রাজনীতি কোন “বিলাসিতা” নয় রাজনৈতিক ত্যাগ, দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাই জাতর অস্তিত্বের রক্ষাকবচ

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা, শনিবার, ১৪ই আগষ্ট, ১৯৮২ ইং -অলি আহাদ


    আগামীকাল ১৫ই আগষ্ট। ’৭৫ সালের একদলীয় বাকশালী স্বৈরশাসনের বিরদ্ধে সেনাবাহিনীর অমিততেজী সূর্যসৈনিকরা এক অভুতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রবিহীন শ্বাসরুদ্ধকর রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করেন।
    গতানুগতিক অর্থে এই পরিবর্তন কোন ক্যুদ্যেতা বা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল ছিল না। বরাং অপহৃদ অধিকার, সংবিধানের পবিত্রতা ও জাতর গণতান্ত্রিক বিবেকের কণ্ঠস্বর পুনরুজ্জীবনের সংকল্প লইয়া সেইদিন এই বিপ্লবের নায়ক সেনাবাহিনীর সূর্যসৈনিক কর্ণেল ফারুক, কর্ণেল রশীদ, কর্ণেল ডালিম, কর্ণেল পাশা, কর্ণেল শাহরিয়ার, কর্ণেল হুদা, মেজর বদিউল আলম ও বিপ্লবের অন্যান্য সৈনিকরা স্বহস্তে ক্ষমতা গ্রহণ না করিয়া নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন। তাহারা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খন্দকার মোশতাক আহমাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ন্যস্ত করিয়া ’৭২ এর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রচিত সংবিধানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বর্ণদার উন্মোচন করেন। সেই আদর্শের প্রতি অবিচল থাকয়াই খন্দকার মোশতাক আহমাদ সংবিধান ও পার্লামেন্টকে অক্ষুন্ন রাখিলেন এবং ’ ৭২ সংবিধান মোতাবেকই সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষনা করেন। সেইদিন তদানীন্তন স্থল বাহনী প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম, এইচ, খান বিমান বাহনীর প্রধান এ, কে খন্দকার বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান, পুলিশ বাহিনী প্রধান জনাব নূরুল ইসলাম ও রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিপ্লবোত্তর সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করিয়া সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রতি তাঁহাদের বিশ্বস্ততা ও কর্তব্যবোধের স্বাক্ষর রাখিয়া গিয়াছেন। তাঁহারাও সেদিন ক্ষমতা দখল করিতে পারিতেন কিন্তু তাঁহারা তাহা করেন নাই।
    জাতীয় জীবনে যখন স্বৈরাচারের দম্ভ অধিকারহীন জনতাকে এক বোবা জন্তুতে পরিণত করিয়া নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালায়, তখন এক বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারিদিকে প্রতিকুল ভাগ্যের ভ্রুকুটির মধ্যে সেইদিন যাহারা আরামের শয্যা ত্যাগ করিয়া দুঃসাহসী অভিযানে আগাইয়া আসে, সেই সংকট মুহূর্তে আত্মস্বার্থবর্জিত ১৫ই আগষ্টের দীক্ষা ক্ষমতা দখল নহে জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভোমত্বের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাবোধ এবং নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের দীপ্ত শিখার মাহাত্ম।
