একুশ ফেব্রুয়ারী থেকে ছাব্বিশ মার্চ ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো করে লেখা যায় না কি -নির্মল সেন

ফন্ট সাইজ:

ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো করে লিখলে কেমন হয়? প্রশ্নটি অনেকের কাছে অবান্তর মনে হবে। বলবেন, ইতিহাস তো ইতিহাসের মতো করেই লেখা হয়। নইলে তো আর ইতিহাস হয় না। একথা মেনে নিয়েই আমি বলছি- আমাদের দেশে ইতিহাস লেখা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি এবং সংশয় আছে। সবাই বলছি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। তারপর নিজে যা লিখছি, তাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। এ ব্যাপারে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি মন্তব্য আছে। তিনি তার এক লেখায় Time অর্থাৎ সময়ের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সময় হচ্ছে ঘটনার কথামালা। আমরা যদি এমনি করে নিজের মনের মাধুরী না মিশিয়ে ঘটনার কথামালা লিখতাম তাহলে নিশ্চয়ই ইতিহাস বিকৃতির জন্য প্রায় প্রত্যেকেই অভিযুক্ত হতাম না। 

একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গেই আজ কথাগুলো লিখছি। দীর্ঘদিন ধরে এমন একটা কিছু লেখার কথা ভাবছিলাম। বার বার লক্ষ্য করছি বিশেষ করে শহীদ দিবস- ২১ ফেব্রুয়ারী ও ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে আমরা একমত হতে পারছি না। একমত না হওয়া অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। কিন্তু কেউ যেন অপরকে শ্রদ্ধা করতে পারছি না। প্রায়ই অবাঞ্ছিত বাক্য ব্যবহার করছি। 
প্রথম ২১ ফেব্রুয়ারির কথায়ই আসা যাক। দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা কী ছিল। আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কি-না? অনেকের লেখা পড়লে মনে হয়, তিনিই আড়াল থেকে সবকিছু করেছেন। আবার কেউ এমনভাবে লেখেন যে, শেখ সাহেবের কোন ভূমিকাই ছিল না। কিন্তু একথা কি সত্য যে, আর অনেকের মতো ১৯৪৮ সাল থেকে এই ভাষা আন্দোলনে শেখ সাহেবের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল? ১৯৪৯ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভূক্ত কর্মচারীদের আন্দোলনে নেমে গেলেন। তিনি জেলে বসেই আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন। এ ধরনের ঘটনা নিশ্বয়ই হঠাৎ করে ঘটে না। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে- কোন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কেউ সবকিছু বলেন না। অন্য সবাই যদি শেখ সাহেবের মতোই হতেন তাহলে তাদের মধ্যে কেউ হয়তো জেলখানায় বসে আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক হতেন। তা কিন্তু হননি। আবার যারা শেখ সাহেবকে বড় করার জন্য লেখেন যে, তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের স্রষ্টা ছিলেন বা সবচেয়ে বড় নেতা ছিলেন, তারা কেউই উল্লেখ করেন না যে ওই ছাত্রলীগের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন জনাব নইমুদ্দিন। ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম। ১৯৪৯ সালের জুন মাসে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম। এই বছর খানেকের মধ্যে শেখ সাহেব আবার জেলেও ছিলেন। তাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের স্রষ্টা বা বড় নেতা হওয়ার সুযোগ কখন পেলেন? সেই কথাটা কেউ ভেবে দেখতে চান না। যারা আবার শেখ সাহেবকে জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগের বড় নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করতে চান তারা তাদের লেখায় উল্লেখ করেন না যে, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জনাব শামসুল হক। তিন নম্বর নেতা ছিলেন জনাব শেখ মুজিবুর রহমান। 
