না আক্রোশ না কূর্ণিশ

ফন্ট সাইজ:

শুক্রবার, ৭ই মে ’৮২-অলি আহাদ


    ইত্তেহাদ সাংবাদিকতার ভূমিকা পালন করে, না আক্রোশ চরিতার্থ করার জন্য, না কুর্ণিশ করিবার জন্য। আমাদের আদর্শ নির্জলা সত্য বলা-নির্জলা সত্য প্রতিষ্ঠা। দেশপ্রেম, বস্তুনিষ্ঠ সত্য, নীতি, আদর্শই আমাদের মূলমন্ত্র। দেশের মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থের নিরিখেই আমাদের সাংবাদিকতা।
    মত প্রকাশের অধিকার এবং এক কথায় চিন্তার স্বাধীনতা ও বাকস্বাবীনেতা জনগণ ভোগ করে কিনা উহার প্রকুষ্ট প্রকাণ হইল একটি দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রহিয়াছে কিনা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিরিখেই সরকারের চরিত্র গণতান্ত্রিক না স্বৈরতান্ত্রিক উহাও মূল্যায়ন করা হইয়া থাকে।
    দেশের শাসনতন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যখন শাসক শ্রেণী জনগণের আস্থাভাজন না হইয়া তাহাদের ভালমন্দের অভিভাবক সাজিয়া ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ তখনই দেখা গিয়াছে একটি দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নানা ছলে ও অজুহাতে দমন করা হইয়াছে। কখনও ক্ষমতামত্ত একনায়কত্ব সেই ছলনার আড়ালটুকুও নিজ হাতে খসাইয়া দিয়া থাকে।
    পাকিস্তানে ২৫ বছরে বার বার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর হামলা করা হইয়াছে। সরকারী তথ্যবিবরণী পুরো ছাপিতে হইবে-এরকম উদ্ভট দাবী ছাড়াও কোন খবর প্রকাশের ব্যাপারে সরকারী নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশটিও ছাপান যাইবে না। ঢাকার বুকে আইয়ূব সরকারের তাণ্ডবে যখন রাজপথে গুলীতে লোক হতাহত হইয়াছে, সেখানে শুধু সরকারী ভাষ্য ছাড়া অপর কিছু প্রকাশ করা যাইবে না-এই নির্দেশের খবরটি প্রকাশ করিতে না দিয়া ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কণ্ঠস্বরের টুটি চাপিয়া ধরিয়াছিলেন। জেনারেল ইয়াহিয়াও সামরিক শাসন জারী করিয়া একই পথ ধরিয়াছিলেন। ইহার ফলে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এক শ্রেণীর দালাল সৃষ্টির পথ এইভাবেই উন্মুক্ত হয়। এই স্তাবক দল সরকার ও জনগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। আড়াল করিয়া রাখে দেশের প্রকৃত অবস্থা। জনগণের অসন্তোষের খবর সরকারের কানে পৌঁছিবার পথ বন্ধ করিয়া তাহাকে দেশের মধ্যে বহু পল্লবিত করিয়া তোলে। আখেরে যে ইহার ফল বিষময় হইয়াছে, উহা পাকিস্তানের তৎকালীন দুইজন জবরদস্ত জেনারেল একবারও ভাবিয়া দেখেন নাই।
    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শুধু জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে নিশ্চিত করে না। দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সংবাদপত্র অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা পরমতম সহিষ্ণুতার মনোভাব প্রসারে সাহায্য করিয়া থাকে। এই মূল্যবোধসমূহ জাতীয় চরিত্রের গভীরে শিকড় গাড়িয়া সহজাত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। অন্যদিকে সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ রচনা করিয়া থাকে।
    যে সরকার বিরোধী মত ও চিন্তাধারা দমন করিয়া দেশের মধ্যের অসন্তোষ দূর করিবার ভ্রান্ত ধারণাকে আঁকড়াইয়া ধরে এবং দমননীতির মাধ্যমে অনুগত্য আদায় করে, সেই সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে সহ্য করিতে পারে না।