    এই দিনটির বৈপ্লবিক অনুপ্রেরণা কোন স্বয়ম্ভু আবর্ভাব নহে, আমাদের গত ৩৫ বৎসরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সহিত গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আগষ্ট বিপ্লবোত্তর সরকার বিপ্লবের আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার নিদর্শন হিসাবে সার্বভৌম পার্লামেন্ট নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ ২৫ বছরে পাকিস্তানের ইতিহাসে যে উচ্চাভিলাষী প্রাসাদ চক্র গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠাইয়া প্রবলের স্পর্ধাকে লালন করছে অন্ধ শক্তির গর্বে সেই ভাঙ্গন ধরানো আত্মঘাতী নীতি পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করিয়াছে। তাহারই ভগ্ন দেউলের প্রান্তচরগণ সেই উজ্জল প্রতিশ্র“তির শিখাকে ক্ষমতার ফুৎকারে নিভাইয়া দিয়াছে।
    রাজনীতিতে যাহারা আত্মনিয়োগ করেন, কিশোর ও যুব বয়সেই তাহাদের জ্বলন্ত দেশপ্রেম এই বিত্বসংকুল পথের যাত্রী করে। সুখশয্যা ছাড়িয়া দুর্গমের যাত্রীরা রাজরোষে প্রতিকুল ঝঞ্চারাতে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখায় বন্ধুর পথে অগ্রসর হন। জেল-জুলুম-ফাঁসি-নির্যাতন-বুভুক্ষা ও ভ্রুকুটি তাহাদের অভ্যর্থনা করে পদে পদে। তারপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বৈরী পরিবেশ সর্বোপরি আত্মস্বার্থ সর্বস্ব নেতৃত্বের অবিমৃষ্যকারিতায় তাহারা বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট হন কখনও কখনও। এই হতাশা, বিভ্রান্তি আর রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার জন্মদেয় রাজনৈতিক শূন্যতার। গত ৩৫ বছর রাজনৈতিক ইন্সটিটিউশন না গড়িয়া উঠার পথে এইগুলি ছিল প্রধান কারণ।
    সেই শূন্যতার মধ্যে একের পর এক সেনাপতি শাসন রাজনৈতিক অধঃপতনের ধাপগুলো আরও পিচ্ছিল করিয়া তুলিয়াছে। মুখরোচক বিপ্লবের শ্লোগান দিয়া দ্রুতবেগে তলাইয়া যাইবার ধারাটিকে উৎসাহিত করা হইয়াছে। প্রসাধনচর্চিত রাজনৈতিক চাকচিক্যের ভাঙ্গন লাগানো মন্ত্রে একনায়কত্বের জয়গাথা যত উচ্চরবে ধ্বনিত হইয়াছে। এই রাজনৈতিক ইন্সটিটিউশন গড়ার সম্ভাবনা ততবারই মরীচিকার মত তৃষ্ণাদীর্ণ দিগন্তরে মিলাইয়া গিয়াছে। একটি সুস্থ্য প্রবহমান রাজনৈতিক স্বচ্ছ ধারা হইতে জাতিকে বঞ্চিত করিয়া স্থিতিশীলতাকে জাতীয় জীবনে অলভ্য বস্তুতে পরিণত করা হইয়াছে। ’৪৭ সাল হইতে অদ্যাবধি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমাদের বিমূঢ় ভাগ্যকে বার বার পরিহাস করিয়াছে।
    অথচ ভারতে বৃটিশরাজের বিরুদ্ধে যেমন লক্ষ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মী জন্ম দিয়াছিল আন্দোলনের মধ্যে, ত্যাগের মধ্যে, প্রাণদানের কাড়াকাড়িতে, তেমনি গণতান্ত্রিক ভারতে দেশসেবার মহান ব্রতে আজও নূতন নূতন লক্ষ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মী সক্রিয়। তাই ভারত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হইতে ভ্রষ্ট হয় নাই। সেখানে কম্যুনিষ্ট রাজ্য হইতে রামরাজ্য সবকিছুরই অস্তিত্ব আছে। তাহাতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হয় নাই বরং দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর হইয়াছে। পেশাদার সরকারী চাকুরেদের ক্ষমতা দখলের চিন্তা সেখানে অভাবনীয়। সংবিধানের পবিত্রতা ভারতে লংঘন করিতে দেওয়া হয় নাই। সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্বের প্রতি এই শ্রদ্ধা ও আনুগত্য ভারতকে শুধু