কালের পাতায় কালাধার -আল মুজাহিদী

ফন্ট সাইজ:
অলি আহাদ আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির একটি ইতিহাস স্পর্শী নাম। যিনি নিজেই তাঁর অস্তিত্ব উৎকীর্ণ করেছেন কালের অমোঘ এপিটাফে। তিনি তাঁর অস্তিত্বের ভাষা উচ্চারণ করেছেন আত্মগত একটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

The man who does not try to raise his spirit above itself, is not worthy to live in the condition of a man.”-Angelus Silesius“

একজন কৃষক হাল চাষ করে জমিতে বীজ ফেলে শস্যকণা উৎপাদন করে। জীবন নামের জমিটাতে, ঠিক তেমনি প্রতিদিন নিরন্তন নানা বীজকণা বপন করেই মানবিক ফসল ফলাতে হয়। জীবন একটি বিশাল শস্যক্ষেত্র। এই ঊর্বর ভূমিতে মানুষ যে বীজকণা বোনে, বিপুল সৃষ্টিশীলতায় যখন সেটা বিকশিত হয়ে উঠতে পারে, সেখানেই মানুষের অবদান মূর্ত হয়ে ওঠে। আমরা জানি, মানব- জীবন যদিও সময়ের সংক্ষীপ্ত মুহূর্তে সীমাবদ্ধ, তাই বলে সেটা এমনিতেই নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপার নয়। জীবনের মধ্যে গতি, বেগ, অফুরন্ত শক্তি থাকে। এই গতি, বেগ এবং শক্তির সমন্বয়ে জীবন স্পন্দিত হয়, প্রবাহিত হয় সমুদ্রের জলরাশির মতো। আমাদের ভেতরের শক্তিকে বাইরের বাস্তবের ধুলোবালি মাড়িয়ে ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে থাকে। এখানেই জীবনের  ধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।

প্রকৃতির মতো মানব জীবনের একটি বিচিত্র ছককাটা নক্শা আছে। এ নকশাটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আবর্তিত, বিবর্তিত এবং বিভাসিত হতে থাকে। এই আবর্তন, বিবর্তন ও বিভাসন মানব অস্তিত্বের মূলসূত্র এবং বিশ্বপ্রকৃতির রহস্য নিয়ে ক্রমাগত নির্ধারণ করে চলে। শৃগাল- স্বভাবের মানুষও শৃগালের মতো মৃত্যুবরণ করতে চায় না। মহত্তর কিংবা মহত্তম । ভবিষ্যৎই  মানুষের কাম্য। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেনঃ
“জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানে জীবন সত্য। অমৃত না থাক জীবনে মধু আছে।” জীবনের শস্যক্ষেত্রে অনেক খড়- বিচালি জন্মাবে, অনেক বিষকাটালিও ফলবে কিন্তু সেগুলো কেটে ফেলে, ঝেঁটিয়ে, বহুদূরে নিক্ষেপ করতে হয়। সোনালী ফসলটুকু সময়ের কুটিল গর্ভ থেকে তুলে আনতে হয়; এটাই তো জীবন। পৃথিবীর সকল দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সংঘর্ষের ওপর পা তুলে দাঁড়াতে হয়. পাথরে পাথর ঘষে, আগুনের ফুলকি ছড়াতে হয়। আবার ঐ আগুনের ফুলকির তাত বহন করে নিয়ে যেতে হয় বহুদূর। মায়া- মরিচীকা দেখেতো জীবনের কোন স্বার্থকতা নেই। জীবনের ধর্ম হলো সংগ্রাম। সংগ্রামের রক্তফুল্লধারা ব’য়ে চলে অবিরাম, নিরন্তর। সংগ্রামের রক্তচিহ্ন ছাড়া জীবনের স্বাক্ষর রাখা সম্ভবপর নয়। মানব জীবন থেকে যখন সংগ্রাম নির্বাসিত হয়, জীবন তখন স্তব্ধ হয়ে যায়, অন্ধকার রাত্রির সরোবরের মতো। জীবনের ধর্মনীতি ঘা মেরে, রক্তের ফিন্কি ছোটাতে হয়, এ না হলে মানুষ বেঁচে থাকেতে পারে না। এজন্যই বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন, ‘মনুষ্যজীবন প্রকৃতির সঙ্গে দীর্ঘ সমর মাত্র’। যাযাবর তাঁর ‘দৃষ্টিপাত’ গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘পলিটিক্সের মতো মানুষের জীবনও হচ্ছে এ্যাডজাস্টমেন্ট আর কম্প্রোমাইজ’।