    পাকিস্তানের সামরিক জান্তার প্রধান প্রেসিডেণ্ড জিয়াউল হক তাহার পূর্বসূরীদের পথ ধরিয়া পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বারংবার নির্মমভাবে দলন করিয়াছেন। খ্যাতনামা সাংবাদিক সালামত আলীকে গ্রেফতার করিয়াছেন এবং বহু সাংবাদককে সরকার চোখে “আপত্তিকর” সংবাদ প্রকাশের জন্য সামরিক আইনে বেত্রদন্ড দিয়াছেন। এখানেই শেষ নয়। তিনি হুককি দিয়াছেন পত্রিকা বন্ধ করিয়া দিবেন আর ইহার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করিলে গ্রেপ্তার করিবেন।
    ইন্দিরা গান্ধী ভারতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করিয়া সাংবাদিকদের জেলে পুরিয়াছেন। সরকার বিরোধী একটি সংবাদপত্রের অফিসে সারারাত একবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করিয়া রাখিয়াছিল। নতজানু সাংবাদিক সৃষ্টি করার স্বার্থে দেখা গেল বিভিন্ন সংবাদপত্রে রাতারাতি খ্যাতনামা সাংবাদিকদের অপসারণ অথবা বরখাস্ত হইতেছে। সৃষ্ট হইয়াছে ইন্দিরা স্তাবককারী এক শ্রেণীর সাংবাদিক-যারা রাজপথে হত্যা, পুলিশের নির্যাতন, জেল-জুলুম এবং গুলীবর্ষণের কথা বেমালুম চাপিয়া রাখিয়াছিল। সেই যুগে দিল্লীর শাসনকে একজন পশ্চিম বঙ্গীয় বুদ্ধিজীবি ব্যঙ্গ করে গাইবাছুরের যুগ বলিয়াছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দলন কোন পর্যায়ে গেলে একজন বুদ্ধিজীবী এই কঠোর ও তীক্ষ্ম মন্তব্য করিতে পারেন ভারতে জরুরী অবস্থাকালে সঞ্জয়-ইন্দিরার কুশাসন সম্পর্কে!
    শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করিয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের ব্যাপারে সকলের উপর টেক্কা দিয়াছেন। কোন আইন ভঙ্গ কিংবা সরকার বিরোধী ভূমিকার অভিযোগে নয়, স্রেফ আপন খুশীতে এবং কদমবুসী সাংবাদিকতার আদর্শ সৃষ্টির অপ-উল্লাসে সারাদেশে মাত্র ৪টি দৈনিক পত্রিকা সরকারী নিয়ন্ত্রণে রাখিয়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করিয়া দিলেন। ইহার ফলে মুজিব বিরোধিতার কণ্ঠ প্রকাশ্যে স্তব্ধ করা গিয়াছিল সত্য, কিন্তু উহাতে তাহার মঙ্গল হয় নাই-হইতে পারে না। দেশের মানুষকে অপরিচিতের গণ্ডিতে ঠেলিয়া দিয়া শাসকরা যখনই নিরাপত্তার বেষ্টনী রচনা করেন, উহাই তাহার কাল হইয়া দাঁড়ায়। বৃটিশ শাসনামলে এণ্ডারসনী যুগে ভারতে সংবাদপত্রের উপর সেন্সরশীপ আরোপের প্রসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁহার স্বাভাবসিদ্ধ উপমাবহুল ভাষায় উহার কুফল বর্ণনা করিয়াছিলেন। তিনি যাহা বলিয়াছিলেন, উহার সারকথা এই যে, রাজদ্বারের প্রহরী নাও জাগিতে পারে, কিন্তু প্রবেশকারীর অঙ্গের বিচিত্র আভরণের ঝঙ্কার তাহার সুখসুপ্তিতে অবশ্যই আঘাত হানিবে। তাহার নিদ্রা টুটিয়া যাইবে। রবীন্দ্রনাথ সংবাদপত্রে জনমতের প্রতিধ্বনি সরকারকে আসন্ন অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করে বলিয়া মন্তব্য করিয়াছিলেন।