বৃহত্তর গণতন্ত্রের শিরোপাই আনিয়া দেয় নাই, সাথে সাথে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি, জগতের রাষ্ট্রসভায় ভারতকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা আনিয়া দিয়াছে- আনিয়াছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। মনে রাখা প্রয়োজন সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা ছাড়া আর কেহই ক্রটিমুক্ত নয়। ভুল করার মধ্য দিয়াই আমরা শিখি এবং ভবিষ্যতের পাথেয় সংগ্রহ করি।
    সরকারী চাকুরে এবং শিল্প ও ব্যবসা--বাণিজ্যে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জীবনের সার লক্ষ্য স্বাচ্ছন্দ্য, নিষ্কণ্টক জীবন ধারণ। এই পরিবেশ তাহাদের যে মানসিকতার অধিকারী করে সেখানে জনগণের কাফেলায় নেতৃত্বদানকারীর ত্যাগ, দুঃখ ও কঠন কর্মে প্রবৃত্ত হইবার দৃষ্টিভঙ্গী নহে। নির্যাতন, জেল-জুলুমের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নহে, শুধু রাষ্ট্রতরণীর কর্ণধার হিসাবে দম্ভের প্রাকারে নিজস্ব ভাবমূর্তি গড়ার বিকারগ্রস্ত নেশা তাদের আকৃষ্ট করে। রাজনীতিকদের শিক্ষার হাতেখড়ি দেশপ্রেম; সরকারী চাকুরেদের আত্মপ্রেম, ক্ষমতাপ্রেম।
    সুতরাং যখন এই চরিত্র ও মানসিকতাপুষ্ট সরকারী চাকুরে জনপ্রতিনিধিত্বকে অবজ্ঞা করিয়া সংবিধান লঙ্ঘন করিয়া শাসন ক্ষমতাকে আপন মুষ্টিপোষণে করায়ত্ত করে, তখন দেশ ও জাতি সর্বনাশের প্রান্তসীমায় আসিয়া দাঁড়ায়।
    তৃতীয় বিশ্বের ৫৬টি দেশে সামরিক শাসন সেই দেশের জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করিয়া এবং গণতন্ত্র বিসর্জনের বিনিময়ে অধিকতর নিরাপত্তাহীনতা ক্রয় করিয়াছে। সদাশংকা বাতিকগ্রস্ত শাসকদল ওইসব দেশে গদীর নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সাথে সমার্থক করিয়া চোরাবালির উপর দাঁড়াইয়া আছে। প্রসাদ চক্রান্ত আর কু'দ্যেতাই একমাত্র তাহাদের উল্লেখযোগ্য জাতীয় ঘটনা। এই ট্র্যাজিক দৃষ্টান্তকে সংবিধান লঙ্ঘনের পক্ষে দার্শনিকভাবে তথা তত্ত্বগতভাবে অবতারণা শুধু গর্হিত নয়, এক আত্মপ্রতারকের ভূমিকা গ্রহণের লক্ষণাক্রান্ত। ত্যাগ ও আত্মদানের অগ্নিপরীক্ষায় যে রাজনীতির ভিত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের পূর্বশর্ত তাহা হইতে এই তত্ত্ব শত সহস্র মাইল দূরে অবস্থান করে। রাজনীতিকরা জনতার লোক। জনতা হইতে শিক্ষা গ্রহণ এবং জনতাকে শিক্ষা প্রদানই হইতেছে রাজনীতির মৌল অবলম্বন। সুতরাং রাজনীতিবিদ নিজেকে সমালোচনার উর্দ্ধে মনে করেন না। সমালোচনার ভিন্নমত পোষণের অধিকার গণতন্ত্রের শর্ত। কিন্তু যারা জনতা হইতে উত্থিত নন, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মই বাহিয়া যারা ক্ষমতার সিংহাদ্বারে উপনীত হয় তাহারা নিজেদেরকে সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিতর্কের উর্ধে মনে করেন। এই বিকৃত মানসিকতার বশবতী হইয়াই তাহারা যে কোন বিষয়ে বিপ্লব ঘোষণা করেন, যার সাথে দেশবাসীর চাওয়া-পাওয়ার কোন সংশ্রব নাই। জনতা হইতে বিচ্যুত হইয়া তাহারা একটি পরগাছা শাসক হিসাবে জনতার উপর লাঠি ঘুরায় ফলতঃ সৃষ্টি হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা, যা নাকি অগ্রগতির অন্তরায়। আর লর্ড এ্যাক্টনের সেই বিখ্যাত উক্তি অনুযায়ী ক্ষমতা স্বভাবতই দুর্নীতিগ্রস্ত হয় আর নিরংকুশ ক্ষমতা চরমভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে এর দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি।
