বিভেদের কূটজাল নয়, চাই ত্যাগের মহিমা

ফন্ট সাইজ:

শুক্রবার, ১লা মে’৮১-    অলি আহাদ


    আজ পহেলা মে। মেহনতী জনতার ত্যাগের মাধ্যমে জয়যাত্রার দিন। আজ শুক্রবার, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার ১৯টি গুণে গুণাণ্বিত হইবার প্রসায়ে শির নত করার দিন। ত্যাগের পথেই একদিন এ জাতির অভ্যুদয় ঘটিয়াছিল।
    আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন যে রূপ দাঁড়াইতেছে, তাহাতে ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টিপাত করিলে আশার আলো দেখিতে পাই একথা বলিতে পারি না। একশ্রেণীর ক্ষমতা মদমত্ত লোকের প্রতিপত্তি চিরস্থায়ী করিয়া রাখার দুরাশায় সারাদেশের মানুষকে অন্যায় আর সামাজিক ব্যাভীচারের মধ্যে ঠেলিয়া দিয়া চত্তি ও বিবেককে অসাড় করিয়া দিতেছে। এই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য উৎকট ক্ষমতাপ্রিয়তা, বিশৃংখলা ও উন্মত্ততার মধ্যে দেশকে ঠেলিয়া দিতে পর্যন্ত ইতঃস্তত করিতেছে না।
    দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে চর্বিতচর্বন করার ইচ্ছা আদৌ ছিল না। কিন্তু দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক শূন্যতা আজ যেখানে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহাতে ভাবতেও বিস্ময় হয়, আমাদের দেশ পৃথিবীর সভ্য দেশগুলির তালিকায় কিভাবে এখনও ঠাঁই করিয়া রহিয়াছে। তাই বিক্ষব্ধ চিত্তেই কলম ধরিতে হইয়াছে। কদর্য অর্থলোভ এবং ক্ষমতার মদির নেশা লালন করিতেছে বিভেদের শক্তিকে, আজ সেই কৌটিল্য নীতি আমাদের অস্তিত্বের মর্মমূলে আঘাত হানিতে উদ্যত। চারিদিকে ক্রব্ধ হিংসা প্রতিহিংসার রক্তাক্ত প্রেতনৃত্য সমাজের সকল শুভবুদ্দিকে কণ্ঠরোধ করিয়া রাখিয়াছে। সেই কণ্ঠস্বরকে আজ বিপন্ন জাতির কাছে, মানুষের কাছে পৌছাইয়া দিবার জন্যই পুনরাবৃত্তির আশংকা থাকা সত্ত্বেও দেশবাসীর কাছে বিশেষভাবে তরুণদের নিকট আহ্বান জানাইতে চাই। আজ এক অবাঞ্চিত বিতর্কে মুক্তিযোদ্ধার দ্বিধাবভক্ত। দেশের স্বাধীনতার জন্য যাহারা একদিন একপ্রাণ একদেহ লইয়া পাশিাপাশি যুদ্ধ করিয়া শোণিতপাত করিয়াছে, তাহারা ক্ষমতার অঙ্গুলিহেলনে নিজেদের মধ্যে আত্মঘাতী কলহে লিপ্ত। আপনাদের অত্যুজ্জল দেশপ্রেমকে প্রতিযোগিতার আসরে বাজী রাখিয়া পতিহিংসা ও রক্তপাতের তৃষ্ণায় উন্নত হানাহানির পথই তাহারা প্রশস্ত করিতে যাইতেছে। দেশের আইন ও শৃংখলার এক শোচনীয় পরিস্থিতিতে তাহাকে অবনতির দিকে নিয়া যাওয়ার চক্রান্ত চলিতেছে। সেখানে গণ আদালত গঠন করিয়া অপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব আত্মহত্যার সামিল। এই প্রস্তাব আইনসম্মত নয়, উপরন্তু দেশে এক নৈরাজ্য সৃষ্টি করিবে। সেখানে মনুষ্যত্ব, ধর্মবুদ্ধি, বিবেক সবকিছুই সেই তাণ্ডব ও দুর্বদ্ধির কসাইয়ের হাতে জবাই হইবে। পরিত্রাণের পথ খোলা থাকিবে না।