    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ এই উপমহাদেশের স্বেচ্ছাচারী শাসকদের স্বভাবে পরিণত হইয়াছে। নেপালে ২৮টি পত্রিকা বন্ধ করিয়া দেওয়ার ব্যাপারে নোটিশ জারী করিয়াছে। সরকারী নীতির সমালোচনা করা অপরাধ। অথচ জাতিসংঘ সনদের মৌলিক মানবাধিকারে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হইয়াছে। আজ দেশে দেশে একনায়কত্ববাদী সরকার সংবাদপত্রকে সরকারের আজ্ঞাবহ করিয়া তুলিয়াছে। কিন্তু মানুষের চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা খর্বকারী কোন স্বৈরশাসক কিংবা একনায়ককে শেষ পর্যন্ত ইহার জন্য মূল্য দিতে হইয়াছে। আজ দেশে দেশে একনায়কত্ববাদী সরকার সংবাদপত্রকে সরকারের আজ্ঞাবহ করিয়া তুলিয়াছে। কিন্তু মানুষের চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা খর্বকারী কোন স্বৈরশাসক কিংবা একনায়ককে শেষ পর্যন্ত ইহার জন্য মূল্য দিতে হইয়াছে। নিকারাগুয়ার সমোজার পতন হইয়াছে। সংবাদপত্র দলন, জেল-জরিমানা ছিল সমোজার শাসন আমলের স্বাভাবিক ঘটনা। লা প্রেন্সা সম্পাদক পেড্রো জেরুকুইন তাঁহারই চক্রান্তে আততায়ীর গুলীতে নিহত হইয়াছিলেন। কিন্তু নির্যাতনের পথে সত্য ভাষণকে স্তব্ধ করিয়া সমোজা ক্ষমতাকে স্থায়ী করিতে পারে নাই। পোল্যাণ্ডে জেরুজালেস্কী সরকার সাংবাদিকদের আনুগত্য ঘোষণার নির্দেশ দিয়াছেন। ৯ হাজার সাংবাদিকের শতকরা ১৫ জন এই নির্দেশ মানিতে অস্বীকৃতি জানাইয়া চাকুরী হারাইয়াছেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ূবের সামরিক শাসনের যুগে ইত্তেফাজ সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞাকে জেলে নিক্ষেপ করা হইয়াছিল। উত্তেফাক পত্রিকা বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়। কিন্তু আজ ইত্তেফাক টিকিয়া আছে। মানিক মিঞার নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়; কিন্তু আইয়ূব নাই, ইতিহাসে তিনি অবলুপ্ত। ইহাই ইতিহাস।
    দুঃখের বিষয়, আমাদের সামনে এই দৃষ্ঠান্ত থাকতেও শাসকদের চেতনা হয় না। জিয়ার আমলে সরকারী তথ্য দফতরে পেলিফোনে নির্দেশ দানের পরও তাহারই মন্ত্রিসভা উচ্চকণ্ঠে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেশে আছে বলিয়াছেন, বলিয়াছেন সরকারী হ্যাণ্ড আউট পত্রিকায় দেখিতে ক্লান্ত হইয়া গিয়াছি। যে ট্রাডিশন শেখ মুজিব সৃষ্ট করিয়া গিয়াছেন বাংলাদেশ স্বাধীন হইবার পর সেই সরকারের নিন্দাবাদ সত্ত্বেও জিয়ার আমলে সে সরকার শেখেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়াছে। শেখের আমলে তাহার সাংবিধানিক মন্ত্রীই মফঃস্বলে নিজেদের সৃষ্ট সন্ত্রাসের খবর বিকৃতভাবে পরিবেশনের জন্য চাপ দিয়াছেন।
    আইয়ুব-ইয়াহিয়া আমলে যে বংশবদ সাংবাধিক সৃষ্টির ধারা বাহিয়া শেখ মুজিবের কদমবুসী সাংবাদিকতাকে আমরা প্রত্যক্ষ করিয়াছ-জিয়ার আমলে ঢাকার রাস্তায় গাছ-কাটার খবর ছাপানো প্রথম দিকে নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল নিরাপত্তার দোহাই দিয়া। অপরদিকে ঘটা করিয়া বৃক্ষরোপণ উৎসবের ছবি গিয়াছে পত্রিকার পাতায়।
    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লইয়া বিতর্কের অবকাশ নাই। যাহা দেখিব তাহাই লিখিব ধরনের সরলীকরণ শ্লোগান যাহারা দিয়াছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলিয়া, তাহারা সরকারী মতের প্রতিধ্বনি করা ছাড়া জিয়ার আমলে এক পা-এর বেশী অগ্রসর হয় নাই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ক্ষমতার স্তাবকতায় পরিণত করা হইয়াছে। স্বাধীন সংবাদপত্রের দায়িত্ব সম্পর্কে দি নিউইয়র্ক টাইমস্ এবং দি ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকায় ভিয়েতনাম যুদ্ধ সম্পর্কে পেণ্টাগণের সমীক্ষার ভিত্তিতে নিষিদ্ধ-দলিলপত্র প্রকাশের যৌক্তিকতা সম্পর্কে মার্কিন সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বলা লইয়াছে ঃ
