অলি আহাদের রাজনীতি ভিন্ন মতাবলম্বীর দৃষ্টিতে -শফিকুল আজিজ মুকুল

ফন্ট সাইজ:
এই তো সেদিন নির্বাচন হলো। কোন কোন আসনের স্থগিত কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন এখনো বাকী। কেন সে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে আর কেনই বা এধরনের অন্যান্য আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে না সে ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও সারা দেশে কারা সন্ত্রাস ও গুণ্ডামির মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, তা নিয়ে কারো মনে কোন দ্বিধা নেই। এটা কোন ঘরোয়া ব্যাপার নয় যে, চার দেয়ালের ভিতর তা সীমাবদ্ধ ছিল। সারা দেশের ভোট কেন্দ্রগুলোতে, স্কুলে, কলেচে, মক্তবে, মাদ্রাসায়, এমনকি প্রকাশ্য রাজপথেই সেই লুণ্ঠন কাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসাধারণ তা দেখেছে এবং অবাক বিস্ময়ে দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কে নিতান্ত হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরেছে। 
এবারই যে প্রথম এধরনের নির্বাচন হলো-তাও নয়। সামরিক শাসনের অধীনে এর আগেও একটা নির্বাচন হয়েছে। তফাৎ শুধু সংঘাত, সংঘর্ষ ও কারচুপির সকল রেকর্ড এবারের নির্বাচন ম্লান করে দিয়েছে। এবারের এই নির্বাচনের মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেবার চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে। সরকারী দলের প্রার্থী ছিলেন কর্ণেল অলি। ট্রাকে ট্রাকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তখন ঘুরে বেড়িয়েছে তার নির্বাচনী এলাকায়। ভোটারদেরই শুধু নয়, এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে বিরোধী দলের প্রবীণ নেতৃবৃন্দকে। হাইজ্যাক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের এলাকা থেকে অনেক দূূরে। দেশী-বিদেশী পত্র পত্রিকা এবং সংবাদ সংস্থ্যাগুলো অভূবপূর্ব সে সন্ত্রাসের খবর তখন পরিবেশন করেছিল। 
তাতে সরকারের টনক নড়েনি। এবারও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ সম্পর্কে সরকার মুখ খুলছেন না। এ সবের পরিণতি কি হবে তা ভবিষ্যতেই বলতে পারে। কিন্তু রাজনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ যখন সন্ত্রসী কার্যকলাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা করেন তখন সন্দেহ জাগে, কাজটা কি তারা বুঝে শুনেই করছেন না অবুঝ তত্ববাগীশতায় ভুগে অজান্তেই নিজেদের ‘বিদেশী সেবাদাসত্ব এবং আভ্যন্তরীণ ফ্যাসীবাদের কৃষ্ণ অধ্যায়ের’ সঙ্গে যুক্ত করে ফেলেছেন। 
অলি আহাদ সাহেব শ্রদ্ধেয় লোক। পাকিস্তানের রাজনীতির গোড়ার দিকে তাঁর ভূমিকা এখনো জনসাধারণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। শিক্ষা সম্মেলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক যুব আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপোসহীন একজন নেতা হিসেবে তিনি সে দিনের তরণ সমাজের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শত শত প্রতিভাবান যুবক সে সময়ই দেশের রাজনৈতিক গতি ধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে। 
পাকিস্তানে সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত সেদিনের সেই আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনে পরম গৌরবময় অধ্যায়। সে অধ্যায়ে যেমন রয়েছে জননেতা মওলানা আবদুুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শামসল হক সাহেবের সুদৃঢ় সংগ্রামী নেতৃত্ব তেমনি রয়েছে তাজুদ্দীন আহমদ, অলি আহাদ, মাহমুদ আলী ও মোহাম্মদ তোয়াহা সাহেবের মতো রাজনীতিকদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মকুশলতা। সবার ঐক্য প্রয়াসের ফলেই বাঙ্গালী সেদিন পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা একের পর এক পতিহত করতে পেরেছিল। 