    আমাদের দেশের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা সমস্ত জাতির শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে আপনাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করে। ইতিহাসে আপনাদের গৌরবোজ্জল অধ্যায় আজ কিছু কুচক্রী হীনস্বার্থ সিদ্ধির জন্য কালিমালিপ্ত করিতে উদ্বত। এই স্তাবকদের প্রতারণার শিকার হইয়া আপনাদের অমলিন আদর্শের উপর, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও উজ্জল ভালবাসার উপর কাউকে কালিমা লেপনের বিন্দুমাত্র সুযোগ দিবেন না। যে চিরায়ত মূল্যবোধ আপনাদের সাহসিক আত্মত্যাগে প্রেরণা যোগাইয়াছে তাহাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করার জন্য বিদেশী শক্তির ক্রীড়নক রাজনৈতিক স্বার্থ শিকারীরা মরিয়া হইয়া উঠিয়াছে। দিল্লীর মসনদের অঙ্গলি হেলনে যাহারা এদশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পনঃ প্রতিষ্ঠার দুরাশা লইয়া মাঠে নামিয়াছে, তাহাদের ফাঁদে পা দিয়া দেশের ভবিষ্যৎকে, স্বাধীনতার গর্বিত সম্পদকে পুনরায় অন্ধ গহবরের দিকে ঠেলিয়া দিবেন না। আপনাদের আত্মকলহের সুযোগে দিল্লীর থাবা আমাদের সীমান্তে আবার প্রসারিত হইবে। আগ্রাসনের  শিকারে দেশকে পরিনত করার এই ছলনার স্বরূপ আপনাদের উপলব্ধি করতে হইবে।
    বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম, স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য এদেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হইয়াছিল। ব্যতিক্রম ছিল কেবল তারা, পাকিস্তান হওয়ার পর শাসক মুসলিম লীগসহ যাহারা কায়েমী স্বার্থচক্র সৃষ্টি করিয়া দেশকে শোষণের ক্ষেত্রে পরিণত করিয়াছিল, সেই স্বার্থান্ধ নরপিশাচ, ক্ষমতা লোভী, ক্ষমতালিপসু ব্যক্তিবৃন্দ। ঈমানের অঙ্গ হিসাবে যাহারা ভূমিকা পালন করিয়াছে তাহাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রহিয়াছে।
    তারপর একনায়ক শাসনের যাঁতাকলে দেশকে নিয়া গেল। একাত্তুরের আজাদী চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া ভারতে সাথে এক অসম দাসত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ বাংলাদেশে পিণ্ডির পরিবর্তে দিল্লীর মসনদের নিকট আত্মসমর্পণ করিল।
    এক নতন ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ’৭৫ এর অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের, হতাশার নিকট কালোরাত্রির বুকে অরুনোদরের সাধনা নিয়া কর্ণেল রশীদ, কর্ণেল ফারুকের দুঃসাহসী নেতৃত্ব স্বাধীনতার সুর্যকে রাহুমুুক্ত করিয়াছে। মেজর জিয়া, মেজর শলিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর জলিল, মেজর জয়নাল আবেদীনের মত কর্ণেল ফারুক, কর্ণেল নূর, কর্ণেল পাশা, মেজর হুদা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশ রূপায়নে তাঁহারাও শোনিতপাত করিয়াছে। আবার একনায়কত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাহারাই সংঘটিত করিয়াছে এক সফল বিপ্লব ’৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট।
    স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এই বিপ্লব আজ মার্শাল ডেমোক্রেসির পদতলে নিষ্পিষ্ট ফ্যাসিষ্ট একনায়কত্বের মুষ্টি পেষাণের তলে সারাদেশ কণ্ঠরুদ্ধ। বাংলাদেশী বাবরাক কারমাল আজ দিল্লীর অঙ্গুলীহেলনে চলিতেছে। গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনরুদ্ধারের জন্য বিপ্লবোত্তর মোশতাক সরকার কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে উদ্যত হইয়াছিলেন। গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য সেই উদাত্ত প্রতিশ্র“তি দেশকে একনায়কত্ববাদী শাসনের বিভীষিকা থেকে উদ্ধারের সাফল্য শত্র“কে দিশাহারা করিয়া ফেলে। প্রকাশ্যে