    “একমাত্র স্বাধীন এবং বাধামুক্ত সংবাদপত্র কার্যকরভাবে সরকারের বঞ্চনা উন্মোচন করিতে পারে। এবং স্বাধীন সংবাদপত্রের দায়িত্বরাজির মধ্যে সর্বাপেক্ষ প্রধান কর্তব্য হইল সরকারের যে কোন বিভাগকে সনসাধারণকে প্রবঞ্চনা করা হইতে বিরত রাখা।”
    (দি নিউইয়র্ক টাইমস এর পক্ষে বিচারপতি হুগো এল, ব্লাক-এর সুপ্রীম কোর্টে প্রদত্ত ঐতিহাসিক রায়ের একাংশ)
    সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূুমিকা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হইল অবিকৃত তথ্য প্রকাশ। চাঞ্চল্যকর কিংবা মুখরোচক দায়িত্বহীন জনরঞ্জিনী খবর প্রকাশে সাপ্তাহিক ‘ইত্তেহাদ’ বিশ্বাস করে না। ইত্তেহাদ পত্রিকা সংবাদপত্র জগতে এক সুমহান ঐতিহ্যের বাহক। গণতন্ত্রের মানসপুত্র মরহুম শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলিকাতার ইত্তেহাদ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বহু উত্থান-পতন-বন্ধুর পথ ধরিয়া কখনও বা প্রতিকূল ভাগ্য ইহার প্রকাশ বিঘিœত করিয়াছে। কিন্তু ইত্তেহাদ আদর্শচ্যুত হয় নাই। যাহা সত্য বলিয়া জানিয়াছে, যাহাকে দেশের কল্যাণ বলিয়া মানিয়াছে উহার প্রকাশ নির্ভীকতার সহিত করিয়াছে। উত্তেজনাহীন অপ্রমাদ চিত্তে দেশের সুস্থ্য জনমত সংগঠনে ক্ষুত্র সাধ্য লইয়া স্বীয় ভূমিকা পালন করিয়াছে। লোভ, লোকনিন্দা, প্রবলের প্রতাপের ভ্রুকুটি তাহাকে সত্য পথ হইতে টলাইতে পারে নাই।
    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গ্যারান্টি ছাড়া জনমত ও জনস্বার্থের কথাগুলি অন্তঃসারশুন্য ফাঁপা শব্দের বুদ্ বুদ।
    একটা বিশেষ পরিস্থিতি এবং কার্যকারণহেতু দেশে আজ সামরিক আইন জারী করা হইয়াছে। ’৭২ সালের সংবিধান স্থগিত রাখা হইয়াছে। আমরা পরিস্থিতির আলোকে এই প্রসঙ্গে এই কথাটা জোরের সঙ্গে এবং বিশ্বাসনুযায়ী বলিতে চাই, দেশের আইন মানা একজন নাগরিকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। সংবিধান স্থগিত রাখা হইয়াছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের শূন্যতা যাহাতে দেখা না দেয়া উহার জন্য বরং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এই মুহূর্তে আরও বেশী প্রয়োজন। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক সামরিক শাসন বিধি যথাযথ মানিয়া চলিবে এই সত্য কখনই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরপন্থী হইতে পারে না। জনগণ ও সরকারের মধ্যে মতামত বিনিময়ের, পারস্পরিক সম্পর্কের চরিত্রকে যথাযথ উপস্থাপনার মধ্য দিয়াই সংবাদপত্র উহার দায়িত্ব পালন করিতে পারে। এই জন্য সংবাদপত্রকে স্বাধীন ও বাধামুক্ত হইতে হইবে। সংবাদপত্র প্রশস্তি গাঁথার দিনপঞ্জী নহে বলিয়া সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ বিশ্বাস করে। স্তাবকতার গ্লানি অতীতে কখনও ইত্তেহাদকে স্পর্শ করে নাই। অন্ধবিদ্বেষ এবং উন্মাদনার আঁধি কখনই তাহার চোখে ঘোর সৃষ্টি করিতে পারে নাই। এক বিঘœশঙ্কুল যাত্রাপথের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ বিশ্বাস করে যে, কোন পত্রিকা আইন ভঙ্গ করে কিনা তাহাই কেবল সরকারের বিচার্য, অন্য কিছু নয়।