ঐক্যবদ্ধ সর্বদলীয় ফ্রন্ট গঠন করতে হবে এটাই সময়ের দাবী -অলি আহাদ

ফন্ট সাইজ:
[১২ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা সভায় জনাব অলি আহাদের ভাষণ]
 
মাননীয় সভাপতি, জননন্দিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবী, শিক্ষবিদ, সমবেত সুধীবৃন্দ ও উদ্যোক্তাবৃন্দ-
 
আস্সালামু আলাইকুম। 
 
আজ আপনারা আমার প্রতি যে ভালবাসা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান দেয়ার সাধ্য আমার নেই। আবেগ আপ্লুত আমি আজ। আপনাদের এই প্রীতির প্রতিদান আমার হৃদয়ের মনিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকবে চিরকাল। আমার প্রতি আপনাদের এই প্রণঢালা ভালবাসা প্রমাণ করে, এ জাতির হৃদয়ের ঐশ্বর্য আজও নিঃশেষিত হয়ে যায়নি। 
 
আজ এখানে দাঁড়িয়ে যতবারই পেছনে ফিরে তাকাই, ততই বিগত দিনের অজস্র স্মৃতি আমার মানসপটে ভেসে উঠছে। কিশোর বয়সে, পরধীনতার নাগপাশে আবদ্ধ স্বজাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার পিপাসা বুকে নিয়ে ’৪০ দশকে যখন রাজনীতির দুর্গম পথের অভিযাত্রায় নিজেকে সমর্পণ করেছিলাম, তখন সমগ্র বিশ্ব ছিল যুদ্ধ ক্লান্ত। এ উপমহাদেশে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্তায়মান। 
 
দল ও মতের পার্থক্য সত্ত্বেও আজ আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের রূপকার শহীদ তিতুমীর, ফকির মজনু শাহ, হাজী শরীয়তুল্লাহ, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নার নেতৃত্বধীন নিখিল ভারত মুসলিম লীগ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বধীন ফরওয়ার্ড ব্লক, নিখিল ভারত কমিউনিষ্ট পার্টি, অগ্রিযুগের বিপ্লবী আন্দোলনের আত্মত্যাগকারী নির্যাতন বরণকারী অগনিত নেতাকর্মী, কথা ও কবিতায় স্বাধিনতার প্রথম উচ্চারণকারী বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রাজনৈতিক মঞ্চে ভারতের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক মওলানা হাসরত মোহানীকে। তাঁরাই আমাদের পথপ্রদর্শক। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমাদের ভাষা সংগ্রাম, স্বাধিকার স্বাধিনতা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন বরণকারী শহীদান, নেতা ও কর্মীদের। আপনারা আমার অনুভূতি জানতে চেয়েছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দীর আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অবিমিশ্র নয়। কখনও আনন্দ, কখনও বিষাদ, কখনো বা ক্ষোভের ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে সময়। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে পদে পদে। দেখেছি ব্যক্তিস্বার্থের হীন যুপকাষ্ঠে জাতীয় স্বার্থ বর্জনের নোংরা খেলা। কপটতা ও ওয়াদা ভঙ্গের এই হীনমন্যতার মধ্যেও আমার দেখেছি অদম্য অনির্বাণ জীবনের দিকে অকুতোভয়ে এগিয়ে গেছে দেশপ্রেমিক জনতা। তারা কিছুতেই পরাভব মানেনি কোথাও। ’৪০ দশকে পশ্চাদপদ মুসলিম জনগোষ্ঠির স্বতন্ত্র আবাস ভূমি পাকিস্তান আন্দোলনের  মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। সেদিন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সবদিক দিয়েই মুসলমানরা ছিল পশ্চাদপদ। তাই আমরা সবাই পাকিস্তান আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। পাকিস্তান আন্দোলনের নেতারা ওয়াদা করেছিলেন পাকিস্তানে খেলাফায়ে রাশেদীনের রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা কায়েম হবে। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিপন্ন বিষ্ময়ে দেখতে পেলাম দূর্নীতি ও ঢাকা ক্লাব কেন্দ্রিক কালচার। সে আশাভঙ্গের বেদন বোঝাতে পারব না। 
 