চক্রান্ত করিয়াই দেশকে হানাহানির মুখে ঠেলিয়া দেওয়ার চক্রান্তের মাধ্যমে দেশে মার্শাল ডেমোক্রেসি কায়েম হইয়া বসিয়াছে আজ। দেশে আজ নৈরাজ্য আর দারিদ্র বিকট হা করিয়া সমগ্র সমাজকে দ্রুত দোজখের দিকে ঠেলিয়া দিতেছে। দিন দুপুরে খন ডাকাতি আজ প্রত্যহিক কর্মসূচী। আইন শৃঙ্খলা আজ অস্ত্র ঝনঝনানীর বশীভূত। সকল প্রতিষ্ঠানে আত্মকলহের বীজ বপন করিয়াছে বিভেদকামি সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা সর্বত্রই উচ্ছৃংখল বেপরোয়া পেশীশক্তির দাপট, নৈতিক মূূূল্যবোধ বিনষ্ট।
    কোন দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নয়, ষ্টেনগান, বন্ধুক ও বোমাবাজির মাধ্যমে ফ্যাসিষ্ট শক্তির প্রদর্শনী আজ সর্বত্র চলিতেছে।
    বাংলাদেশের সম্পদ সীমিত। দেশের সম্পদ সৃষ্টির জন্য কোন উদ্যোগ নাই। শুধু কে কতখানি আদায় করিয়া আপন স্বার্থ মিটাইতে পারে তাহারই কুৎসিত লোভী প্রতিযোগিতা। তাই ইউনিয়ন নির্বাচনে বোমাবাজী। দাবী নিয়া দর কষাকষির জন্য যুক্তির স্থান নিয়াছে ষ্টেনগান। এইতো সেদিন জনতা ব্যাংকে এমন সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হইল যে, কেউ টাকা তুলিতে যাইতে সাহসী হয় না। কথায় কথায় ধর্মঘট আর আকাশচুম্বি দাবীর বহর। যে দেশে মাথাপ্রতি বছরে চিকিৎসা খরত ১৩১ টাকা, সেখানে মাসে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চিকিৎসা খরচ কোটির অংকে পৌছায়। দেশকে গড়িতে হইলে যে আত্মত্যাগ, কষ্ট, আর অনাড়ম্বর জীবন যাত্রার দরকার, তার পরিবর্তে পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলির আদর্শে স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের দাবী আমাদের সীমিত সম্পদের তুলনায় কত বেমানান, অযৌক্তিক, স্বার্থপরতা উহা ভাবিবার সময় নাই। এক সর্বগ্রাসী রাক্ষুসে অতৃপ্তি, এক কুৎসিত লোভ দানবের বর্বরতা আমাদের চেতনাকে আচ্ছন্ন করিয়া আছে। সমাজতন্ত্র আর সামাজিক ন্যায় বিচারের নামে বিলাসের কদর্য বর্বরতার সাধনায় দেশকে ঠেলিয়া দিয়াছে ফ্যাসিষ্ট শাসনের অশুভ শক্তি। পোলাণ্ডের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি সে দেশের মানুষের যে চাহদা পূরণে সম্ভব ছিল না, তাহার শতগুণ দাবী  করিয়া বসেন আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বীমা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শ্রমিকগণ। তাই কথায় কথায় বোমা, পিস্তল প্রভৃতি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শনীতে ইউনিয়ন সভা, বিক্ষোভআর মিছিলগুলি ভরপুর। দেশের শতকরা ৮ জন মানুষের বুভুক্ষার উপর এই উচ্চতর লোভলিপসু সামাজিক ন্যায়বিচার ও আত্মউপচিকীষু সমাজতন্ত্রের বিলাস দেশের অবস্থাকে প্রতিদিন অতলের ঠিকে ঠেলিয়া দিতেছে।
    পাশ্চাত্যের মত স্বাচ্ছন্দ ও সাচ্ছল্য আমরা চাই; কিন্তু তাহাদের কর্তব্য নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, দেশত্ববোধ আমাদের মধ্যে নাই। দাবী তুলিতে আমরা পাকা কিন্তু পাওয়ার যোগ্যতা কতটুকু তা বিচার করি না।