    আর্জেন্টিনার সেনাপতি প্রেসিডেন্ট গলতিয়ারী নিজের শুন্যগর্ভতা আর জনধিকারকে পাশ কাটাইবার জন্য কুটনীতির পথে না গিয়া বৃটেনের সাথে ফকল্যাণ্ড দ্বীপ নিয়া এক সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সেই এ্যাডভাঞ্চারের ফলে আর্জেন্টিনার ক্ষমতা হইতেই কেবল তিনি বিদায় নেন নাই আর্জেন্টিার অস্তিত্ত্বই আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্রীয় মানমর্যাদা ভুলুণ্ঠিত। একজন রাজনীতিক ও নির্বাচিত রাষ্ট্রকর্ণধার কখনও এমন আত্মঘাতী এ্যাডভাঞ্চারে লিপ্ত হইতেন না।
    আফগানিস্তানে সর্দার দাউদের অতি চালাকির ভূমিকা কেবল তাঁর পরিবার পরিজনসহ করুণ মৃত্যুই ডাকিয়া আনে নাই-একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাযজ্ঞের পরিণতিতে রশ বরকন্দাজ বাবরাক কারমাল এখন লক্ষ রুশ সৈন্যের উপস্থিতিতে কাবুলের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। এবং দেশ আজ রুশ সাম্রাজ্যবাদের অধিকৃত ও পদদলিত। একনায়ক সাদ্দাম হোসেন এ্যাডভাঞ্চার করিয়া ইরানে আগ্রাসন চালাইয়াছে ঃ কিন্তু অন্তিম পরিণতি তার পরাজয় আর জনতা হইতে উত্থিত খোমেনীর বিজয়। রাষ্ট্রশাসনের অধিকার জনপ্রতিনিধিদের। পেশাগত শ্রেণী পেশাজীবী হিসাবেই সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকিয়া সরকারের অঙ্গ হিসাবে ভূমিকা পালন করিবে। এটাই হইতেছে তাহাদের দেশপ্রেমের একমাত্র যাচাই।
    ১৫ই আগষ্টের বিপ্লবী নায়করা সাংবিধানিক পবিত্রতা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই তাদের নিঃস্বার্থ ভূমিকা পালন করিয়াছেন। রাজনীতি কোন বিলাসিতা নয়। রাজনীতি একটি কঠিনতম ও পবিত্রতম সাধনা। কঠিন সাধনা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়া এই রাজনীতি হইতেই জনতার সাচ্ছা সন্তান দেশসেবার গুণাবলীতে অভিষিক্ত হইয়া উত্থিত হয়-দেশ ও জাতযাদের কাছে মুখ্য বিবেচ্য। কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে রাজনীতির মাধ্যমেই পাকিস্তান অর্জিত হইয়াছে। রাজনীতিই আবার বাংলাদেশ হাসিল করিয়াছে। পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার ফলেই অবিভক্ত ভারতে যাহারা কেরানী হইতে পারিতেন না তাহারা উচ্চপদস্থ সামরিকবেসামরিক কর্মকর্তা বনিয়াছেন হইয়াছেন দেশের দণ্ডমণ্ডের কর্তা আন্তর্জাতিক ফোরামে আজ তাদের বিচরণ। কিন্তু এই ভাগ্যের পশ্চাতে রহিয়াছে অগণিত রাজনৈতিক কাফেলায় অংশগ্রহণ করেন না তাঁরা অবস্থান করেন জনতা হইতে দূরে বুদ্ধিবৃত্তির কৈলাসচুড়ায়। ফলতঃ রাজনীতি প্রায়শঃই অযোগ্য, দূরদৃষ্টিহীন ও দুর্নীতি বাজ ব্যক্তির হাতে সমর্পিত হইয়াছে। এই অবস্থার প্রতিকার লুক্কায়িত আছে প্রতিশ্র“তিশীল সম্ভাবনাময় যুবকদের মধ্যে। নিঃস্বার্থ প্রেরণায় যুবকরা যদি দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হইয়া আগাইয়া আসে তাহা হইলে জাতীয় জীবনে সংবিধান সঙ্ঘন ও গণতন্ত্র নিধনের যে কুজঝটিকা সঞ্চিত হইয়াছে তা অপসারণ করিয়া জনতার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এবং এর মধ্য দিয়া ১৫ই আগষ্টের অম্লান আদর্শও সার্থক রূপ পরিগ্রহ করিবে।