বিপর্যয়ের মোকাবিলায় জনগণের সার্বভৌমত্বই একমাত্র গ্যারাণ্টি

ফন্ট সাইজ:

শুক্রবার, ২রা এপ্রিল ’৮২-অলি আহাদ
    বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার কাউন্সিল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন গত ৩০ শে মার্চ এক বিবৃতিতে বলিয়াছেন যে, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ উভয়েরই গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষার ব্যর্থতার ফলেই দেশে এক গুরুতর সঙ্কষ্ট দেখা দিয়াছে। খন্দকার মাহবুব হোসেন সাহেবের বক্তব্যে গত ৩৫ বৎসরের ইতহাস প্রতিভাত হইয়া পড়ে। যে ইতিহাস রাজনীতিকদের দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারে মসীলিপ্ত পাকিস্তান সৃষ্টির পর মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাহারা ক্ষমতায় থাকাকালে কোন বাড়ীঘর করেন নাই কিন্তু ’৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের আগে পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে যে তিনজন মূখ্যমন্ত্রী হইয়াছিলেন জনাব নূরুল আমীন, জনাব আবু হোসেন সরকার, জনাব আতাউর রহমান খান- তাঁহারা তিনজনই মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে ঢাকা শহরে বাড়ী তৈরী করিয়াছেন। তাহাদের তিন জনেরই বাড়ী মীরপুর রোডের ৪ নম্বর হইতে ৭ নম্বর রোডে। আর কি করিয়াছেন তাহা তাঁহারাই বিলক্ষণ জানেন। এই একই ট্র্যাডিশনে মন্ত্রী মেম্বার হওয়ার পর বাড়ী গাড়ী করার ইতিহাসই গত ৩৫ বছরের ইতিহাস- সম্মানজনক ব্যতিক্রম ব্যতিরেখে। এই দুর্নীতির কারণেই পাকিস্তানে গণতন্ত্র অপমৃত্যু বরণ করে। ’৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করিয়া ক্ষমতায় আসিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করিয়া মন্ত্রীসভায় দুর্নীতিবাজদের স্থান দিয়ার্ছিলেন। তাহার মার্শাল ল’ তে সাজাপ্রাপ্ত আবদুস সবুর খান আবার পরবর্তীকালে তাঁহারই মন্ত্রী ও লিডার অব হাউস হন। বাংলাদেশ হওয়ার পর শেখ মুজিব, জিয়া, সাত্তার সাহেবের সরকারেও দুর্নীতির একই ট্রাডিশন অব্যাহত গতিতে চলিয়াছে।
    ’৪৭ সালে এই উপমহাদেশে পাকিস্তান ও ভারত দুইটি রাষ্ট্রের অভ্যূদয় ঘটে। পাকিস্তানে মন্ত্রী-মেম্বাররা দুর্নীতির পক্ষে নিমজ্জিত হয় আর ভারতে মহাত্মা গান্ধীর কথা নাই বা তুলিলাম পণ্ডিত নেহরু, ডঃ রাধাকাঞ্চন, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ, গুলজারলালনন্দ, জয়প্রকাশ নারায়ণএর মত রাজনীতিকদের নির্মল চরিত্র এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ ও আস্থার জন্ম দিয়াছে, ফলে ভারতে গণতন্ত্র তথা জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষা ভিত্তিক জাতি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আজও টিকিয়া রহিয়াছে। আর পাকিস্তান ও বাংলাদেশে কখনও গাইডেড ডেমোক্রেসি, কণ্ট্রোলও ডেমোক্রেসি আর কখনও বেসিক ডেমোক্রেসি, একনায়ক বাকশাল শাসক কিংবা সামরিক শাসন চলিয়াছে। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের ভূষণ ত্যাগ আর দৃঢ়  চরিত্র আর আমাদের রাজনীতিকদের হইতেছে দুর্নীতি, চরিত্রভ্রষ্টতা আর আত্মস্বার্থ চরিতার্থকরণ। দেশপ্রেম নয়, আত্মপ্রেম। দেশ সেবা নয় আত্মসেবা।
    তাই জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার নীতি আজও প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল ওয়াহাবের এক সাম্প্রতিক মন্তব্য হইতেছে, “সাংবাদিকতা রাহুর প্রেম।” প্রকৃতপক্ষে “দেশপ্রেমই রাহুর প্রেম”। দেশ কেবল নেয়, দেয় না কিছু। দুঃখ, আমাদের রাজনীতিবিদরা এই পাঠ পান নাই। শেখ মুজিব ক্ষমতায় আসিয়াছে। আসিয়াছে জিয়া সাহেব আর সাত্তার সাহেব। ক্ষমতার হাত বদল হইয়াছে। কিন্তু জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সংসদীয় গণতন্ত্র অর্থাৎ মন্ত্রীসভার মূল্য ভূমিকাকে কেহই স্বীকার করেন নাই।