কিন্তু মানবসংসারে অনেকের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। কেউ কেউ এ্যাডজাস্টমেন্ট করেন, কিন্তু কম্প্রোমাইজ করেন না। এই আপোষ না করার স্বভাবের সত্তা থেকে কতোবার কত সময়ই না ম্যাল এ্যাডজাস্টমেন্ট ঘটে। আমাদের সমাজ- জীবনে, বিশেষ করে রাজনীতি অঙ্গনে এরকম ব্যতিক্রমের সাক্ষাত ঘটে। জনাব অলি আহাদ সেই ব্যতিক্রমেরই উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাঙালি তার জাতিসত্তার গৌরবে গৌরবান্বিত প্রভূত প্রাণবন্ত। তবে এটা লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জাতিদাম্ভিকতা কিংবা অন্তর্হিমিকা যেন কখনো আমাদের পেয়ে না বসে। প্রাণের বিনিময়ে আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রাণের ভাষা, জন্মভাষা বাংলাকে। আর লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করেছি বাংলার স্বাধীনতাকে। এই ভাষা ও স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা সংগ্রামী সেই সব অগ্নিমান পুরুষদেরকে আমাদের ইতিহাসের পাতায় উৎকীর্ণ করে রাখতে হবে। আমাদের হাজার বছরের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জন করেছে- এর পটভূমিতে রয়েছেন এই মহান সংগ্রামী পুরুষেরা। জীবন দিয়ে হলেও এই ভাষা সংস্কৃতিকে আরও অস্তিমান আরও প্রাগ্রসর করে তোলার জন্যে আমাদেরকে হতে হবে অধিকতর ইতিহাস প্রাণ। কালের পাতা বিস্তার করে কালাধার রচনা করা যায়। এটাই প্রাগ্রসর জাতির পক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়। সততাকে হাতিয়ার করে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে।
একুশে ফেব্রুয়ারী, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্বাক্ষরিত দিন। এই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মহান সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে যোজিত একটি নাম, অলি আহাদ। বাঙালি জাতির মহান ভাষা- সংগ্রামের সঙ্গে এ নামটি জড়িত অতোপ্রতো, একান্তভাবে। এটা, সর্বজন বিদিত যে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সংগ্রামের ইতিহাসে এ এক অবিস্মরণীয় নাম। আমাদের রাষ্ট্রভাষা ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের ইতিহাস থেকে এ নামটিকে কেউ কখনো মুছে ফেলতে পারবে না। একুশে ফেব্রুয়ারীতে মাতৃভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আত্মদান করেছেন- রফিক, সালাম, আবুল বরকত জব্বার শফিউর রহমান আগুনের ফুলকির মতো প্রজ্জ্বলন, কটি নাম। এই ইতিহাস আজ সারা পৃথিবী ও পৃথিবীবাসীর জানা- অধীত বিষয়। যাঁরা এই মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও সংগ্রামের পুরোধাপুরুষ, স্থপতিপুরুষ, আগ্নেয়পুরুষ, তাঁদের কথাও সমগ্র পৃথিবী শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং কৃতজ্ঞ চিত্তে চিরকাল স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। সময়ের বিবর্তনিক ধারায় আমাদের ইতিহাসের পাতাগুলো ক্রমাগত জ্বলজ্বল করছে। অন্ধকারে কালো দানবতো আমাদের ভাষার অস্তিত্ব, মাতৃসম মহান বাংলা বর্ণমালার মহিমাকে একটুও ম্লান করতে পারেনি। মহান স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ উপঢৌকন এই ভাষা, মাতৃভাষা। জনাব অলি আহাদ বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির গ্যালাক্সির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র- পুরুষ। তিনি রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনের একজন মহান সমরবিদ, অনন্য স্ট্র্যাটেজিসিয়ান। অনন্য সাধারণ কৌশলবিদ। অলি আহাদ তাঁর অন্যান্য সহযাত্রীদের সঙ্গে রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন ও সংগ্রামকে যৌক্তিক পরিণতি এবং একটি সফল মাত্রায় পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানেই অলি আহাদ কীর্তিমান এবং জীবন- যুদ্ধের সফল যোদ্ধা। ভাষা সৈনিক। জীবন্ত জীবন সৈনিক।
