ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের গোপন হোতাদের খুজিয়া বাহর কর

ফন্ট সাইজ:

শুক্রবার, ৫ই জুন ’৮১-অলি আহাদ


    প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গত ৩০শে মে চট্টগ্রামে হিংসাত্মক পথে ক্ষমতা দখলের এক ব্যর্থ এ্যাডভেঞ্চারে অতর্কিত কমাণ্ডে আক্রমণে নিহত হইয়াছেন (ইন্নল্লিাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। প্রেসিডেণ্টের সাথে আরো নিহত হইয়াছেন লেঃ কঃ আঃ ফঃ মঃ মইনুল আহসান, ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খান, নায়েক মোঃ আবু তাহের, সিপাহী আবুল কাশেম, সিপাহী আবদুর রউফ, সিপাহী মোঃ আলম। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর ভাবে মর্মাহত। আমরা বেগম জিয়াউর রহমান, তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সকল নিহতের শোকহ্বিবল পরিবারবর্গের প্রতি আন্তকি সমবেদনা জানাই। আমরা তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
    আমরা প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রবর্তিত মার্শাল ডেমোক্রেসির সমালোচনা করিয়াছি। তাঁর শাসনের ত্র“টি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে ছিলাম উচ্চকণ্ঠ। আশৈশব প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী বিধায় হিংসাকে আশ্রয় করিয়া গোপন ষড়যন্ত্র আর প্রাসাদ চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার। তাই এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দার ভাষা আমাদের নেই।
    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের পত্রিকায় স্বীয় মতামত জঙ্গীভাবে প্রকাশ করিয়া আসিতেছি, অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিবেকের কণ্ঠস্বর জাগ্রত রাখিতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিন্তু নৃশংস হত্যা নীতির বিরুদ্ধে, ঘৃণ্য কাপুরুষ বর্বরতার বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করিয়া আসিতেছি। সেখানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশে যেটুকু গণতন্ত্র রহিয়াছে তাহাকে নির্মূল করার জন্য, হত্যার জন্য, ষড়যন্ত্রকারিগণ নৃশংসতার পথ বাছিয়া লইয়াছে। সমগ্র জাতিকে এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করিয়া স্বাধীনতাকে বিকাইয়া দিবার ভয়াবহ এক সুগভীর ষড়যন্ত্র এই হত্যার রাজনীতির আড়ালে সক্রিয়।
    এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের সাহসিক অভ্যুত্থান ছিল ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধি রচিত সংবিধানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার ও উহা সমুন্নত রাখা এবং দিল্লীর অক্টোপাস হইতে দেশের আজাদীকে রক্ষা করা।
    একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচারী শাসনকে শেখ মুজিব সাধারণ মানুষের বুকে জগদ্দল পাথরের মত চাপাইয়া বসিয়াছিল, তাহা হইতে পরিত্রাণ লাভের জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সেদিন দ্বিতীয় কোন পথ খোলা ছিল না। জাতির আত্মাকে, তাহার রক্তার্জিত স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সাহসী সৈনিকরা আগাইয়া আসে।
    কিন্তু ষড়যন্ত্রকারিগণ এই পরিবর্তনকে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা পুনঃ কায়েমের ধারা নস্যাৎ করার জন্য ৩রা নভেম্বর এক অভ্যুত্থান করে। ৭ই নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী দিল্লীর ছলনাজাল ও চানক্যসুলভ কুটনীতিকে বানচাল করিয়া দেয়। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩রা নভেম্বরের ক্যু ছিল ১৫ই আগষ্টের সাফল্যকে অঙ্কুরে পিষিয়া মারার ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের জবাব শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের মাধ্যমে সিপাহী জনতা দিয়াছে। গণতন্ত্রের সংগ্রামে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ শক্তি অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জন করিয়াছিল। তারপর বাংলাদেশের রাজনীতি ক্ষেত্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নিয়মতান্ত্রিক পথ ধরিয়া নেওয়ার প্রচেষ্টা চলে। ক্ষমতাসীনরা জনগণের দাবী শেখ মুজিব জারিকৃত শাসনতন্ত্রের ৪র্থ সংশোধনী প্রত্যাহার মানিয়া লন নাই। বরং ৫ম সংশোধনী দিয়া গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থাকে পঙ্গু করিয়া রাখার ব্যবস্থাটা পাকা করিয়া রাখা হইল। আমরা যখন আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য, সার্বভৌম পার্লামেন্টের জন্য লড়াই