চীনের সহিত সম্পর্ক

ফন্ট সাইজ:

     জনাব সোহরাওয়ার্দী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার অব্যবহিত পর পরই বিশ্বের অন্যতম মহাশক্তি মহাচীনের সহিত সম্পর্কোন্নয়নে মানসে ২২ শে অক্টোবর (১৯৫৬) সরকারী সফরে মহাচীন গমন করেন। ফলে সৌহার্দপূর্ণ পাক-চীন সম্পর্ক গড়িয়া উঠে। মহাচীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন-লাই ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফর করেন। পাকিস্তান সফরকালে চৌ-এন-লাই পূর্ব পাকিস্তানেও আসেন। আমরা পাক- চীন মৈত্রী সমিতির তরফ হইতে ২৯ শে ডিসেম্বর (১৯৫৬) ঢাকার ‘গুলিস্তান সিনেমা হলে’ মহাচীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন-লাই-এর সম্বর্ধনা দান উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করি। সেই সুযোগে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন-লাই এর সহিত আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়। অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা, আমন্ত্রণ ইত্যাদির মোটামুটির দায়িত্ব পাক চীন মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী আমার উপর ন্যস্তা করিয়াছিলেন। সুতরাং সকল প্রকার অপ্রিয় কাজকর্মগুলি আমাকেই সমাধা করিতে হইয়াছিল। গুলিস্তান হলে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের জন্য পূর্ব হতেই আসন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ঢাকা জেলা প্রতিনিধিদের নির্ধারিত আসনে বসিয়া পড়েন। তাঁহাকে বার কয়েক বিনীত অনুরোধ জানাই; কিন্তু দাম্ভিকতার দরুণ তিনি আসন ত্যাগ করিতে সম্মত হন না। তখন বাধ্য হইয়াই বেশ কড় মেজাজে তাঁহাকে আসন ত্যাগ করিতে আদেশ দেই। এইবার ভিজা বিড়ালের ন্যায় তাঁহাকে সেই আদেশ পালন করিতে হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পাক-চীন মৈত্রী সংস্থা (Pak-China Friendship Society) ১৯৫৬ সালের ২রা নভেম্বর টিচার্চ ট্রেনিং কলেজ হলে এক সভার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সভাপতি জনাব আতাউর রহমান খান সম্পাদক ছিলেন জনাব জহুর হোসেন চৌধুরী । সংস্থার প্রথম সভা বাংলা একাডেমীতে (বর্দ্ধমান হাউস) ১৯৫৬ সালের ১৩ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।