এই এতো বড়ো মাপের জাতীয় ব্যক্তিত্ব- কিন্তু তাঁর তেমন কোন উল্লেখযোগ্য মূল্যায়ন হলো না আজ অব্দি, এটা তাঁর পক্ষে যেমন মর্মপীড়ার ব্যাপার আমাদের পক্ষেও যে কতোটা লজ্জাকর বিষয় সেটা আমরা ভেবে দেখতেও পারলাম না। এতোটা আত্মবিস্মৃতি কোনো সমাজ ও জাতির জন্যে কখনোই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। অলি আহাদ সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দীকাল জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচিত্র, বর্ণাঢ্য ভূমিকা পালন করে এসেছেন। এটা বলাই বাহুল্য। তিনি কখনো কোন অপশক্তির সাথে আপোষ করতে যাননি। মাথা নত করেননি অন্ধদানবের সামনে। বরং বীরের মতো মাথা উঁচু করে লড়াই করে গিয়েছেন সমস্ত স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর এই সংগ্রামের অধ্যায়গুলো জাতি ও দেশবাসীর কাছে অজানা নয়। কিন্তু যারা সমাজের  কিংবা দেশের ভালোমন্দের, শুভাশুভের কলকাঠি নাড়েন তারা কখনোই তাঁর কৃতি ও অবদানের কথা মূল্যায়ন করতে প্রয়াস করেন নি। এখনেই আমাদের আপসোস। প্রচন্ড ঘৃণা এবং অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হই আমরা। তখন ধিক্কার সেই সমাজের প্রতি। মানব- জীবন যখন দ্বন্দ, সংগাত, সংঘর্ষ, ঝঞ্চা- বাজার মুখোমুখি হয়- আগুনের হলকার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয় তখন জীবন গতিষ্মান থাকে নানা ধারায়, নানা মাত্রায়। আমরা জীবনকে বদ্ধ দরোজার ভেতরে কখনই ফেলে রাখতে পারি না। সংগ্রামের সাতত্যে জীবন নামের বিহঙ্গটাকে মুক্তি দিতে হয় দিগন্তের ওপারে।
"Nothing except a battle lost can be half so melancholy as a battle won.” [Duke of Welligton] 
জীবনযুদ্ধে অংশ নেয়াটাই বড়ো কথা। কখন, কতোটা জয়ী হতে পারা যাবে সেই যুদ্ধে সেটা বড়ো কথা নয়। তবে বিজয়ের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারকে যিনি রুপদান করতে পারেন বাস্তবে, তিনিই বড়ো রুপকার। জীবন ক্যানভাসের মহান চিত্রকর। মহান শিল্পি। জীবন সংগ্রামের সেই শিল্পের সার্থক চিত্র তিনিই।
"A fool is a man who never tried an experiment in his life.’  [Erasmus Darwin 1731-1802]
মানব জীবনে সংগ্রামের মধ্যেই সমস্ত পরিক্ষা নিরীক্ষা নিয়ত বিদ্যমান। যেখানে এই সংগ্রামের পরিক্ষা নিরীক্ষা নেই সেখানে জীবন কখনো জাজ্জ্বল্যমান, মূর্ত হয়ে ওঠে না। জীবনের জীবন্ত, উজ্জ্বল শিখা জ্বলে ওঠে না। নির্বোধেরা জগতের ভাটির স্রোতের খড়খুটোর মতোই ভেসে যেতে থাকে। অলি আহাদ উজান স্রোতের ধারায় সতত চলমান বিপরীত স্রোতের ধারায় ভ্রাম্যমান মানুষ। এখানেই অলি আহাদের ব্যতিক্রম ধর্মীতা স্পষ্ট প্রতীয়মান। সেকারণেই অলি আহাদ চিরকাল জীবন সংগ্রামী- জীবন সমুদ্রের এক মহাসংগ্রামী নাবিক।
অলি আহাদ ভাইয়ের সংগে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। কম করে হলেও সাড়ে চার দশক কাল হবে। কখন, কোথায়, কিভাবে পরিচয় সূত্রটা হয়েছিল, এই মুহূর্তে অতোটা স্বরণ করতে পারছি না। তবে আমার বালক বয়স থেকেই তাঁর নাম শুনতে থাকি। ১৯৫২ সালের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তাঁর নাম খবরের কাগজের পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো প্রায় দিনই। এই মহান ভাষা সৈনিক আমার স্মৃতিকে উদ্দীপ্ত করতো। যেদিন প্রথম দেখা হয় তাঁর পরনে ছিলো