    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ মুজিব যে একদলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া স্বৈরাচারীর শাসনের পথ গ্রহণ করিয়াছিলেন- ইহার বিরুদ্ধে সেদিন যে সূর্যসৈনিকরা সাহসের সাথে মোকাবেলা করিয়াছিলেন, তাহারা ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা কোন উচ্চাভিলাষের বশবর্তী হইয়া উহা করেন নাই। তাহাদের লক্ষ্য ছিল অপহৃত গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরাইয়া দিয়া জনগণের সার্বভৌমত্ব কায়েম। ১৫ই আগষ্টের ওই দিনটিকে স্মরণীয় দিবস হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান এবং দেশে দেশে কার্যতঃ নির্বাসিত জীবন যাপনকারী কর্ণেল রশীদ, কর্ণেল ফারুক ইত্যাদি বীর সন্তানদের দেশে ফিরাইয়া আনাই হইবে ইতিহাসের প্রতি বিশ্বস্ততার প্রমাণ।
    প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক দুর্নীতির উচ্ছেদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্র“তি ঘোষণা করিয়াছেন। আমরা আশা করিব পূর্ববর্তী সরকারগুলির ব্যর্থতা ও অবিধৃষ্যকারিতা সম্মুখপানে চলিবার পথনির্দেশত হইবে।
    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ কার্যতঃ দেউলিয়া। আমাদের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন পর্যাপ্ত পানি সম্পদ। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করিবার জন্য ভারত পানির ন্যায্য হিস্যা হইতে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করিতেছে। ফারাক্কা বাঁধের মরণ ছোবলকে ঠেকাইবার একমাত্র বিকল্প গঙ্গা বাঁধ। সেই গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করিয়া ফারাক্কা সৃষ্ট পানি সংকট হইতে দেশকে রক্ষা করিতে হইবে।
    অর্থ ও সম্পদের প্রয়োজন। উহা সংগ্রহ করার জন্য পররাষ্ট্রনীতি ক্ষেত্রে আরও বেশী স্বাধীন উদ্যোগ গ্রহণ করা দরবার  (Aggressive foreign policy) । তিস্তা নদীতেও বাঁধ নির্মাণের দিকে নজর দিতে হইবে। গঙ্গা -ব্রহ্মপুত্র সংযোগ খাল খননের জন্য ভারত বিশ্বব্যাংকে রাজী করাইয়াছে। বিশ্বব্যাঙ্কের মারফত বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখিয়া ভারত স্বকার্য সাধন করিতে চায়। ইহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট নীতি সরকারকে গ্রহণ করিতে হইবে। ইহার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ড্রেজিং এর কাজ পূর্ণোদ্যমে চালাইয়া যাইতে হইবে।
    শিল্পক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জাতীয়করণের শ্লোগানের আড়ালে দুর্নীতি আর লুটপাট চলিয়াছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে লোকসান আজ পাহাড় প্রমাণ। বেসরকারী উদ্যোগকে পঙ্গু করিয়া আমলা-পরিচালিত এবং রাজনৈতিক টাউটদের একচেটিয়া লুণ্ঠনের জমিদারী হইল জাতীয়করণ ব্যবস্থা। জাতীয়করণ ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করিয়া বেসরকারী খাতকে সুুস্থ্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিকাশের ব্যবস্থা ও বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও বাজারদরের নৈরাজ্য হইতে দেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। এবং তাহা করিতেই হইবে। এভাবেই দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বেসরকারী উদ্যোগ উৎসাহিত করিতে হইবে। অর্থনৈতিক জোরদার করার স্বার্থে কুটির শিল্পের প্রসার এবং উহার সহায়ক শিল্প কারখানা গড়িয়া তুলিতে হইবে।
    বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিশ্চিত সরবরাহের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। বিদ্যুৎ নীতির ক্ষেত্রে সুষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ ও কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করিতে হইবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতীয় মদদপ্রাপ্ত দু®কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার মূলে রহিয়াছে ভারত তোষণনীতি।
    ইহারই পাশাপাশি ঋণ তদন্ত কমিশন গঠন করিয়া প্রদত্ত ঋণের অপব্যবহার এবং শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে উহার ব্যবহার সুনিশ্চিত করিতে হইবে।
    মেধার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা এবং বৃত্তিশিক্ষার ওপর জোর দিলে বিশ্ব বিদ্যালয়ে শুুধু ডিগ্রী অর্জনের মোহে ভীড় জমাইবার প্রবণতার হ্রাস পাইবে।
    আমাদের সমস্ত সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হইল জনসংখ্যা বিস্ফোরণ। জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সমস্যাকে সর্বাপেক্ষা প্রধান শত্র“ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া অগ্রসর হইতে হইবে। অতীতে এই ক্ষেত্রে কথা এবং প্রচার ছাড়া কাজ খুব বেশী দূর অগ্রসর হয় নাই।
    কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং একটি ক্ষুদ্র দেশের উন্নতি সাধনের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ভয়াবহ বৃদ্ধি যে সর্বাপেক্ষ বড় বাঁধা ইহা সকলেই স্বীকার করেন। তবুও এযাবৎ কার্যক্ষেত্রে ব্যর্থতা কেন উহার জবাব অবশ্যই খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে।
    পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আরও গতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির সহিত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করিয়াই পরাশক্তির দ্বন্দ্বে দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হইবার সম্ভাবনা হইতে আমরা দূরে থাকিতে পারি। মুসলিম বিশ্বের সহিত আমাদের সম্পর্ক যতটা ঘনিষ্ট হওয়ার দরকার, আদৌ ততা হয় নাই।
    বর্তমান সরকার অতীতে সরকারের অজিয়ান আস্তাবল পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়াছেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব হইতে শুরু হইয়া এখন আইন-শৃঙ্খলা কাঠামো সম্পূর্ণ ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে। আজ সেখানে প্রচণ্ড আঘাত সরকারকে হানিতে হইবে। কিন্তু পিছন হইতে রশি টানিবার লোকের অভাব কখনও হয় নাই। এই ব্যাপারে সতর্ক থাকিয়া রাজনীতিক দলমত নির্বিশেষে কোনরূপ দুর্বলতা না দেখাইয়া দু®কৃতকারী ও অপরাধীদের দমন করিতে হইবে। রাজনীতিতে গুণ্ডামি ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ গত কয়েক বছর ধরিয়া অপ্রতিহত বেগে চলিয়াছে। উহার জন্য শুধু কঠোর আইন ও শাস্তি বিধানই যথেষ্ট নয়। এজন্য সর্বদা জাগ্রত ও সতর্ক থাকিতে হয়। আর এখানেই আসে জনগণের সহযোগিতা অর্জনের প্রশ্ন। নতুবা আইনের যন্ত্রটা একই খাতে আবর্তিত হইতে হইতে ভোঁতা হইয়া যায়। নতুন ছন্মবেশে সেখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ভীড় জমায়, বিশেষভাবে স্তাবকদল আসিয়া ক্ষমতার চতুস্পার্শে জড়ো হইয়া উহাকে অন্ধ শক্তির হাতিয়ারে পরিণত করে। সাত্তার সাহেবের গত কয়েক মাসের শাসনামলের ঘটনা ইহার প্রমাণ। আবার যেন না দেখা যায় যে, শ্রমিকরাজ, শোষিতের গণতন্ত্র ইত্যাদি শ্লোগান দয়া পূর্বের মত আবার কেহ যেন না ভিড়িয়া পড়েন। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়া নিজস্ব গণ গঠন করিয়া সকল মতবাদের স্রোতধারা বাহিত আবর্জনাকে ঠাঁই দিয়াছেন। আজ উহা সমগ্র জাতির চরিত্র কলুষিত করিতে উদ্যত। সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতি ক্যান্সারের মত ছড়াইয়া পড়িয়াছে। এক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অস্ত্রোপচারের দিকে ব্যাধিগ্রস্ত সমাজদেহকে আগাইয়া দিয়াছে। এ ধরনের চিকিৎসার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকে। সেই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেন চিকিং সার সুফলকে গ্রাস করিতে না পারে, উহার নিশ্চয়তা বিধান করিতে হইবে।
    এই নিশ্চয়তা বিধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে পুনঃ প্রত্যাবর্তন। শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষতার স্পর্ধায় গণতন্ত্রকে হত্যা করিয়াছে। পরবর্তী সরকারসমূহের সব সাধনা তাহাকে পুনরুজ্জীবিত করিতে পারে নাই। কারণ গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সেদিন যাহারা ঝুঁকি গ্রহণ করিয়াছিলেন, আজ তাহারা দেশান্তরী জীবনের দুর্ভাগ্য বহিয়া বেড়াইতেছেন।
    তাই এই মুহুর্তে জনগণের নিকট তাহার রক্তমূল্যে কেনা সার্বভৌমত্ব ফিরানোর দাবীতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে। সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যতীত হত্যার রাজনীতি, ক্ষমতা দখলের চক্রান্তের রাজনীতির অবসান ঘটিতে পারে না। এই মূহুর্তেই সরকারকে নতুন নির্বাচনের কর্মসূচী ঘোষণা করিতে হইবে।
    নতুবা ক্ষমতাকে যাহারা কুক্ষিগত করিতে চাহেন উহারা পশ্চাত দিক হইতে কলকাঠি নাড়িতে থাকিবেন। গত ছয় বৎসর ইহার তিক্ত অভিজ্ঞতা জনগণ অর্জ করয়াছে একাধিক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চক্রান্ত এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়া। অতীতের ব্যর্থতা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিয়া ক্ষমতায় থাকার অভ্যস্ত পথ পরিহার এবং জনগণের সহযোগিতার জন্য তাহাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী গ্রহণের কাজটি বিলম্বিত হইলে পরাজিত ও ধিককৃত শক্তি মিত্রের ছদ্মবেশে নতুন চক্রান্তের জাল বুনিবে। অর্থনীতিতথা সমাজের প্রতি স্তরে কঠোর কৃচ্ছতা   (Austerity) অবলম্বন করিতে হইবে। অপব্যয়, বিলাসিতা পরিহার করিতে হইবে। অতদ্ব্যতীত দেশকে বাঁচাইবার অন্য কোন উপায় নাই। আমরা সরকারকে পুনরায় স্মরণ করাইয়া দিতে চাই যে, রাজনৈতিক শুন্যতা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করিয়াছে, উহা দূর না করিলে স্থায়ী আরোগ্যের বিধান কোন গৃহীত চিকিৎসায় সম্ভব নয়। রোগের পরিবর্তে তার উপসর্গের চিকিৎসা সাময়িক স্বস্তি আনিতে পারে, স্বাস্থ্য ও নিরোগ দেহের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। রাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও এই সত্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের গত দশ বছরের রাজনীতির শিক্ষাও তাহাই। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় তাই জনগণের সহযোগিতা দরকার। জনগণের সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা বিধান করিয়াই এই সহযোগিতা লাভ সম্ভব। ইহার কোন বিকল্প নাই।