চালাইতে ছিলাম এবং অপর দিকে ভারত বৃহৎ শক্তিসুলভ দম্ভে ফাঁরাক্কা সমস্যার সমাধানে একগুয়েমি মনোভাব দেখাইতেছে এবং দক্ষিণ তালপট্টিতে নগ্ন আগ্রাসন চালাইয়া দেশের সার্বভৌমত্বকে, আঞ্চলিক সংহতিকে চ্যালেঞ্জ করিয়াছে, দেশের অভ্যন্তরে এমনকি সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা সোচ্চার হইয়াছেন, পরীক্ষায় নকলকে কেন্দ্র করিয়া স্বোচ্চার চরমে উঠিয়াছিল, ব্যাংকের মধ্যে উচ্ছৃংখলতা, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও দুর্বলতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করিয়া দিয়াছে এবং ইহার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাব স্বোচ্চার হইতে ছিল, সেই মুহূর্তে দেশে গণতন্ত্রের সামান্য চিহ্নটুকু মুছিয়া ফেলিবার এই ষড়যন্ত্রকে হাল্কাভাবে গ্রহণ করা সমীচীন হইবে না।
    সরকার এই অবস্থার মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার প্রতি আস্থা রাখিয়া সংবিধান মত পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছেন এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শাসনতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকয়া চক্রান্তের বিরুদ্ধে ধৈর্যের সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছেন। বিরোধী দলগুলি জাতীয় সংকটের সময় ঐক্যবদ্ধ হইয়া হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীর মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি করিয়াছে।
    হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্র আসে না। স্বাধীনতা বিপন্ন হয়, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তেত্রিশ বছরের রাজনীতির ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়া পাকিস্তানে হিংসার রাজনীতির সূত্রপাত। গণতন্ত্রের প্রতি আঘাতের শুরুও সেখান হইতেই। তারপর গোলাম মোহাম্মদ, ইস্কান্দার মীর্জা, চৌধুরী মোহাম্মদ প্রসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সামরিক শাসনের পথে নিয়া যান। আসিল সেনাপতি আইয়ুব ইয়াহিয়া।
    গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং জনগণের প্রতি আস্থা রাখিয়া নিয়মতান্ত্রিক শাসনের তথা পার্লামেন্টারী পদ্ধতির শাসনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য। এই পার্লামেন্টারী পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধা ও  আস্থার অভাব এবং সামরিক বাহুর ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই পাকিস্তানের অঙ্গচ্ছেদের কারণ। সেনাপতির উচ্চাভিলাষ আর প্রতিনিধিত্বশীল সরকার কাঠামোকে বিনষ্ট করিয়া ক্ষমতা দখলই ইহার মৌল কারণ। ইতিহাসের এই শিক্ষা যে জাতি যতবার বিস্মৃত হইয়াছে, ততবারই তাহার ভাগ্যে দুর্যোগ নামিয়া আসিয়াছে।
    প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি একহাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করিয়া একনায়কত্বের জন্ম দেয়। ছিটেফোঁটা গণতন্ত্র দিয়া বেশ কিছুদিন ধোঁকা দেওয়া চলে। কিন্তু সেখানে উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিরা বন্দুকের নলকে ক্ষমতার উৎস গণ্য করিয়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত গণতন্ত্রের কবর রচনা করে। তাই আমরা সংসদীয় পদ্ধতির গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করিয়াছি। পদ্ধতির পরিবর্তন নয়, গণতন্ত্র নিরাপদ করার জন্য এদেশের বুকে তেত্রিশ বছর ধরিয়া ঘুরিয়া ফিরিয়া ব্যারাক রাজনীতির আবির্ভাব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করিয়াছে। কোন সিষ্টেম দৃঢ় ভিত্তির উপর গড়িয়া উঠে নাই।
    চট্টগ্রাম বিদ্রোহের মুল উৎস খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। কিন্তু কোর্ট মার্শাল সরকার গঠন করিয়াছেন। দেশে সামরিক শাসন জারি নাই। তাই বেসামরিক দিক হইতে উচ্চতর আদালতের সাহায্যে তদন্তের ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়। এই বিদ্রোহ শুধু একটি ব্যারাকভিত্তীক দুঃসাহসী উচ্চাভিলাষী কয়েকজনের ষড়যন্ত্র, একথা বিশ্বাস করা কঠিন। বিদ্রোহের নায়ক গ্রেফতারকৃত মেজন জেনারেল মঞ্জুরকে ক্রুব্ধসশস্ত্র ব্যক্তিদের হত্যার রহস্যও উন্মোচন করা দরকার। যাদের শৃংখলার কথা লইয়া গর্ব করার মুহূর্তে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়াই আইন অস্ত্রবলে নিজেদের হাতে তুলিয়া নেয়, উহাকে শুধু ক্রুব্ধ সৈনিকের কাণ্ড বলিয়া উড়াইয়া দেওয়া চলে না। স্মরণযোগ্য,  পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নবাবজাদা লিয়াকত আলী খানের হত্যাকারী কেও একই ভাবে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। চক্রান্তের পথে সেই রহস্য কোন দিন উন্মোচিত হয় নাই। বোধগম্য কারণেই মনে হয়, জীবিতদের যোগসাজশকে আড়াল করিবার জন্যই এই দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড। নিশ্চয় করিয়া কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবুুও এ প্রশ্ন সমগ্র জাতির। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। কাহাকেও হত্যা করার অধিকার কাহারও নাই। স্বয়ঃ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তালা বিনা বিচারে কাহাকেও বেহেস্তে বা দোজখে পাঠাইবেন না। এ ষড়যন্ত্রের উৎস কোথায় আমরা জানি না। তবে রাজনীতি ক্ষেত্রে হঠাৎ যাহারা দিল্লী হইতে আসিয়া পৈত্রিক সূূত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তাহাদের কথাও স্মরণে রাখা দরকার। বিদ্রোহের সাথে দেশের ভিতরে কোথায় কোথায় যোগসূত্র স্থাপন করা হইয়াছে, তাহার সাথে চট্টগ্রামের সেনানিবাসের বাহরে অন্যান্য কোন অংশের কোনরূপ সম্পর্ক আছে কিনা গণতন্ত্রের ভেকধারী রাজনৈতিক টাউটদের ভূমিকা কিংবা কোনÑ
    আমরা চাই তদন্ত কমিশনের হাতে তুলিয়া দেওয়া হউক। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এস, বি, এন, এস, আই, ডি, এফ, আই প্রভৃতি সংস্থা এ সমস্ত চক্রান্তের কথা জানের না তাহা বিশ্বাস করিতে পারি না। আর যদি তাহারা নাই জানেন, তাহা হইলে দরিদ্র জনগণের কষ্টার্জিত টাকা দিয়া তাহাদের রাখিবার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? ৮০ সালের ২৩শে মে বায়তুল মোকাররমের জনসভায় নয় নয়টি নরপরাধ মানুষ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হইল, অথচ এ সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা ঘাতকদের টিকিটি পর্যন্ত ধরিতে পারিল না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাহাদের তথ্য সরাসরি কমিশনকে দিবেন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং বারংবার ক্যু’র যে আলামত বাংলাদেশে গত সাড়ে পাঁচ বছরের রাজনীতিতে দেখা গিয়াছে, উহার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য সকল তথ্য তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে সংসদের মারফত দেশবাসীকে জানিতে দেওয়া উচিত বলিয়া আমরা মনে করি।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পদক্ষেপ ছিল শাসনতন্ত্রের ৪র্থ সংশোধনী প্রত্যাহারের জন্য অনিবার্য। বহুদলীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের লগ্নে একটার পর একটা ঘটনা সেই লক্ষ্য থেকে জাতিকে বিচ্যুত করিয়াছে। সেই বিচ্যুতির ছিত্র পথেই গণতন্ত্রের দুর্বল ভিত্তির উপর বারংবার আঘাত আসিয়াছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ব্যবস্থা যদি দেশে কায়েম থাকিত তবে এই ট্র্যাজেডির হাত হইতে জাতি রক্ষা পাইত। ৭৫ সাল হইতে আজ অবধি একটির পর একটি অভ্যুস্থান প্রচেষ্টার মধ্য দিয়া সেনাবাহনীর প্রতিভাবান অফিসারদের আমরা হারাইয়াছি।
    দেশ আজ এক ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত। আমরা এই পত্রিকার মারফত বারংবার একটা কথাই বলিয়া আসিয়াছি যে, বিদেশী ষড়যন্ত্রের কালো ছায়া বাংলাদেশের ্পর কখনই অপসারিত হয় নাই। সম্প্রসারণবাদী ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল রাখিয়া নিজেদের প্রভাব এ অঞ্চলে বিস্তারের জন্য লালায়িত। দক্ষিন তালপট্টি দ্বীপ লইয়া যখন দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ আর আন্দোলন চলিতেছিল, করুণাপ্রার্থী জাতী হিসাবে আমাদের নতজানু রাখিতে উদ্যত, তখনই একটি সেনানিবাসের বিদ্রোহ ও প্রেসিডেন্টকে হত্যার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখিতে পারি না।
    দেশ ও জাতির সামনে আর অগ্নিপরীক্ষা। এজন্য আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তি জনগণের মধ্যে আরও প্রসারিত করিতে হইবে। সংসদীয় গণতন্ত্র ছাড়া ইহার জন্য দ্বিতীয় কোন পথ নাই। আপন বাকচাতুর্যে কেহ নিজেই মুগ্ধ হইতে পারে, কিন্তু উহা জাতিকে বিপর্যয় হইতে রক্ষা করিতে পারে না। প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির ক্ষমতা একহাতে কেন্দ্রীভূত। সুতরাং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ও হিংসার ছোবল সহজেই বিপর্যয় ঘটাইয়া শুন্যতা সৃষ্টি করিতে পারে এবং অবস্থার সুযোগ সন্ধানীরা জনগণের পরিবর্তে বন্দুকের নলকেই ক্ষমতার উৎস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করিতে অগ্রসর হয়। ইতিহাসের এই শিক্ষকাকে কেহই অস্বীকার করিতে পারিবেন না।