খদ্দরের পাঞ্জাবী, ওয়েস্ট কোট, পাজামা। এই দীপ্ত পুরুষকে দেখেই মুগ্ধ হই। তাঁর দু চোখের পাতা ছেপে কিরকম বিদ্যুৎ কণা ছড়াচ্ছিলো। আবার কেমন স্বভাব সুলভ স্নেহাদ্র, হার্দিক উচ্চারণে কথামালা, কুশলবার্তা বিনিময় করেছিলেন তিনি। অলি আহাদ সারাজীবনই এই মানবীয় ঘরানার দোলাচলে আন্দোলিত হয়ে আসছেন। এখানে আমি কখনো কোনো ব্যত্যয় রেখা খুঁজে পাইনি। তারপর তাঁর সাথে সম্পর্কের ‘মাত্রা’ সুদৃঢ় হয়েছে দিন দিন। সে সম্পর্কে আজও টিকে আছে নিবিড় বন্ধনে। এক সঙ্গে রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছি। মরহুম আতাউর রহমান খান, মিসেস আমেনা বেগম, শাহ আজিজুর রহমান, অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম, বগুড়ার বি.এম. ইলিয়াস, ইকবাল আনসারী খান, ফেরদৌস কোরেশী, জিয়াউল হক, রিয়াজ আহমেদ, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আবদুল মান্নান খান, কায়সার রিয়াজুল হক, তারেক ফজলুর রহমান, শামিম আল মামুন, কামালুর রহিম, মোতালেব ভূঁইয়া, ইব্রাহিম রহমান, এহসানুল হক সেলিম এবং আরো অনেকে মিলে ‘আমরা’ রাজনৈতিক অঙ্গনে কর্মকান্ড করেছি। বাংলার স্বায়ত্বশাসন, স্বাধীকার আন্দোলন, সর্বাত্মক আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকারের কথা উচ্চকিত করেছি। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে- সর্বদলীয়ভাবে স্বাধীনতার কথা বলেছি পল্টন ময়দানে। মাওলানা সাহেব পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার প্রতিভূদের “আসসালামু আলাইকুম” শুনিয়ে দিয়েছিলেন সকলের আগে ইথারের ঝংকার ধ্বনিতে। ইতিহাস কি আমাদের সংগ্রামের এই মহান অধ্যায়টিকে নির্বোধের মতো বিস্মৃত হয়ে থাকবে ? আজ এই লেখাটি আমি সমাপ্তি করার পূর্বে আমি অলি আহাদ ভাইকে জিজ্ঞেস ক’রে রাখতে চাই, ‘নেতা বলুন, ইতিহাস এই অগ্নি- ঘোষণার মহান ইশতেহার পাঠের ধারা ক্রশটি কি বেমালুম বিস্মৃত হয়ে থাকবে ? একটা উদার, মানবিক, ইতিহাস মনস্ক উত্তর প্রত্যাশা করি আপনার কাছ থেকে। জানি, এই মুহূর্তে আপনি হয়তো কোনো জবাবই দেবেন না অভিমান করে। কিংবা বলবেন, ইতিহাসই সাক্ষ্য দেবে এসব কিছুরই’।
কখনো কখনো ইতিহাস লিখতে গিয়ে মিথ্যা তত্ত্ব- তথ্যে, ঘটনা পঞ্জির সন্নিবেশ ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতাকে কলংকিত করে ফেলে হঠকারী ইতিহাস লিখিয়েরা। কিন্তু তাই বলে, সত্যকে মিথ্যা বলে দীর্ঘকাল চাপিয়ে রাখা যায় না। একদিন না একদিন সত্যই ইতিহাসের শীর্ষচূড়া স্পর্শ করে। মানবাত্মার সংগে গ্রথিত হয়। এটাই ইতিহাসের চূড়ান্ত পরিণতি।
আমরা এটা লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের ইতিহাস রচনার ইতিহাসটি নানা ভ্রান্তির মোড়কে মৈত্রেয়। এটা যে আমাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠি চেতনার কলংক তিলক, এতে কোনো সন্দেহ-ই নাই। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের যথার্থ মূল্যায়ন করে। জীবন সংগ্রামের সফলাতার শিরোপা পরিচয় দিতে হবে তাদের শির দেশে। অলি আহাদ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের তেমনি এক ইতিবাচক সংগ্রামী পুরুষ- তাঁর অগ্নিময় চরিত্রের চালচিত্র ধারণ করতে হবে কালের পাতায় স্থায়ী ভাবে এবং সম্পূর্ণ অবয়বে। আর এটা আমাদের জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন। ইতিহাসের শিরোচ্ছেদ কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।
[আল মুজাহিদীঃ বিশিষ্ট কবি, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক।]