এই ইতিহাস লিখতে হলে বিভাগ পূর্ব মুসলিম লীগের রাজনীতির উল্লেখ করতে হবে। মোটামুটি ভাবে তখন তিনটি ধারা মুসলিম লেিগ বিরাজ করত। একটি খাজা নাজিমুদ্দিন, দ্বিতীয়টি শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং তৃতীয়টির নেতা ছিলেন জনাব আবুল হাশিম। সেকালে ছাত্র-যুবকদের মধ্যে আবুল হাশিমের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। নাজিমুদ্দিন বিরোধী রাজনীতিতে সেকালে আওয়ামী লীগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রুপ ও আবুল হাশিম গ্রুপের ঐক্য হয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগে। ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন আবুল হাশিম গ্রুপের জনাব শামসুল হক। আর যগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রুপের জনাব শেখ মুজিবুর রহমান। এই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের রাজনীতির একটি ধারা পাওয়া যায়। সেই ধারায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সঠিকভাবে বিচার করা যায় শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা। সেই ভূমিকা নিশ্চয়ই আদৌ তুচ্ছ করার মতো নয়। ইতিহাসের এই পর্বে কোন সংগ্রাম বা আন্দোলনে শেখ মুজিবুুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন না। 
প্রশ্ন ওঠে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে। বলা হয় তিনি তখন আড়ালে থেকে সবকিছুই পরিচালনা করেছেন। তিনি তখন জেলখানায় থেকেও যে সক্রিয় ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সব কিছুই তিনি পরিচালনা করেছেন- একথা বললে কিছুটা বাড়াবাড়ি হয় বৈকি। তিনি ও জনাব মহিউদ্দিন আহমদ তখন ঢাকা জেলে ছিলেন। আমিও ঢাকা জেলের অন্য ওয়ার্ডে ছিলাম। তারা দুজনে মুক্তির জন্য অনশন করলে, তাদের ভিন্ন জেলে বদলি করা হয়। যে কোন প্রবন্ধকার বা লেখক নিশ্চয়ই তাদের তৎকালীন সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হবেন। সেখানে বাড়াবাড়ির অবকাশ একান্তই কম। তবে আমি ভিন্নভাবেও এ প্রশ্নটির মূল্যায়ন করি। 
প্রশ্নটি হচ্ছে জেলে থাকা। আমার ধারণা, আমার জেলে থাকাও একটি রাজনৈতিক অস্তিত্ব। সেই অস্তিত্ব নিশ্চয়ই বাইরের রাজনীতিকে অনুপ্রাণিত করে এবং জেলখানায় থেকে আমি যতটুকু ভূমিকাই পালন করি না কেন, আমি নিশ্চয়ই আশা করব যে, আমার বন্ধুরা আমার সে ভূমিকাকে গুরুত্ব দেবে এবং কোনক্রমেই খাটো করে দেখার চেষ্টা করবে না। আমার দুঃখ হচ্ছে, শেখ সাহেবের ভূমিকা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে এখানে অনেকেই যেন কার্পণ্য করেন। আর শেখ সাহেবের সমর্থক বলে যারা প্রায় চামচার ভূমিকায় নেমেছেন তারা প্রায় প্রতি বছর সংবাদপত্র, বেতার এবং টেলিভিশনে বাড়াবাড়ি করে এই মানুষটিকে হত্যা করেন নির্দ্বিধায়। এবারও তাই-যে লক্ষ্য করেছি। একদল তাকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের একমাত্র নেতা বানানোর চেষ্টা করেছে, অপর দল তাকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেকালের ইতিহাস তো একথা বলে না। তাই আমার প্রশ্ন- সেকালের যতটুকু ইতিহাস আমরা জানি সে ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান আছে সে অবদানের স্বীকৃতি দিলেই তো একমাত্র অবিকৃত ইতিহাস পাওয়া যায়, তাই নয় কি? ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক আর একটি ক্ষেত্রে বেদনার কারণ হয়। আমি তখন জেলে। জেলখানায় যতটুকু খবর পেতাম, তাতে শুনেছিলাম সেকালে ভাষা আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন জনাব অলি আহাদ। জেলখানায় থেকে যতদর শূনেছি, জনাব অলি আহাদ বি.কম পরীক্ষয় প্রথম হয়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতির জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জনাব অলি আহাদ সাবেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও অনেকে এখন লেখালেখি করেন, অনেকে সাক্ষাৎকার দেন, তারা সবাই সযত্নে অলি আহাদের নামটা এড়িয়ে যান। এরাই আবার ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক শিক্ষক ছিলেন। রসায়ন বিভাগের জনাব নূরুল হক ভূঁইয়া। শুনেছি তিনি নাকি একসময় ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম কমিটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ছিলেন। জেলে যাওয়ার আগে এবং পরে সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা পড়েছি। কখনও কখনও মনে হত সৈনিক পত্রিকাই বুঝি ভাষা আন্দোলনের একমাত্র মুখপত্র। আমরা যারা আজকে লেখালেখি করি, তাদের অনেকের সঙ্গে সেদিনের সৈনিক পত্রিকার নেতাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন একদম বিপরীত মেরুতে। তাই কোন পক্ষই অন্য পক্ষের ভূমিকার গুরুত্ব দিতে চাই না। সবার বক্তব্য রাজনৈতিক এবং একপেশে। অর্থাৎ সত্যিকারের ইতিহাস একেবারেই অনুপস্থিত। কিন্তু ইতিহাস তো এভাবে লেখা হয় না। সিরাজ-উদ-দৌলা বা মীরজাফর কাউকেই কিন্তু বাংলার ইতিহাস থেকে বাদ দেয়া যায় না। বাদ দিতে গেলে পুরো ইতিহাস নয় খণ্ডিত ইতিহাস লেখা হয়। আমার এ বক্তব্য সঠিক নয় কি?