অনেক মহান পুরুষের একান্ত সান্নিধ্যলাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বাংলার স্বাধীনতার অকুতোভয় সেনাপতি, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চারকন্ঠ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও রেনেসার মর্মবাণীতে অবগাহিত দার্শনিক রাজনীতিবিদ ’৪০ এর দশকে নিখিল বঙ্গ মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশিমের নাম শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি। এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য আমার কিশোর মনে অগ্রসর ও সংগ্রামী চিন্তা চেতনার বীজ বপন করে। 
 
১৯৪৭ সালে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলাম। নেতাজী সুভাষ বসুর অগ্রজ শরৎ বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং আবুল হাশিম ছিলেন এ আন্দোলনের রূপকার। দুর্ভাগ্য গান্ধী-নেহেরু নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস বঙ্গবঙ্গের পক্ষে অর্থাৎ স্বাধীন সার্বভৌম, অখন্ড বঙ্গীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান করে। হিন্দু মহাসভা সম্মেলনে বঙ্গবঙ্গ করে হিন্দুবঙ্গ-মুসলিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠার দাবী তোলেন। গান্ধী ও নেহরু অখন্ড বঙ্গদেশকে খন্ড করার দাবী সমর্থন করে ভারতীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করলেন। পক্ষান্তরে, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গদেশ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে আশীর্বাদ জানান। পরিকল্পনা ছিল স্বাধীন বঙ্গদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন মুসলমান। ১৯৪৭ আগষ্টে ভারত বিভক্ত হল। প্রতিষ্ঠিত হল হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব মোতাবেক একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্থলে একটি রাষ্ট্র (পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠার কারণে আমরা বাঙ্গালীরা ক্ষুব্ধ হই। ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তনের উদ্যোক্তা অধ্যাপক আবুল কাশেম ও অন্যান্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে আবুল হাশিম-সোহরাওয়ার্দী নেতৃত্বাধীন বিপুল সংখ্যক যুব ছাত্র মুসলিম লীগ নেতাকর্মী ঝাঁপিয়ে পড়ে। 
 
