, লাইসেন্স, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারী খাস জমিজমা ইত্যাদি কব্জা করিবার মত জঘন্য কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন বিধায় দুভিক্ষাবস্থা মোকাবেলার দায়িত্ব বেমালুম ভুলিয়া গিয়াছিলেন। অতীব পরিতাপের বিষয় এই যে, মন্ত্রী মেম্বার হইবার পরর্প ঢাকার অভিজাত এলাকায় তাঁহাদের বাড়ীঘর হয়। স্বোপার্জিত আর্থিক সঙ্গতি থাকিলে মন্ত্রী-মেম্বার হইবার পূর্বে এই পর্বটি সমাধা হইতে বাধা কোথায়? মুসলিম লীগ আমলে আমলারা যেইভাবে অবাধ লুটপাট চালাইয়াছিল, তেমনি ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গগনবিদারী আওয়াজ উত্তোলনকারী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার আমলেও আমলারা পুর্ণোদ্যমে ও দ্বিগুণ উৎসাহে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। কালের গতি সহিত দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির এই অভিশাপই জনতার দুঃখভার দ্বিগুণ হারে বর্ধিত করে। ২১ দফার ওয়াদা মন্ত্রী-মেম্বারদের কৃতকর্মে কাগজী-ওয়াদায় পর্যবসিতত হয়। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী মন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর সর্বজনাব আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদ ও খয়রাত হোসেন সংগঠনের সহ-সভাপতি পদ হইতে পদত্যাগ করিলেও, মন্ত্রীপদ গ্রহণ করিয়া শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের পদ হইতে ইস্তফা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। অথচ কতিপয় সাংগঠনিক প্রশ্নে মতভেদ দেখা দেওয়ায় তিনি ১৯৫৬ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদে ইস্তফা দিয়া নিম্লিখিত পত্র দাখিল করেনঃ Phone 3221/134

The East Pakistan Awami League
(Central Office)

56, Simpson Rd, Sadarghat
Dacca 5-9-1956

To

          The president,
         East Pakistan Awami League

Sir,

With due respect I want to inform you that I cannot continue as general Secretary of your organization for my ill health.
I hope that you will treat this letter as my resignation and to accept it as soon as possible otherwise the organization will suffer.

yours sincerely
Sheikh Mujibur Rahman
General ecretary
E. P.A.L

ফোন ৩২২১/১৩৪ 
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ 
কেন্দীয় অফিস
৫৬, সিম্পসসন রোড, সদরঘাট, 
ঢাকা ৫-৯-১৯৫৬
বরাবর
সভাপতি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ 
জনাব, 
যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আপনাকে জানাইতেছি, অসুস্থতার কারণে আমার পক্ষে আপনার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থাকা সম্ভব নয়। আশাকরি, এই পত্রখানাকে আপনি আমার পদত্যাগপত্র হিসাবে বিবেচনা করিয়া যতশীঘ্র সম্ভব গ্রহণ করিবেন, অন্যথায় সংগঠনের ক্ষতি হইবে। 
 
আপনার বিশ্বস্ত 
স্বাঃ শেখ মুজিবুর রহমান 
সাধারণণ সম্পাদক 
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।

 

যেহেতু অন্যায়ের মানসিকতা লইয়াই মন্ত্রীত্বের গদিতে আসীন হইয়া সেইহেতু শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান কর্মীদিগকে অন্যায় প্রশ্রয় দিতে সামান্যতম বিবেক দংশনবোধ করিতেন না। নেতা কর্তৃক অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ ও প্রশ্রয়দানের সচ্চরিত্র আদর্শবাদী একনিষ্ঠ কর্মীকূল কালের বিবর্তনে তহাশা ও নিরাশার শিকারে পরিণত হন। শুধু তাই নয়-পরিশেষে তাহারা ধুণেধরা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংস্থার ও ব্যবস্থা প্রবর্তনের দৃঢ় সংকল্প পরিহার করিতেও বাধ্য হন। এইভাবেই নৈতিক, চারিত্রিক ও মানসিক শক্তি হারাইয়া সরল প্রাণ কর্মীদের সামগ্রিক অবস্থার বিপাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়া পড়িতে হয় এবং অনেক কর্মী লোভ-লালসার বশবর্তী হইয়া সরকারী আনুকূল্য সহজপথে অর্থোপার্জনে আত্মনিয়োগ করেন। দুর্নীতির বিষফণার ছোবল সমগ্র সমাজদেহ বিষে জর্জরিতত হইয়া উঠে। অথচ দুর্নীতিদমন মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই হুঙ্কার ছাড়িতেন যে, তিন পয়সার পোষ্টকার্ডে লিখিয়া জানাইলেই তিনি দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করিবেন। হুঙ্কারের তুবড়ীতে দুর্নীতি কতটুকু মূলোৎপাটিতত হইয়াছে, দেশবাসী উত্তমভাবেই তাহা অবগত আছেন। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় ৩২ নং রোডে নির্মিত তাঁহার তেতলা বাড়ীটি দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার এক দুর্বোধ্য ও বিচিত্র নজীর।