বায়ান্নতে ভাষা আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন পাকিস্তানী শাসকেরা অপপ্রচার চালায়, সীমান্তের ওপার থেকে হাজার হাজার হিন্দু লুঙ্গি পরে এসে বিরোধী দলগুলোকে মদদ জোগাচ্ছে। সে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তখন নেতৃবৃন্দ সমস্বরে আওয়াজ তুলেছিলেন। চুয়ান্নর নির্বাচনে সেই একই অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি করা হয়। বলা হয়, ভারত থেকে হিন্দুরা এসে যুক্তফ্রন্টের বাক্সে ভোট দিচ্ছে। নেতৃবৃন্দ সেবারও সে অপপ্রচারের যুৎসই জবাব দেন। শুধু কি বায়ান্ন আর চুয়ান্নতে? ছেষট্টিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ছ’দফা পেশ করেন তখনো সেই একই অভিযোগ তোলা হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। পাকিগস্তান আমলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখনই জোরদার হয়েছে তখনই একশ্রেণীর লোক হয় ‘ইসলাম গেল’ ‘ইসলাম গেল’ বলে রব তুলেছেন অথবা সে আন্দোলনকে ভারতের সমর্থনপুষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেই একই অবস্থা চলতে তিন দশক পরেও।
বাংলাদেশ হবার পর আশা করা গিয়েছিল সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে কায়েমী স্বার্থবাদীদের সে চক্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস না হলেও সাময়িকভাবে পরাভব মানে। যারা একসময় দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা রেখেছিলেন তাদের অনেকেই স্বাধীনতার পূর্বে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। শামসুল হক সাহেব সেই পঞ্চাশের দশকেই মারা যান। মাহমুদ আলী একবার বাম ও আর একবার দক্ষিণ পন্থী রাজনীতিতে কান্নি খেয়ে অবশেষে স্বাধীনতা সংগ্রামের চরম বিরোধিতায় অবতীর্ণ হন। তোয়াহা সাহেবকে তার রহস্যজনক রাজনৈতিক গতি বিধির জন্য সেই ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়েই মওলানা ভাসানীর ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। সেদিনের সেই নেতাদের মধ্যে মওলানা ভাসানী এবং তাজুদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। বাকীরা যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন তেমনি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে পরাভূত শক্তির সাথে হাত মেলান। একসময় যে শ্লোগান ছিল পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর কণ্ঠে সেই শ্লোগানই উঠে আসে পঞ্চাশ দশকের সেই তারুণ্য দীপ্ত নেতাদের মুখে। সব কিছুর জন্য ভারতকে দায়ী করা এমনকি মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী যুবকদের অসমসাহসী ভূমিকা খাটো করে দেখিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহযোগিতাকে মুখ্য করে তোলা তাদের রাজনৈতিক ষ্ট্র্যাটিজির অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। বলতে শুরু করেন জনসাধারণের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র সংগ্রাম নয় বরং বাংলাদেশ জন্মলাভ করেছে ভারতীয় সেনা বাহিনীর ঔরসে। ঠিক একই কথা প্রতিধ্বনিত হয় পাকিস্তানী মন্ত্রিসভার সদস্য মাহমুদ আলীর কণ্ঠে। বাংলাদেশে পরাভূত প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তাদের এককালীন প্রতিপক্ষের চেহারায় নিজেদের আদল খুঁজে পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন কিনা জানি না তবে উভয়ে যে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে পরাভূত রাজনীতি পুনর্বাসনের কাজে মরিয়া হয়ে উঠেন, তা পরবর্তী ঘটনাবলী থেকে পরিস্কার হয়ে পরে। 
মধ্য সত্তুরে সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে দেশের জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারকে উৎখান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাজুদ্দীন আহমদ সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হন। এই হত্যাযজ্ঞের যারা হোতা তারা আশ্রয় লাভ করেন অলি আহাদ সাহেবদের কাছে। মুশতাক আহমদকে নেতৃত্বে বরণ করে নিয়ে তিনি নতুন দল গঠন করেন। সে দলও বিভক্ত হয় চার ভাগে। একভাগ মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে। জনাব অলি আহাদের ভাষায়ই সামরিক সরকারের সহযোগিতায় লিপ্ত। শাহ মোয়াজ্জেম সরাসরি ঢুকে পড়েন এরশাদ সাহেবের মন্ত্রিসভায়। রউপ সাহেবের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ রয়েছেন খালেদা জিয়ার সাত দলীয় জোটে। আর চতুর্থ গ্রুপ নিয়ে অলি আহাদ সাহেব এখনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। 