আমরা একই সংকটের সম্মুখীন হই স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে। ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৩০ বছর কেটে যাচ্ছে, হয়তো এবার আর স্বাধীনতার ঘোষকের বিতর্কটা হবে না। কিন্তু আমার প্রত্যাশা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ রাতে জাতির পিতা বাঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা বেতারে পাঠ করেছিলেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জনাব আবদুল হান্নান। সুতরাং শেখ সাহেবই স্বাধীনতার ঘোষক। কোন মেজর নয়। 
এব্যাপারে আমি মতানৈক্য করছি না। কিন্তু এটাও সত্য যে, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমি নিজের কানে ঘোষণাও শুনেছিলাম। এর আগে আমি আমাদের ডাক ঘরে শেখ সাহেবের ঘোষণাটি পড়েছি। আবার ২৭ মার্চ মেজর জিয়ার ঘোষণাটাও কানে শুনেছি। মেজর জিয়ার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল। একটি গণ্ডগ্রামে সেই ঘোষণা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমাকে অনুপ্রাণিত করার ঘটনাটি নিশ্চয়ই মিথ্যা নয়। আর এই ঘোষণাটি সে মুহুর্তে আমার কাছে নিশ্চয়ই মহামূল্যবান ছিল। পরবর্তী কালে আওয়ামী লীগের নেতাদের কথাবার্তায় এই ঘোষণার যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছি। জানতে পেরেছি সেদিন যারা চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্রে ছিলেন, যারা বেতার কেন্দ্রে মেজর জিয়াকে দিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তারা একটি নির্ধারিত কৌশল অবলম্বনের জন্যই সামরিক বাহিনীর একজন মেজরকে দিয়ে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং একথাও সত্য যে, সামরিক বাহিনীর একজন মেজর এই ঘোষণা দেয়ায় একটি ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল তাহলে সামরিক বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে এবং আমরা এ যুদ্ধে জিতবই। 
আমার কাছে এইটুকু পর্যন্তই সেদিনের মেজর জিয়ার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছুতেই উপেক্ষা করার মতো নয়। এবং মেজর জিয়ার ঘোষণাও শেখ সাহেবের নেতৃত্ব 
মেনে নিয়েই অর্থবহ হয়। মেজর জিয়াও তার পরবর্তী ঘোষণায় শেখ সাহেবের নাম উচ্চারণ করেছেন। শেখ সাহেবের নাম যেমন বাদ দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না, আর সে প্রচেষ্টাও মেজর জিয়া করেননি। আজকে যারা মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার একমাত্র ঘোষক বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, আমার মতে তারা স্বাধীনতার ঘোষণার মর্মার্থ বোঝার কোনদিন চেষ্টা করেননি। স্বাধীনতার ঘোষনা কোন অর্থেই একটি একক কর্মকাণ্ড নয়। এটা আকাশ থেকে পড়া নয়। এর অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ থাকে। তাই স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধের গতি-প্রগতি, একটি সরকার এবং একটি কাঠামোর প্রশ্নও জরুরি হওয় ওঠে। জরুরি হয়ে ওঠে এই ঘোষণা বাস্তবায়নের বাস্তব দিকটি। সেই ক্ষেত্রে সেকালের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণা অনেক অর্থবহ। ওই ঘোষণার সঙ্গে তার নাজ জড়িত থাকলেই একটি দল এবং একাটি কাঠামোর কথা সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারিত হয়। সে কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব সেই দলটির ওপর পড়ে এবং একথা স্পষ্ট যে, সেদিন কোন ঘোষণাই কাজে আসত না যদি সেদিন স্বাধীন বাংলা সরকার গঠিত না হতো। আর ওই সরকারের নেতৃত্ব কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের। বাস্তব কারণেই মেজর জিয়ার নয়। তাই যারা মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার  স্বাধীনতার একমাত্র ঘোষক বলে আজও দাবি করেন, আমার মনে হয় তারা এ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন না। শেখ সাহেব- তার ব্যক্তিত্ব, তার নেতৃত্ব এবং তার সংগঠনকে বাদ দিয়ে ১৯৭১ সালে কোন কিছুই চিন্তা করার অবকাশ ছিল না। সেখানে একটি ঐতিহাসিক মুহুর্তে জিয়াউর রহমান যে ভূমিকা পালন করেছেন সে জন্য তার প্রাপ্য মর্যাদা তাকে দিতেই হবে এবং সে দিক থেকে জিয়াউর রহমানের সেই ঘোষণা নিশ্চয়ই ইতিহাসের অঙ্গ। 
তাই আমি মনে করি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিকৃত ইতিহাস লিখতে হলে শেখ সাহেবের ২৬ মার্চের ঘোষণা এবং জিয়াউর রহমানের ২৭ মার্চের ঘোষণা-এর কোনটাকেই বাদ দেয়া যাবে না। বাদ দেয়া হবে মিথ্যাচার। অথচ আমরা এই কাজটিই করছি। এই দুটি ঘটনাকে এক প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা হচ্ছে না। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে দলবাজির ইতিহাস। 
কিন্তু কোন দল বা নেতার ইতিহাস তো কোন দেশের ইতিহাস হতে পারে না। 
[ নির্মল সেনঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক, বাম রাজনীতিক। উপরোক্ত নিবন্ধটি ১২ এপ্রিল ২০০০ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত হয়।]