ত্যাগের কোন প্রতিদান হয় না। ত্যাগ মানুষকে করে নিরহংকার, নির্লোভ, নিঃস্বার্থ, পরহিতব্রতী, দেশ ও মানব সেবামুখী। ইহাই দেশ প্রেমের অন্তর্নিহিত মুুল সুর। ত্যাগ আপন মহিমায় ভাস্বর। সেই মহিমাকে ক্ষুন্ন করা হইয়াছে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা পার্থক্য নিরূপণের মাধ্যমে। মুক্তি যোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট, সংসদ প্রভৃতি নামের সংস্কার মাধ্যমে পদোন্নতি, চাকুরীর সুযোগ অর্থাৎ বস্তুগত লাভের হাতছানি একটি অমলিন আদর্শকে বিনষ্ট করিয়াছে। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল ’৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর। সেদিন আমাদের জানা মতে শাহ আজিজ, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ ক্ষমতার এনাম গ্রহণের জন্য মরীয়া হইয়া উঠিয়াছিলেন। এনাম পাইয়াছেনও বটে। কদর্য পরিণতিতে পাকস্তানে সৃষ্ট হইল নেতৃত্বের শুন্যতা, ফলতঃ পাকিস্তানের ব্যবচ্ছেদ। আজও তাই, আমরা তাই বার বার বলিয়াছি- সচিবালয়ে বড় বড় পদে সামরিক ব্যক্তিদের নিয়োগ, সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দই বৎসরের পদোন্নতি আদর্শ নয়, লোভ চরিতার্থ করিবার প্রতিযোগিতায় সরকার সমগ্র প্রশাসনকে অকার্যকর করিয়া ফেলিয়াছে। অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধা আর অমুক্তিযোদ্ধার ব্যবধান আজ বিভ্রান্ত্রীকর। সকলেই দেশের নাগরিক।
    আত্মস্বার্থ উদ্ধারের এই প্রতিযোগিতার নরকে শিক্ষার মূূল্যবোধ ধুলায় লুণ্ঠিত। ডিগ্রী অর্জনের নেশাটা বড়, বিদ্যা অর্জন গৌণ। তাই নকলের ছড়াছড়ি। শিক্ষক আর ছাত্ররা সংকীর্ণ রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে এক সাথেই অবগাহন করিয়াছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ খোলার দাবী এবং উহার বিরোধী উভয় পক্ষই নিরীহ জনগণকে সন্ত্রাসিত করিয়া চলিয়াছে। শিক্ষকে শিক্ষকে, ছাত্রে ছাত্রে এবং ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে বিভেদের এই চক্রান্তের মধ্য দিয়াই মার্শাল ডেমোক্রেসির সর্বনাশা দেউলিয়া রূপ, শিক্ষার অন্তঃসারশুন্য চাকচিক্য প্রকট হইয়া উঠিয়াছে। দেশের মানুষ আর মাটির প্রতি ইহাদের কোন আনুগত্য, কোন কর্তব্য নাই। আছে ডিগ্রী নিয়া শ্মশানের প্রান্তচর শিয়ালের মত লুব্ধ কলরব আর ওই ডিগ্রীর তকমা আটিয়া উচ্চ বেতনে বিদেশ গমনের ছাত্রপত্র যোগাড়। আত্মসুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যের কুহকিনীর বাশীর সুর প্রোথিত চৈতন্যের ওই অসহায় আত্মসমর্পণ লক্ষ্যাভিমুখে স্বাধীনতার ওডেসীর সুদীর্ঘ যাত্রায় পদে পদে বিঘœ ঘটাইয়া চলিয়াছে।
    একমাত্র তরুণরাই পারে এই অবস্থার প্রতিকার করিতে। যে ভীরুতার উপর এই অন্যায় দাঁড়াইয়া আছে-যার অগ্রভেদী রূপ দেখিয়া মনে হয় কোথাও বুঝি আশার আলো এতোটুকু অবশিষ্ট নাই, সেখানে তরুণদের দুর্জয় সাহস ইহার অবসান ঘটাইতে পারে। যে সন্ত্রস্ত শক্তি দুর্যোগের ঘনঘটার মধ্যে বসিয়া দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলিয়া দিতেছে, উহা তাহার বীর্যের পরিচয় নয়, উহা তাহার ভীরুতার মুখ বিকার। তারুন্যের দৃপ্ত শক্তি, তাদের দৃষ্টির স্বচ্ছতা, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের ঐতিহ্য, ’৭৫ বিপ্লবের একাগ্রতা ও নিঃস্বার্থ চিত্তের উদ্বোধনই ইহার উপযুক্ত জবাব। আত্মঘাতে লিপ্ত ক্ষুদ্রস্বার্থ ও অকল্যাণের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াইবার জন্য দেশ আজ আপনাদের প্রতি তাকাইয়া আছে। সাহসের সহিত অগ্রসর হউন। জয় সুনিশ্চিত।