সে লড়াইয়ে জেতার জন্য নতুন নতুন চমক সৃষ্টি যদি তার উদ্দেশ্য হয় তবে তিনি নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ভারতীয় নাগরিকদের অংশ গ্রহণের অভিযোগ তুলে ভুল করেননি। কিন্তু উদ্দেশ্যটা তার তত সরল নয়। অন্ততঃ অলি আহাদ সাহেবের গত একদশকের রাজনীতি দেখে তা মনে হয় না। তিনি দেশে যে কোন সমস্যার পেছনেই ভারতের হাত খুঁজে ফেরেন। আসল ‘ভিলেন’ রয়ে যায় পর্দার অন্তরালে। 
ভারতের দিক থেকে আমাদের কোন সমস্যা নেই-এমন নয়। উভয়ে আন্তরিকভাবে চাইলে সে সমস্যার হয়তো সমাধানও পাওয়া যাবে। কিন্তু দেশে যা কিছু ঘটছে তার সবটাতেই ভারতীয়দের হাত রয়েছে এমন উক্তি আমাদের আত্ম-সম্মানকেই ভূলুণ্ঠিত করে। অলি আহাদ সাহেবরা নেতৃত্বের আসনে বরে বরাবর সেই অসম্মান জনক কাজটিই করে যাচ্ছেন। স্বৈর শাসকদের দিকে আঙ্গুল না তুলে তুলছেন ভারতের দিকে, সন্ত্রাসবাদীদের সমালোচনা না করে করছেন রুশ-ভারত অক্ষশক্তিকে, দেশের জন-প্রতিনিধিত্বশীল সরকারকে যারা বন্দুকের মুখে উৎখাত করলো তাদের কোলে তুলে কোশ্চেন করছেন সেই সরকারেরই বৈধতা নিয়ে। এমনি আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।
আগেই বলেছি, অলি আহাদ সাহেব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। গত দু’তিন দশকের রাজনীতিতে তার যে ভূমিকাই থাকুক না কেন পাকিস্তানী রাজনীতির সেই গোড়ার দিকে তার অবদান অনস্বীকার্য। ছাত্র জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সে সময়ের রাজনীতি সম্পর্কে তার লেখা গ্রন্থও আমাকে তাঁর প্রতি কম শ্রদ্ধাশীল করে তোলেনি। স্বাভাবিকভাবে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি দেশ বিদেশের ঘটনাবলী ও খবরা-খবর রাখেন। আমাদের দেশেরও যে রাখেন তো তো বলাই বাহুল্য। বিগত এক দশক ধরে বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আমরা স্বাধীনভাবে কোন পরিকল্পনা নিতে পারি না, কোন কর্মসূচী প্রকল্পে হাত দিতে পারি না। আমাদের হাত আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থ্যা ও ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাধা। তারা চাইলে আমাদের পরিকল্পনাগুলো কাটছাঁট করতে হয়। আবার তাদের ইচ্ছে অনুসারেই নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। তারা চাইলে দেশে জিনিসপত্রের নাম বাড়াতে হয় আমার তারা চাইলে মিল কলকারখানা সব ব্যক্তি মালিকানায় ফেরত দিতে হয়। তারা চান বলেই বিভিন্ন প্রকল্পে নিজেদের দেশের যোগ্য লোকদের চাকরি না দিয়ে কয়েকগুণ বেশী বেতনে তাদেরই দেশ থেকে লোক এনে নিয়োগ করতে হয়। খোদ মন্ত্রীদের কাছ থেকে এতো কিছু শোনার পরও অলি আহাদ সাহেব কেন নতুন করে বিদেশী সেবাদাসত্ব ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত চলছে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন তা বুছে উঠা মুস্কিল। তিনি কি তবে বলতে চান এতদিন সব ঠিক ঠাক ছিল। ঐ মন্ত্রীরা যা বলেছেন তা সব মিথ্যে। 
রাজনীতি তিন যাই করুন না কেন, তাঁর পত্রিকায় মাঝে মধ্যে সত্য কথাই লেখা হয়। এদেশে গণতন্ত্রহীনতার জন্য কারা দায়ী তা একবার তিনি স্পষ্টভাষায় লিখেছিলেনও। সে লেখায় হঠাৎ করে ঝলক দিয়ে উঠেছিলো তিন দশক আগের সেই মেধাবী বুদ্ধিদীপ্ত তরুণের চেহারা। যিনি দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে। যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। 
সেই তরুণ আজ হারিয়ে গেছেন। পুরো এক দশক প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সামরিক শাসক বলবৎ থাকার পর গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন যখন নতুন এক স্তরে উত্তীর্ণ তখন হত্যা, সামরিক অভ্যূত্থান ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি উপলব্ধি করছেন, দেশকে ফ্যাসীবাদের কৃষ্ণ অধ্যায় ফিরিয়ে নেয়ার চক্রান্ত চলছে। এটা শুধু দুঃখজনক নয়, রীতিমতো লজ্জাস্কর। 
 
[নিবন্ধটি দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায় বিগত ১৭ মে, ১৯৮৬ প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল আজিজ মুকল
সংবাপত্রে “নিত্য নিয়ত” কলালে নিরঞ্জন ছদ্মনামে লিখে থাকেন।]