’৪৭ থেকে ’৫৪ পর্যন্ত একটানা আন্দোলন করলাম। ক্ষমতাসীন হলো যুক্তফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন সরকার। ওয়াদা ভঙ্গের মহড়া, দূর্নীতিরাহুগ্রস্থ নেতৃত্ব ও সা¤্রাজ্যবাদ আধিপত্যবাদের পদলেহন ছিল এ সরকারগুলোর বৈশিষ্ট্য। করাচী-পিন্ডি কেন্দ্রিক সমরনেতা সিপাহী-হায়েনাদের বিরুদ্ধে সংকটময় মুহুর্তে জেজর জিয়া স্বাধীনতার ডাক দেন- মুক্তিযুদ্ধ হল স্বাধীন সার্বভৌম সকল প্রকার আধিপত্যবাদ মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতান্ত্রিক সংবিধানও রচিত হল। বিমল আনন্দে বুক ভরে গেল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এ কথা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, ভারত মিত্রের ছদ্মবেশে আমাদের ভেতরে ঢুকে পড়েছে বটে, তার আসল অভিলাষ হলো পিন্ডির স্থানে নিজেকে অধিষ্ঠিত করা। সেজন্য তার চাই একটি বিকলাঙ্গ, নতজানু, তাবেদার বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যেই শুরু হল হিন্দুস্থানী ফৌজীদের দেদার লুট ও ভারতে সম্পদ পাচার। দেশের অর্থনীতিতে ধস নামল। সেই সঙ্গে স্বাক্ষরিত হল দিল্লীর সাথে ২৫ সালা দাসত্ব চুক্তি, সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তি ও গঙ্গার পানি ভারতের কাছে তুলে দেওয়ার চুক্তি। ১৯৭৩ সালে সেই দুর্যোগময় মুহূর্তে আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদকে প্রতিহত করার জন্য “ আজাদ বাংলা” কায়েম কর, দিল্লীর দাসত্ব মানি না মানবো না, শপথ নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিলাম। ফল হল কারাবরণ। ১৯৭৫ সালে জেলে বসেই শুনলাম মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী সংবিধানের প্রধানতম স্তম্ভ ‘গণতন্ত্র’ মুচড়ে ফেলে একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছে। শ্লোগান উঠেছে, ‘এক নেতা একদেশ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ। অর্থাৎ এক ব্যক্তির শাসন। জেলে বসে ক্ষোভে বেদনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আবার জেলে বসেই শুনলাম ১৫ই আগষ্টের পট পরিবর্তন। আশা ভঙ্গের বেদনা ভুলতে চেয়েছিলাম।  কিন্তু না, আবারও সামরিক শাসন। রাজনীতির অর্থ আজ কালো টাকার বশ্যতা। হুন্ডা-গুন্ডা আর ডান্ডা আর কালো টাকার দৌরাত্মেই চলে নির্বাচনের মহড়া বা প্রহসন। এ রকম প্রহসনের মধ্য দিয়ে ৯৬ নির্বাচনে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে দিল্লীর সেবাদাসরা। এই সেবাদাসদের একমাত্র কাজ হলো, সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রহিত একটি শ্বাসরুদ্ধকার অবস্থারি মধ্যে নিক্ষেপ করা। সকল অগ্রগতি ও  উন্নয়নের চাকাকে স্তব্ধ করে জাতিকে পরামুখাপেক্ষী হতে বাধ্য করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক লক্ষ্য গুলোকে ভুলুন্ঠিত করে, ষড়যন্ত্রমূলক  ভাবে ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জাতির উদয়াচলকে মলিন করা। আমাদের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিনাশ করে দেশকে আরেকটি সিকিমে পরিণত করা। এজন্যই আমরা যারা দেশকে ভালোবাসি, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা রক্ষার জন্য তাদের একমাত্র কাজ হলো বিভেদ ও বিভ্রান্তিকে পাত্তা না দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। মনে রাখতে হবে, দিল্লীর দাসত্ব-নিগড় থেকে মুক্ত করার সংকল্পে সংগ্রামী ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। যুগপৎ আন্দোলনের নামে দ্বীপে দ্বীপে আন্দোলন করার বিচ্ছিন্ন মনোভাবকে পরিহার করে সমগ্র বিরোধী দলগুলিকে আন্দোলনের সাফল্যের স্বার্থে এক মঞ্চে আসতে হবে। মঞ্চের নাম হতে পারে ন্যাশনাল ফ্রন্ট’। নিম্নলিখিত কর্মসূচী হতে পারে ঐক্যের ভিত্তি-
         (১)পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাতিল (২) ৩০ সালা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিল করে ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে গঙ্গা পানি বন্টন অর্থাৎ ঢাকা-দিল্লী-কাঠমুন্ডু পানি চুক্তি (৩) ভু-পৃষ্ঠস্থ পানি ব্যবহার কল্পে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র বাঁধ নির্মান (৪) নদীর তলদেম খনন (৫) তেল, গ্যাস, কয়লা সহ খনিজ সম্পদ আহরণে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ (৬) দেশকে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় ভারতীয় পণ্য বাজারে পরিণত করার হীন প্রচেষ্টা রোধ (৭) জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে সর্বশক্তি নিয়োগ (৮) সার্ককে জোরদার করার এবং ভারতের সাতটি রাজ্যসহ উপ-আঞ্চলিক জোট তৈরির প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা (৯) দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ (১০) আইন শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস দমন, কঠোরভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ এবং (১১) কোন সরকারী কর্মচারী পদচ্যুত, পদত্যাগ বা স্বাভাবিক ভাবে অবসর গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী দশ বৎসর পর্যন্ত কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। 
 
ইতিহাসের যুগ সন্ধিক্ষণে আজ দাঁড়িয়ে আছি আমরা। জাতীয় অর্থনীতি উন্নত দেশগুলির তুলনায় কয়েক শতাব্দী পেছনে। মুক্তবাজার অর্থনীতির বদৌলতে ঢালাও ভাবে অবাধে বিদেশী পণ্য আমদানীর কারণে দেশীয় কলকারখানা ধবংসোম্মুখ, দেশীয় পুঁজি বিনিয়োগ দ্বিধান্বিত। উপর তলার গুটি কয়েক পুঁজিপতি কোটারী দুর্নীতিবাজ আমলাদের যোগসাজসে জাতীয় অর্থনীতি বিকাশ রোধে সংকল্পবদ্ধ। উদাহরণ সরূপ রাষ্ট্র পর্যায়ে ১৯৭২-৯৮ (২৭ বৎসরে) ভারত-বাংলাদেশ মেয়াদ বৈদেশিক বাণিজ্য ভারত বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্যের একচেটিয়া সংরক্ষিত বাজার। সেবাদাসী সরকার ক্ষমতায়। এমনি ঐতিহাসিক সংকট কালে শ্রদ্ধেয়া দেশনেত্রী আপনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের মধ্যমনি। এখন একমাত্র ভরসা খালেদা জিয়া। আমি দেখি আপনিই একমাত্র ভরসা। এব্যাপারে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই। আপনাকেই উদ্যোগ নিয়ে ১২ই জুন, ১৯৯৬ নির্বাচনের ৬৩% ভোটারের আকাঙ্খা পূরণ করতে আগত সংগ্রামের লক্ষ্যে এক মঞ্চে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ সর্বদলীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করতে হবে, এটাই সময়ের দাবী। 
আমি আমার বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত করব না। আমার জীবন সূর্য আজ পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। কিন্তু আমি জানি জীবন কখনও থেমে থাকে না এবং সম্ভাবনারও কোন শেষ নেই। ৮০ বছর বয়সে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘মহাপ্রলয়ের পর মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের এক নবীন সূর্যোদয় হবে।’ আমার জীবনে সে সূযোদয় আমি দেখে যেতে পারব কিনা জানিনা। কিন্তু এদেশের তরুণ সমাজের কাছে আমি আবেদন জানাব সত্য প্রতিষ্ঠায় আপনারা ব্রতী হউন। হীরন্ময় আশাবাদ নিয়ে আপনারা সত্য ও সুন্দরের অভিযাত্রায় অকুতোভয়ে এগিয়ে চলুন। দেশের আজাদীর ঝান্ডাকে উড্ডীন রাখুন। কেবল মন্ত্রীত্বের জন্য রাজনীতি করবেন না, নব ইতিহাস সৃষ্টির দনির্বার প্রেরণায় এগিয়ে চলুন। পবিত্র হোক আপনাদের অভিযাত্রা। সুন্দর ও দীপ্ত হোক আপনাদের আত্মপ্রকাশ।
আজকের উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করবো না। আমার কাছে হয়ত আপনাদের প্রত্যাশা অনেক কিন্তু সাধ্য আমার সীমিত। তবুও দৃঢ়তার সাথে বলব, আমার যা দেবার তা দিতে দ্বিধা করব না। কোন দিন দ্বিধা করিনি। জীবনে কি পেয়েছি কি পাইনি এ হিসাব আমি কোন দিন করিনি।  যা কিছু সত্য, সুন্দর ও ন্যায় বলে জেনেছি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারই জন্য করেছি সর্বস্বপণ। সেজন্য আজ যখন জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে তাকাই তখন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি। না, মালিন্য কোথাও নেই। গ্লানিকর কিছু কোথাও নেই। সেজন্য আশা হয়, যখন পরম সত্তার মাঝে বিলীন হয়ে যাবে আমার অস্তিত্ব, তখন নিশ্চয়ই এই প্রসন্নতার ছটাটুকু লেগে থাকবে আমার অবয়বে।  যদি তা থাকে তাতেই আমি ধন্য। পরিশেষে বলি বাংলাদেশ চিরকালের সংগ্রামের দেশ। বাংলাদেশকে জন্ম দিতে হয়েছে সংগ্রামের মদ্য দিয়ে। বাচঁতে হবে সংগ্রাম করে। সেই সংগ্রামের তরবারীতে যেন কখনও মরিচা না ধরে। আর কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন-
“সত্য-মুক্তি স্বাধীন জীবন লক্ষ্য শুধু যাদের 
দেশের তরে প্রাণ দিতে আজ ডাক পড়েছে তাদের ”
 
আপনাদের ধন্যবাদ
খোদা হাফেজ।